ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার সাভারে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (৩ মে) আইন ও বিচার বিভাগের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশটিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন যুগ্ম সচিব (রেজিস্ট্রেশন) হাসান মাহমুদুল ইসলাম এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আযিজুর রহমান। অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এবং ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’র অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি তাকে দ্রুত বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার অফিসের এক কর্মচারীকে শারীরিকভাবে আঘাত করছেন—যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশের জেরে হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনাগুলো সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত ও গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা পরীমণি। কাজের চেয়ে ব্যক্তিজীবন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতির কারণে তিনি প্রায়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে এবারের শিরোনামটি একটু স্নিগ্ধ আর প্রশান্তির। দীর্ঘ তপ্ত রোদের পর ঝুম বৃষ্টির মাতম যখন প্রকৃতিকে শীতল করেছে, সেই বৃষ্টির আনন্দে নিজেকে উজাড় করে দিলেন এই অভিনেত্রী। পরীমণি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর ঝুম বৃষ্টিতে সিক্ত পরীমণি। সাদা টিশার্টে তাকে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি উপভোগ করতে। কখনো তিনি তার গাড়ির ওপর শুয়ে বৃষ্টির স্পর্শ নিচ্ছেন, আবার কখনো বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় হারিয়ে যাচ্ছেন। পরীমণির এই ‘বৃষ্টি বিলাস’ ভক্তদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠা রোমান্টিক সুর আর বৃষ্টির শব্দ মিলে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, তার লঙ হেয়ার আর বৃষ্টির জলে ভেজা চেহারার সেই স্নিগ্ধ রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। এদিকে কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা পরীর রূপের বেশ প্রশংসা করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘বৃষ্টি মাখা পরী।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে পরীমনি আবার নতুন করে প্রেমে পরছে।’
রাজশাহী: দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষিকার সঙ্গে মারামারির ঘটনায় আলোচিত আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।” ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষিকা এবং স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যে হাতাহাতির দৃশ্য দেখা যায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি), এবং পরে তদন্ত শুরু হয়। এদিকে, একই ঘটনায় শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী কলেজে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং এক শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার সময় সংঘটিত এক সহিংস হামলার ঘটনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। কী ঘটেছিল সেদিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় কলেজে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দুপুরে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা বলছেন, তারা নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দেন এবং অধ্যক্ষের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। নারী শিক্ষকের ওপর হামলা ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর হামলা। তিনি জানান, অধ্যক্ষকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে এক হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্য করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি স্যান্ডেল খুলে শিক্ষককে মারধর করেন। পরে তাকে চুল ধরে টেনে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অধ্যক্ষকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। ‘চাঁদা না দেওয়াই মূল কারণ’ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনা আকস্মিক নয়—বরং দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির চাপের ফল। অধ্যক্ষের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে নিয়মিত অর্থ দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক আলেয়া খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, “হিসাব চাওয়ার নামে মূলত চাঁদাই দাবি করা হতো।” স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি এলাকায় ‘সামাদ দারোগা’ নামে পরিচিত—এই প্রভাববলয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তের বক্তব্য হামলায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কলেজে গিয়েছিলেন এবং তর্কের এক পর্যায়ে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ মারধর করেন। তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যতে অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা দাবি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এক নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। তবে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু নেতা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “ভুলভাবে উপস্থাপন” করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কলেজে স্বাভাবিকভাবেই প্রবেশ করেছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটে শিক্ষিকার আচরণের কারণে। তারা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার