Brand logo light

বাংলাদেশ সরকার

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ

১৪টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর আওতায় এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদের স্বাক্ষরে জারি করা এ আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ, গাজীপুরে চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ফেনীতে অধ্যাপক এম এ খালেক এবং ফরিদপুরে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ। এছাড়া নীলফামারীতে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, লালমনিরহাটে এ কে এম মমিনুল হক, পাবনায় মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম, নড়াইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক এবং বরগুনায় মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দায়িত্ব পেয়েছেন। জামালপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলাতেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসকরা জেলা পরিষদ আইনের আওতায় চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন। সরকার জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ১১ নির্দেশনা:বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান

ঢাকা : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার (২৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে এর অধীন দপ্তর-সংস্থা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বের নির্দেশনাগুলো পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে ১১টি নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।  কী আছে ১১ নির্দেশনায়? নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি রাখা কক্ষ ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা অফিস শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করা অনুমতি ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া অফিসের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভিজিল্যান্স টিম গঠন  কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পর্যায়ে এই ধরনের উদ্যোগ সামগ্রিক জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
দুই যুগ মাউশিতে থেকে এবার নায়েমের পরিচালক হলেন আ’লীগ কন্যা প্রিম রিজভী
বিএনপি সরকারের আমলেও নায়েমের পরিচালক পদে পদায়ন পেলেন আ’লীগ কন্যা প্রিম রিজভী, শিক্ষাক্যাডারে অসন্তোষ