সময় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। তবুও কীভাবে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এই ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার উদাহরণ নয়—এটি স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাহীনতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়ই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে জুয়া খেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন শিক্ষা কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্যামেরা দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় জবাবদিহি ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘটনাস্থলে যা দেখা গেছে সাংবাদিকদের দাবি, গত ১৩ এপ্রিল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা নগরীর একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি লম্বা টেবিল ঘিরে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখেন। প্রত্যেকের সামনে তাস, নগদ টাকা (প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার নোট), মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ রাখা ছিল। ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, ক্যামেরা দেখতে পেয়ে উপস্থিত কয়েকজন দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচিত হেলালও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এম এ আবুল খায়ের নিজেকে আড়াল করতে পাশের একটি বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনার পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। অভিযুক্তদের অবস্থান হেলাল নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তিনি জুয়া খেলতে যাননি; বরং “পাওনা টাকা আনতে” সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি বর্তমানে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তিনি নিজেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, এম এ আবুল খায়ের বর্তমানে ঝালকাঠির নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ওসি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ থাকার কথাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। বৃহত্তর প্রশ্ন: আইনরক্ষকের ভূমিকা ঘটনাটি সামনে আসার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি আইন ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে, তবে তা কতটা গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং জনসাধারণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আইন ও আস্থার প্রশ্ন বিশ্লেষকরা বলছেন, জুয়াসহ নানা অপরাধ দমন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তবে তা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তদন্তের দাবি ভিডিও প্রমাণ থাকার দাবি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে কি না এবং হলে তা কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাগেরহাটের খানজাহান (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু: জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল বলে জানাল তদন্ত কমিটি, ‘টোপ হিসেবে ব্যবহারের’ অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি । বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা নানা অভিযোগের সত্যতা পায়নি জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে পানিতে নিয়ে যায় একটি কুমির। ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া এবং টোপ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে যায় এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ঠেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রমাণ বিশ্লেষণে কুকুরটিকে ইচ্ছা করে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে যায় এবং প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।” তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কুকুরটি একাধিক ব্যক্তিকে কামড় দিয়েছিল। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ আক্রান্ত কয়েকজন ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন বলে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে ১১ এপ্রিল প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় এবং নমুনা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল-এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, “যাদের কুকুরটি কামড় দিয়েছে, তারা টিকা নিয়েছেন। তাই তাদের ঝুঁকি কম। তবে টিকা না নিলে ঝুঁকি থাকতে পারত।” তিনি যোগ করেন, কুমিরের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ এটি হিংস্র প্রাণী এবং এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তার ক্ষেত্রে কার্যত নেই।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দরবারের প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দরবারের আরও তিন ভক্ত—মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ আছর স্থানীয় কবরস্থানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখনো মামলা হয়নি ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের বড়ভাই ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, পারিবারিক আলোচনা শেষে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। হামলার কারণ কী? স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালায়। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ নিহতের পরিবার ও অনুসারীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হামলা। পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে উত্তেজনা তৈরি করা হয় এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। আগের বিতর্ক জানা যায়, ২০১৮ সালে নিজ বাড়িতে দরবার প্রতিষ্ঠা করেন শামীম রেজা। ২০২১ সালে একটি শিশুর লাশ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দাফনের ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছিল এবং তিনি কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান। প্রশাসনের বক্তব্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও জনতার তুলনায় সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বাগেরহাট : বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের শিকার হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও কুকুরটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে ফেলা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী, মাজারের খাদেম ও নিরাপত্তাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয় এবং লাঠি ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে কুকুরটি দৌড়ে প্রধান ঘাটে চলে যায়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার কুকুরটিকে তাড়াতে গেলে সেটি তার পায়ে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। এ সময় ঘাটের পানির নিচে থাকা একটি কুমির মুহূর্তেই কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে এবং সেটি পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটির কামড়ে অন্তত ৭-৮ জন আহত হয়েছেন এবং তারা বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কুকুরটিকে বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা হলেও তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিডিওতে কুকুরটিকে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়নি, তবে সেটি দুর্বল ছিল এবং পানির বাইরে উঠতে পারছিল না। মাজারের খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে মাত্র একটি কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে ছাড়া হয়েছিল। ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” এরই মধ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে আব্দুর রহমান শামীম রেজা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘কালান্দার বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন। শনিবার (দুপুর আড়াইটার দিকে) উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় তার দরবারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলায় শামীম রেজা ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং তার দুই অনুসারীও মারাত্মকভাবে জখম হন। পরে তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে চিকিৎসক শামীম রেজাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামীমের একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হঠাৎ ৩০০-৪০০ লোকের একটি দল দরবারে হামলা চালায়। পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করে দরবারে প্রবেশ করে এবং শামীম রেজাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও এর মধ্যেই তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পুলিশ আরও জানায়, শামীম রেজা বিভিন্ন সময়ে একাধিক নাম ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাদান মিলিয়ে একটি মিশ্র মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : অভিনয়ের পাশাপাশি বরাবরই সামাজিক মাধ্যমে নিজের ছবি ও ভিডিও দিয়ে সক্রিয় থাকেন আলোচিত নায়িকা পরীমনি। এবার সুইমিং স্যুটের পোশাকে ভিডিও প্রকাশ করে নেটপাড়ায় উত্তাপ ছড়ালেন এই অভিনেত্রী। শুক্রবার (১০ এপিল) রাতে প্রকাশ করা ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।ভিডিওতে সাঁতারের পোশাকে সুইমিংপুলে দেখা যায় পরীমনিকে। আকাশি রঙের সুইমিং স্যুটে আবেদনময়ী ভঙ্গিতে ধরা দেন তিনি।মাত্র ১৪ ঘণ্টায় ভিডিওটি প্রায় ১৩ লাখ বার দেখা হয়েছে, এতে প্রতিক্রিয়া এসেছে ৪১ হাজারের বেশি এবং মন্তব্যের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ হাজার।ভিডিওতে পরীর সাহসী রূপ ও উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন অনেকে। এক ভক্ত লেখেন, ‘বাংলার লেডি সুপারস্টার’, কেউ আবার আগুনের ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার সেই ভিডিওতে পরীর পোশাক নিয়ে কটাক্ষও করে বলছেন, ‘বাংলার সানি লিওন।’ এমন এক মন্তব্যকারীকে কড়া জবাবও দিয়েছেন পরী।পরীমনিকে সর্বশেষ দেখা গেছে কলকাতার ‘ফেলুবক্সী’ সিনেমায়। বর্তমানে তিনি লীসা গাজীর পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘শাস্তি’ সিনেমায় অভিনয় করছেন, যেখানে তার বিপরীতে থাকছেন চঞ্চল চৌধুরী। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত ‘ডোডোর গল্প’ সিনেমা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে আসা এক সাধারণ দিনমজুর—তাইজুল ইসলাম তাজু। অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে এক মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ উত্থান: ট্রল থেকে প্রশংসা মাত্র ১০ হাজারের কম ফলোয়ার নিয়ে চলা পেজটি গত ২৮ মার্চের পর থেকে আচমকাই আলোচনায় আসে। এর পেছনে ছিল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত একটি ভিডিও—“সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি হচ্ছে”। চরনারায়ণপুরের একটি স্থানীয় বাজারে ধারণ করা সেই ভিডিওতে তাজুর উপস্থাপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা এবং ব্যতিক্রমী স্টাইল দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে। প্রথমদিকে ভিডিওটি নিয়ে ট্রল হলেও, খুব দ্রুত