২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)‑এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন) পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোয় এই নিয়োগকে নিয়ে একধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র আরেকটি “পদায়ন” নয়। এটি বাংলাদেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মিলনক্ষেত্র এবং দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাবকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়া একটি নতুন অধ্যায়। এই প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায্য পদায়ন নীতি, ক্যাডার রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে। অধ্যাপক প্রিম রিজভী: পেশাগত পথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রিম রিজভী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে, এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন ও পদোন্নতি লাভ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তার কর্মজীবনের প্রধান স্টেজগুলো ছিল: মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প (SESP)‑এ সহকারী পরিচালক SEQAEP (World Bank অর্থায়নে)‑এ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও চেয়ারম্যান পদ BANBEIS‑এর উপ‑পরিচালক (প্রশাসন) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা‑এ উপ‑পরিচালক এনসিটিবি‑র বিশেষজ্ঞ পদে পদায়ন ইত্যাদি প্রিম রিজভীর কর্মজীবনের ব্যাখ্যায় বারবার রাজনৈতিক প্রবণতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের অঙ্গেজন স্পষ্ট হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের সূত্র: প্রিম রিজভী দেশের রাজনৈতিক অস্থির সময়েও তার নেতৃত্ব ও পদায়ন ধরে রেখেছেন—বিশেষত: আওয়ামী লীগের শাসন আমল (২০০৮‑২০১৪) অন্তর্বর্তী সরকার আমল বর্তমান বিএনপি সরকার আমল এতে প্রশ্ন উঠেছে যে সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে কি আদৌ তার পদায়নে পারদর্শিতা/যোগ্যতা মূল ভিত্তি ছিল নাকি রাজনৈতিক সহায়তা ও প্রভাব প্রধান ভূমিকা নিয়েছে? পদায়নের বিরোধিতা: শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: 👉 অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে পরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পর অবিলম্বে ক্ষোভের সঙ্কেত। বিভিন্ন শিক্ষাক্যাডার কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে: দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক ভূমিকার পরও উচ্চতর পদে পদায়নে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছতা ছিল না রাজনৈতিক প্রবণতা ও পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব তার জন্য সুবিধা সৃষ্টি করেছে অনেক কর্মী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও পদোন্নতি পায়নি, অথচ রিজভীর মতো কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়ন দেওয়া হয়েছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন: “শুধু নীতিগত ভুল নয়, এটি আমাদের ক্যাডারের ন্যায্য সুযোগের প্রতি আস্থা ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ করে যারা অধীনজীবনে আছে, তারা দেখছে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডই নিয়োগের প্রধান ক্রাইটেরিয়া।” এসব মন্তব্য দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বনাম প্রশাসনিক ন্যায্যতা: বিশ্লেষণ বাংলাদেশে প্রশাসনিক নিয়োগ ও পদায়নকে নিয়ে দীর্ঘদিন বিচার্য প্রশ্ন ওঠে—বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় আসে বা যায়। প্রশাসনিক নিযুক্তি কখনো না কখনো রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তা স্বচ্ছতার প্রশ্নের সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন: 👉 প্রশাসনিক পদায়নে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। 👉 কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক সমর্থন, প্রভাব ও সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, প্রিম রিজভীর ক্ষেত্রে: তিনি আওয়ামী লীগ আমল, অন্তর্বর্তী আমল ও বিএনপি আমল—তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো ১৭ বছর তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন, এবং আজও তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এতে প্রশ্ন ওঠে যে কি তিনি প্রকৃতপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার আধারেই পদায়ন লাভ করেছেন, নাকি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে বিভিন্ন শাসনামলের প্রভাব এখানে কাজ করেছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া: শিক্ষা সচিবের বক্তব্য যদিও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন: “এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” এতে একটি ইতিবাচক বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও শূন্য প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি ও প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলদের মতো তারা যদি এখনো প্রেক্ষাপটের সত্যতা যাচাইয়ে সচেষ্ট হন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।  সমালোচকদের বক্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম বলেন, “যদি আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়, তাহলে তা শিক্ষা ক্যাডার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে। এটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ক্ষতিকারক।” তাঁর মতে: ক্যাডার নিয়োগে ফুল ফর্মালিটি ও নথিভুক্ত প্রমাণ থাকা উচিত রাজনৈতিক অবস্থান নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নির্ধারণ করা উচিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলের বাইরে রাখা অবশ্যই জরুরি এই মন্তব্যগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগ নীতির সমালোচনা হিসেবে সামনে এসেছে।  প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া: কর্মরত কর্মকর্তাদের অনুভূতি শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে প্রভাবমুক্ত সূত্রগুলোর মতে: অনেকে মনে করেন, দীর্ঘকাল ধরে যারা উচ্চতর দায়িত্বে নেই, তারা অবমূল্যায়িত বোধ করছেন অন্যদিকে, রিজভীর সমর্থকরা মনে করেন তিনি অভিজ্ঞ, পরিচিত ও প্রশাসনিক কাজে পারদর্শী তবে দিনের শেষে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব এক কর্মকর্তা বলেন: “চাকরির সুযোগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে যদি ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেটা ক্যাডারের প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।” ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: শিক্ষাক্যাডার ও প্রশাসন শিক্ষা ক্যাডার ও প্রশাসনিক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে: 👉 স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মধ্যে আস্থার পুনর্নির্মাণ করতে পারে। 👉 সরকারি সকল নিয়োগে ব্যাপক নথি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হলে যেকোন বিতর্ক হ্রাস পেতে পারে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন: “যখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে অস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে, তখন কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্কট দেখা দেয়।” প্রশাসন কি নিপুণ, নাকি রাজনৈতিক হাতের খেলা? প্রিম রিজভীর নায়েম পরিচালক পদায়ন শুধুমাত্র একটি নিয়োগের ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বনাম স্বচ্ছতা—এই টানাপোড়েনের একটি পরিচায়ক উদাহরণ। শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, রাজনৈতিক ফর্ক, এবং সরকারি প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি নিয়োগ নীতির বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার প্রশ্ন থেকে যায়: 👉 সরকার কি স্বচ্ছ তদন্ত করবে? 👉 শিক্ষাক্যাডারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নিরাশা কি কাটবে? 