সেটি প্রশংসায় রূপ নেয়। কারণ, ভিডিওর আড়ালে উঠে আসে স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা, বাজার ব্যবস্থার অসঙ্গতি এবং গ্রামীণ জীবনের অনাবৃত চিত্র। ভাইরাল বিস্ফোরণ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তাজুর পেজে ফলোয়ার সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়—যা বাংলাদেশের ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে বিরল ঘটনা। এই সময়ের মধ্যে তাজুর আরও কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি চরাঞ্চলের নিত্যদিনের সমস্যা—পণ্যদ্রব্যের দাম, যোগাযোগ সংকট, ও জনসেবার ঘাটতি তুলে ধরেন। হঠাৎ অদৃশ্য: কী ঘটেছে? এই দ্রুত উত্থানের মাঝেই আসে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকেই পেজটি আর দেখা যাচ্ছে না। তাজুর সহযোগী শাহ আলম হোসেন জানান, এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পেজটি আবার চালু হবে।” অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম ভিন্ন একটি সম্ভাবনার কথা বলেন। তার মতে, “অল্প সময়ে পেজটিতে বিপুল ফলোয়ার ও ভিউ বাড়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে পেজটি অদৃশ্য করে থাকতে পারে।” সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ তদন্তে উঠে আসছে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা— ১. অস্বাভাবিক গ্রোথ অ্যালার্ট হঠাৎ করে ফলোয়ার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেলে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিভিউ শুরু হয়। ২. রিপোর্ট বা মাস রেপোর্টিং ভাইরাল হওয়ার পর অনেক সময় ট্রল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সংগঠিত রিপোর্টিংয়ের কারণে পেজ সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ৩. কমিউনিটি গাইডলাইন যাচাই ভিডিওর কনটেন্টে যদি কোনোভাবে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গতি থাকে, তবে তা যাচাইয়ের জন্য পেজ লুকিয়ে রাখা হতে পারে। ৪. প্রযুক্তিগত ত্রুটি মাঝেমধ্যে বড় প্ল্যাটফর্মেও সাময়িক বাগ বা সার্ভার সমস্যার কারণে পেজ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। গ্রামীণ কণ্ঠের উত্থান—নাকি ঝুঁকি? তাজুর ঘটনা শুধু একটি পেজ হারানোর গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোসিস্টেমের একটি প্রতীকী ঘটনা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মানুষ যখন সরাসরি নিজের ভাষায় স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেন, তখন তা দ্রুত মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু সেই একই দ্রুততা প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক নজরদারির ঝুঁকিও বাড়ায়। এখন কী? তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পেজটি স্বেচ্ছায় ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে, নাকি প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ সরিয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী—যদি এটি শুধুই যাচাই-বাছাই বা প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই ‘তাজু ভাই ২.০’ আবারও অনলাইনে ফিরে আসবে। তাজুর গল্প প্রমাণ করে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যতটা সহজ মনে হয়, তা ধরে রাখা ততটাই জটিল। একদিকে মানুষের ভালোবাসা, অন্যদিকে অ্যালগরিদমের কঠোর নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝেই এখন ঝুলে আছে ‘তাজু ভাই ২.০’-এর ভবিষ্যৎ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় বোরকা পরে নারী সেজে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক যুবক ধরা পড়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার নজিপুর বাজার এলাকার মামুন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ওই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিলিং স্টেশনের মালিকের ছেলে অভি জানান, সেদিন রাতে পাম্পে তেল নিতে গ্রাহকদের প্রচুর ভিড় ছিল। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল যানবাহন চালকদের। তেল বিক্রি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল কর্মীদের। এই অবস্থার মধ্যেই বোরকা পরিহিত একজন ব্যক্তি তেল নিতে আসেন। উপস্থিত সাধারণ মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত প্রকাশ পায় যে তিনি নারী নন, বরং একজন যুবক। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান অভি। স্থানীয়দের ধারণা, তেলের সংকট ও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এড়াতে নারী সেজে আগে তেল পাওয়ার আশায় এমন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন ওই যুবক। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন—কেউ এটিকে হাস্যকর হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তেল সংকটের চিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পথশিশু ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা তাইজুলের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেবে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ নয়ন বলেন, “তাইজুল ইসলামের জীবনযাপন এবং তার সংগ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই তার জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।” সম্প্রতি জিলাপির দাম নিয়ে করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তাইজুল। ভিডিওটিতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে সরল ভাষায় প্রশ্ন করতে দেখা যায়—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?” তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনা অনেকের কাছে বিনোদন হিসেবে ধরা পড়লেও, সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করেছেন। তাইজুল ইসলাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শখের বসে ভিডিও তৈরি করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার খবর কেউ তুলে ধরে না। তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি সাধারণ মানুষ, ভুল হতেই পারে। মানুষ আমাকে নিয়ে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। পরে শুনেছেন যে তাইজুল ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর এখন তাইজুলের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রাম: হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো উপস্থাপনা, আর গ্রামবাংলার সহজ-সরল ভাষা—এই তিনের মিশেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম তাজু, যিনি এখন পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পরও তার জীবনের বাস্তবতা রয়ে গেছে আগের মতোই কঠিন—অভাব, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ভরা। ভাইরালের শুরু যেভাবে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় এক জিলাপির দোকানে দাঁড়িয়ে “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”—এমন সরল প্রশ্ন করে ভিডিও করেন তাজু। তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা আর গ্রামীণ ভাষা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ভিডিওটি ৫০ লাখেরও বেশি ভিউ পায়। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে থাকেন—নদীভাঙন, ভাঙা রাস্তা, চরাঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চনা—সবই উঠে আসে তার কণ্ঠে। ‘লাইভ’ ভঙ্গিতে গ্রামের গল্প তাজুর ভিডিওর বিশেষত্ব তার সরলতা। তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি না করলেও, তার ভিডিওতে উঠে আসে এমন বাস্তবতা, যা অনেক সময় মূলধারার মিডিয়ায় দেখা যায় না। তার ভাষায়, “আমি এলাকার খবর বাইরে তুলতে চাই। সাংবাদিকরা তো এখানে আসে না।” ভাইরাল, কিন্তু অভাব যায়নি ৩০ বছর বয়সী তাজু পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। ঢাকায় কাজ করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার বাবা-মা অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তারা এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন আর ধার করা বুম দিয়েই তৈরি হয় তার ভিডিও। তাজু বলেন, “মানুষ ভালোবাসা দিছে, কিন্তু আমার কষ্ট কমে নাই। পেইজে কোনো আয় নাই। কাজ না করলে তো পরিবার চলবে না।” ভাইরাল পেজ, কিন্তু আয় নেই ভাইরালের আগে তার ফেসবুক পেজে অনুসারী ছিল প্রায় ৬ হাজার। এখন তা এক লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এখনো কোনো মনিটাইজেশন বা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়নি। 🗣️ স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দারা তাজুকে এলাকার গর্ব হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, তার মতো প্রতিভাবান একজন তরুণকে সহায়তা করা প্রয়োজন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার সরলতা আর উপস্থাপনা মানুষকে আকর্ষণ করে। তাকে ট্রল না করে পাশে দাঁড়ানো উচিত।” ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, “নদীভাঙনে সব হারিয়েও সে মানুষের কথা বলছে—এটা গর্বের বিষয়।” সামনে অনিশ্চিত পথ ভাইরাল হলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে বের হতে পারেননি তাজু। সংসারের চাপে আবার ঢাকায় গিয়ে কাজ করার কথাও ভাবছেন তিনি। তার কথায়, “ভিডিও করি নিজের দুঃখ ভুলতে। মানুষ ভালোবাসে—এইটাই আমার শক্তি।”
হুমায়ুন ইসলাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তাজু, যার আসল নাম তাইজুল ইসলাম, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এক সাধারণ মানুষ হলেও তার সরল ভিডিওগুলো আজ একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরল প্রশ্ন, বড় প্রতিধ্বনি তাজুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল একটি দোকানে জিলাপির দাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করা—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?”। যদিও প্রশ্নটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ, সামাজিক মিডিয়ায় এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকেই তাকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করে, আবার অনেকে তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন। তাজু নিজে বলেন, “আমি সাংবাদিক নই। সাংবাদিকরা আমাদের চরাঞ্চলে আসেন না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।” নাগরিক সাংবাদিকতার উদাহরণ সরাসরি সাংবাদিকতা না হলেও তাজুর উদ্যোগ নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজমের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন প্রথাগত মিডিয়া পুরো দেশব্যাপী পৌঁছাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরতে পারে। ডা. মেহেদী হাসান, গণমাধ্যম গবেষক, মন্তব্য করেন, “তাজুর মতো মানুষ সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো তুলে আনতে পারে। এটি মিডিয়ার ফাঁক পূরণ করার একটি নতুন পদ্ধতি।” প্রতিক্রিয়ার বিভাজন তাজুর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা গেছে: প্রশংসা: সরল ভাষায় জনগণের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। বিনোদনমূলক ব্যঙ্গ: ভিডিওকে মজা করা, সরল প্রশ্নগুলোকে হাস্যরস হিসেবে দেখানো। তবে ইনভেস্টিগেটিভ দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু তার সরলতাকে উপহাসের খোরাক বানাচ্ছি, নাকি প্রকৃত সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছি? প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ তাজুর সরলতা প্রকৃতপক্ষে প্রতিফলিত করে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ। ব্রিজ, সেতু, রাস্তা, যোগাযোগের সমস্যা—এসব তার ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠ শুধু নিজের সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জনগণের এক ধরনের ক্ষোভ এবং দাবি প্রকাশ করে। সামাজিক বিশ্লেষক রুবিনা আক্তার বলেন, “যারা সামাজিক মিডিয়ায় তার ভিডিওকে মজা করছে, তারা হয়তো সেই অঞ্চলের বাস্তবতা বুঝতে পারছে না। তাজুর সরলতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—সামাজিক উন্নয়ন কি সবসময় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, নাকি প্রান্তিক জনগণ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারবে?” তাজু ভাইরাল হয়েছেন হাসির খোরাক হিসেবে, কিন্তু তার ভিডিও আমাদের ভাবার সুযোগ দেয়—কীভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের দুঃখ এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারে। তার সরলতা এবং সাহস আমাদের শিখিয়ে দেয় যে নাগরিক সাংবাদিকতা শুধু প্রথাগত সাংবাদিকদের কাজ নয়; এটি যেকোনও মানুষের দায়িত্ব হতে পারে। তাজুর মতো কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ না দিলে সমাজ কি প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে পারত? সম্ভবত না। তাই তাজু শুধুমাত্র হাসির খোরাক নয়—সে প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ, যা আমাদের শোনার প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ঢাকা: দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান শুধুই অভিনয়ের জগতে নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নান্দনিক রুচি ও প্রকৃতিপ্রেমের জন্য সুপরিচিত। ব্যস্ত সময়ের মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজেকে খুঁজে নিতে ভালোবাসেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত বাগানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী, যা ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ হাতে গড়ে তোলা বাগানে নানা ধরনের সবজি ও ফলের যত্ন নিচ্ছেন জয়া। কখনো তিনি যত্ন সহকারে গাছের ডাল ছাঁটছেন, আবার কখনো ধারালো কাঁচি দিয়ে সতেজ শস্য সংগ্রহ করছেন। এক পর্যায়ে বড় থোকার কলা হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাকে। পুরো ভিডিওজুড়েই প্রকৃতির সঙ্গে তার গভীর মমত্ববোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জয়ার এই উদ্যোগ শুধু শখের বাগানচর্চা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের এক সুন্দর বার্তা বলেও মনে করছেন অনেকেই। তার ভক্তরা মন্তব্যে প্রশংসা করে জানিয়েছেন, শহুরে জীবনে এমন সবুজ উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে বরাবরই সরব জয়া আহসান। তার এই বাগানচর্চা সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের আকাশে দেখা গেল এক বিরল ও ভয়ার্ত দৃশ্য। হঠাৎ করেই হাজার হাজার কালো কাকের ঝাঁক শহরের আকাশ ঢেকে ফেলে, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে শহরের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা আজরিয়েলি টাওয়ারের ওপর দিয়ে যখন এই বিশাল পাখির দল ঘূর্ণায়মানভাবে উড়তে থাকে, তখন অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকের কাছে মনে হয়েছে, যেন পুরো শহর এক অদৃশ্য কালো চাদরে ঢেকে যাচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ একে ‘অশুভ লক্ষণ’ বা আসন্ন বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) এ অনেক ব্যবহারকারী ইতিহাসের উদাহরণ টেনে দাবি করেছেন, বড় কোনো বিপর্যয়ের আগে প্রকৃতি এমন অস্বাভাবিক আচরণের মাধ্যমে সংকেত দেয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে আলোচনায়। অনেকেই বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর ১৯:১৭ নম্বর আয়াতের কথা টেনে এনে বলছেন, বিশাল যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের আগে আকাশের পাখিরা এভাবে একত্রিত হওয়ার কথা সেখানে বলা আছে। এ ধরনের ঘটনা ঘিরে মানুষের ভীতি নতুন নয়। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রাচীন রোমানরা পাখির আচরণ বিশ্লেষণের জন্য ‘অগার’ নামে বিশেষ পুরোহিত নিয়োগ করত। তারা পাখির গতিবিধি দেখে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস দিতেন। একইভাবে টাওয়ার অব লন্ডনের দাঁড়কাকদের নিয়েও রয়েছে কিংবদন্তি—যদি তারা টাওয়ার ছেড়ে চলে যায়, তবে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের পতন ঘটবে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। পক্ষীবিদদের মতে, ইসরাইল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাখির পরিযায়ন পথ। প্রতিবছর বসন্তকালে কোটি কোটি পাখি এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হুডেড ক্রো’ নামের এক ধরনের কাক এই অঞ্চলে খুবই সাধারণ। মার্চ মাসে এদের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। শহরের উঁচু ভবন ও সহজলভ্য খাদ্যও বড় ঝাঁক তৈরিতে সহায়তা করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক বা অশুভ ঘটনা নয়; বরং ঋতুভিত্তিক স্বাভাবিক আচরণ। পরিবেশগত চাপ, শব্দ বা শিকারির উপস্থিতিতেও পাখিরা এমন আচরণ করতে পারে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে অনেকেই এই দৃশ্যকে ‘যুদ্ধের পূর্বাভাস’ হিসেবে কল্পনা করছেন। সব মিলিয়ে, বিজ্ঞান যেখানে যুক্তি দিচ্ছে, সেখানে মানুষের মনে ভয় ও কল্পনার জায়গা এখনো দখল করে আছে এই রহস্যময় ‘কালো আকাশ’।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভোটের প্রচারণায় টাকা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।