👉 রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত প্রশাসনিক নিয়োগ সম্ভব কি? এই প্রশ্নগুলো আগামী দিনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।   বছর দুয়েক আগে প্রিম রিজভী শিক্ষা সচিব বরাবর বদলির জন্য একটি দরখাস্ত দেন মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (যিনি পতিত সরকারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের আপন ভাগিনা) এর মাধ্যমে। সেখানে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচআরএম উইংয়ের উপ-পরিচালক, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (মাধ্যমিক), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর বিশেষজ্ঞ (প্রাথমিক) এই তিন পদের যে কোনো একটিতে পদায়ন চেয়েছিলেন। বদলির এই দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, “বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের একমাত্র কন্যা। আমার পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহযোগী ও আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। আমার পিতা ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে M.N.A পদে জয়লাভ করেন (আসন নং NE- 67, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল) (কপি সংযুক্ত)। ১৯৭২ সালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গঠিত গণপরিষদে M.C.A হিসাবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৯নং সেক্টরে পাক আর্মির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে সাময়িকভাবে স্বাধীন বাংলা সরকারের যোগাযোগ ও খাদ্য মন্ত্রীরও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ (লিপ ইয়ার) এ তাঁর মৃত্যুর পরে জাতীয় মর্যাদায় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে দাফন করা হয়।” অতএব আমাকে আবেদনকৃত পদের যে কোন একটিতে পদায়নের আবেদন জানাচ্ছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
খালি হাতে ত্যাগীরা
নতুন মন্ত্রিসভা: কেন বাদ পড়লেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা? রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা। কারণ, এই মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে এক বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং খালেদা জিয়ার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা অনেক প্রবীণ নেতা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ এবং জোটের তরুণ নেতাদের ওপর আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু মন্ত্রিসভা গঠন নয়—এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নতুন মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জনই নতুন মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য হলো— তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য জোটের কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি টেকনোক্র্যাট নিয়োগ প্রবীণদের আংশিক সাইডলাইন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা বিএনপির ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব কাঠামোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের নাম মন্ত্রিসভায় না থাকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ড. আব্দুল মঈন খান এই তিনজনই অতীতে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং সেলিমা রহমানও মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুঃসময়ে দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে এই নেতাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসনে এবং খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকার সময় দলকে সক্রিয় রাখতে তাদের ভূমিকা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে স্বীকৃত। উপদেষ্টা পদে ‘সমঝোতা’? তবে পুরোপুরি বাদ পড়েননি দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। একজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, “দলের প্রবীণদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। উপদেষ্টা পদ দিয়ে সেই অসন্তোষ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” মঈন খানের প্রতিক্রিয়া মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংযত প্রতিক্রিয়া দলীয় শৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়। জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় বিএনপির বাইরের কিছু রাজনৈতিক দল থেকেও নেতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এই অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই জোট রাজনীতির নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের ক্ষোভ তবে সব জোটসঙ্গী সন্তুষ্ট নন। যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের অংশীদার কয়েকটি দলের নেতারা মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুই-তিনজন থাকছেন। বিএনপি বাস্তবে যুগপৎ সঙ্গীদের বাদ দিয়েই হাঁটছে।” তিনি আরও বলেন, “কঠিন সময়ের সঙ্গীদের বাদ দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। এর রাজনৈতিক অভিঘাত পরে বোঝা যাবে।” সবচেয়ে বড় চমক: খলিলুর রহমান এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে খলিলুর রহমানকে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপির ভেতরে অনেক নেতাকর্মী তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে দুটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক ছিল— বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা রোহিঙ্গা করিডোর প্রস্তাব তবুও এমপি না হয়েও টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের ভেতরে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যাদের কপাল খুলল না সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে আরও কয়েকজনের নাম মন্ত্রিসভায় আসতে পারে বলে আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন— মীর নাছির আলতাফ হোসেন চৌধুরী বরকত উল্লাহ বুলু লুৎফুজ্জামান বাবর আমান উল্লাহ আমান কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এছাড়া দলের দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে পরিচিত যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় ছিল। তাকেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি। নেতৃত্বের নতুন কৌশল? বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার এখতিয়ার।” তিনি আরও বলেন, “মর্নিং শোজ দ্য ডে—এখন দেখার বিষয় এই মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকর হয়।” যারা অবস্থান ধরে রেখেছেন তবে সব প্রবীণ নেতা বাদ পড়েননি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সালাহউদ্দিন আহমদ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হাফিজ উদ্দিন খান এদের অন্তর্ভুক্তি দলীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা তিনটি বার্তা দেয়। প্রথমত, বিএনপি নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট ও জোট রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা থাকতে পারে। তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। প্রবীণ নেতাদের একটি বড় অংশ যদি নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন, তাহলে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামনে কী হতে পারে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে এই মন্ত্রিসভার কার্যকারিতা। যদি সরকার সফলভাবে প্রশাসন পরিচালনা করতে পারে, তাহলে তারেক রহমানের এই ‘নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা’ সফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু যদি দলীয় অসন্তোষ বাড়ে, তাহলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, “এই মন্ত্রিসভা শুধু সরকার গঠনের ঘটনা নয়, এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখারও ইঙ্গিত।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টারা
ড. ফাওজুল কবির খানের ইফতার আয়োজনে ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টারা

ঢাকা: বিদায়ী সরকারি বাসভবন ছাড়ার আগে সাবেক উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী অতিথিদের নিয়ে একটি ইফতার আয়োজন করেছেন ড. ফাওজুল কবির খান। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং শেয়ার থেকে জানা গেছে। সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিগুলো পোস্ট করে লেখেন, “ড. ফাওজুল কবির খানের আয়োজনে একটি মনোরম ইফতার ও নৈশভোজ। ড. খান এবং তার পরিবার  তাদের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে চলে যাচ্ছেন।” প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যাকে কেক কাটার মুহূর্তে ছবিতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানে সাবেক উপদেষ্টারা দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কর বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। ফাওজুল কবির খান ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।ইফতার আয়োজনটি ছিল তার সরকারি বাসভবন ছাড়ার আগে একটি বিদায়ী সৌজন্য সভা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সরকারের বড় প্রশাসনিক রদবদল: ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, ৩ সচিব সংযুক্ত

দেশের প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নয়জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে আরও তিন সচিবকে তাদের নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল চুক্তি বাতিল হওয়া সচিবরা হলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান এস এম আকমল হোসেন কাইয়ুম আরা বেগম বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। তিন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত এর আগে আরও তিন সচিবকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। প্রশাসনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে চলমান সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে ধারাবাহিক রদবদল ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ঘটনা নজরে এসেছে। সর্বশেষ এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন সমন্বয় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
ঢাকা-খুলনা-সিলেটসহ ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন-এ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশন-এ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শওকত হোসেন সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুসারে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকরা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Admin ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনের শাসনই সরকার পরিচালনার মূলনীতি

দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসনই হবে শেষ কথা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা এবং অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতি ও নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। সরকারের এই অবস্থান বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছালেহ শিবলী, রুমন
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেন ছালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী)। বুধবার সচিব পদমর্যাদায় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বর্তমানে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ সাংবাদিক মহলে ছালেহ শিবলী নামে অধিক পরিচিত। তিনি অতীতে তারেক রহমান–এর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। চার দলীয় জোট সরকারের সময় ছালেহ শিবলী কলকাতা উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিবলী বার্তা সংস্থা United News of Bangladesh (ইউএনবি), দৈনিক মানবজমিন, বাংলা বাজার পত্রিকা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল Channel i–এ কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি–এর সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি সূত্র জানায়, নতুন দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম কার্যক্রম সমন্বয়, তথ্য সরবরাহ ও জনসংযোগ জোরদারে ভূমিকা রাখবেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0