ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অতিমূল্যে ফার্নিচার ক্রয়, দ্বৈত টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ অগ্রিম উত্তোলন এবং সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব কেনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যেভাবে শুরু হয় প্রকল্প “রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি তিনতলা আবাসিক হল নির্মাণকাজ চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল গফুর। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। ফার্নিচার ক্রয়ে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফার্নিচার কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি টেবিলের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা হলেও বিল ভাউচারে সেটির দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের আসবাবপত্র স্থানীয় বাজারে যে দামে পাওয়া যায়, প্রকল্পে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য দেখানো হয়েছে।” টিএ/ডিএ বিলেও অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিএ/ডিএ বিল গ্রহণের পরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সফরের নামে দ্বিতীয়বার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, এভাবে প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একই সফরের জন্য একাধিক খাত দেখিয়ে বিল সমন্বয় করা হয়েছে। টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ চারটি ভবনের নির্মাণ টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কয়েকজন ঠিকাদার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন এবং পরিকল্পিত বনায়নের নামে ছবি উপস্থাপন করে আরও ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও মিলেছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব? আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার বাসার জন্য আলমিরা, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল এবং খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা হয়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো রসিদ বা সরবরাহ নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অগ্রিম উত্তোলনে অনিয়ম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে, যদিও প্রকল্প নীতিমালায় এ ধরনের অগ্রিম গ্রহণের বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী— মার্শাল চাকমার নামে উত্তোলন করা হয় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মঞ্জুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা এছাড়া আবদুল গফুর নিজের নামেও ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ২০১৭ সালে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুল গফুর। তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, বয়সসীমা অতিক্রম এবং নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। এছাড়া তার শিক্ষাজীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ ছিল এবং এর আগে কোনো সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তৎকালীন রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ? অভিযোগ রয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামিও হন আবদুল গফুর। সাময়িক বরখাস্ত ও পাল্টা অভিযোগ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত আদেশে তার বিরুদ্ধে আইসিটি-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়। বরখাস্তের পরদিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। উপাচার্যের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবদুল গফুরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর ব্যাংক থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সেশন ফি ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন। কেন ক্ষোভ? শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে “অযৌক্তিক” সেশন ফি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি খাতে মোট ২ হাজার ৬২০ টাকা সেশন ফি নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, এই ১৯টি খাতের মধ্যে অন্তত ১০টির কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ এসব খাতেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোন খাতে আপত্তি? শিক্ষার্থীরা যেসব খাতকে অকার্যকর বা সীমিত সেবার বলে উল্লেখ করছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ম্যাগাজিন গ্রন্থাগার পরিবহন তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) অত্যাবশ্যকীয় খরচ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ফি বিবিধ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে নিয়মিত খেলাধুলা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ নেই গ্রন্থাগার সেবা সীমিত পরিবহন সুবিধা পান মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা কার্যত অপ্রতুল একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সেশন চার্জ নেওয়া হলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।” আরেকজন ছাত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আগেই সব ফি দেওয়ার পর আবার কেন অতিরিক্ত সেশন চার্জ দিতে হবে?” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়। তবে যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, সেগুলোতে ২০২৫ সালের পর থেকে ফি না নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবহন সুবিধা সীমিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, “সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পান না, তবে অন্যান্য খাতে ব্যয় রয়েছে।” অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী ও প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানো হয় বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলামকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে একদল শিক্ষার্থী তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে এ অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি মুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী তার কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল নাসে অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মাসে দু-একবার এসে কাজ পরিদর্শন করে চলে যান এবং অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের বিল থেকে ১ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। একই দাবিতে গত ৭ এপ্রিলও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক দুর্নীতি করছেন। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। উপাচার্য আরও জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের আওতায় ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আরও ৩০০টি শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানের করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচিত স্কুলগুলোর শ্রেণিকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির সব সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকেই কাজ শুরু করা সম্ভব।” প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাসরুমে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকবে, ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠ ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা যাবে। এই কনটেন্ট ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও দেখতে পারবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাস নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে, যা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজন কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।” তিনি জানান, ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাছে জায়গা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুমের পাশাপাশি ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। এছাড়া মাউশি প্রাঙ্গণে একটি কেন্দ্রীয় ক্লাউডভিত্তিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থাকে সংযুক্ত করবে। বর্তমানে প্রকল্পের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিএপিপি) প্রণয়ন করা হবে, যা বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও চাঁদপুরের দুটি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির সংযোজন মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎমুখী মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়তা পাওয়া যাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে নিয়োগ পান এবং এরপর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদটি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও, এরপর তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সহকারী শিক্ষকের উদ্যোগে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এ চিঠি পাঠানো হলে সংস্থাটি জানায়, সনদটি সঠিক নয়। এতে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্যও প্রাপ্য নন বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চাকরিকালে তিনি যে মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে, তা তার কাছে স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে সনদটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কপি পৌঁছায়নি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর একটি বেসরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক হিসেবে মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার নিয়োগটি জনবল কাঠামোর অনুমোদন ছাড়াই দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়; জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়নি। ওই বছরের ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিও ছিলেন। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদ অনুমোদিত না থাকায় তার এমপিওভুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আলেয়া খাতুন একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী চামেলী খাতুনের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চামেলী খাতুন প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও এমপিও তালিকা থেকে তার নাম অপসারণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আলেয়া খাতুন ধারাবাহিকভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার এমপিও বাতিল, আত্মসাৎকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান, বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক কয়েকটি বিষয়ে ল্যাব থাকলে প্রদর্শক পদ অনুমোদিত হয়, তবে সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে এ ধরনের কোনো পদ নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম গোলাপী বেগম। তিনি ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৫ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা গ্রহণ করা হয়। পরদিন সেই কলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এতে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৮ এপ্রিল থেকে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত খোরাকি ভাতা পাবেন। স্থানীয়দের মতে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং পুরো ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে আরও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু কক্ষে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা মেধাভিত্তিক মূল্যায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল জিলা স্কুল কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় ১১১, ১১২ ও ১১৩ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ধরনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এসব কক্ষে নকল করার সুযোগ, পরস্পরের খাতা দেখার সুযোগ এবং কক্ষ পরিদর্শনে শিথিলতা দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, একই কেন্দ্রে অন্য কক্ষগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর পরিবেশ বজায় রাখা হলেও নির্দিষ্ট কক্ষগুলোতে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। এতে করে যারা নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নিয়েছে, তারা অসুবিধায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কেন্দ্রটির প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব অনিয়ম ঘটছে। তারা বলেন, বিষয়টি জানাতে প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি অনিয়মের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কিছু অভিভাবক এ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ছাড় দেওয়া হলে তা অন্য অভিভাবকদের অজানা থাকার কথা নয়। এছাড়া প্রতিদিন ভিন্ন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন—সেক্ষেত্রে সবার পক্ষ থেকে এমন শিথিলতা দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা পারভীন বিষয়টিকে “অত্যন্ত স্পর্শকাতর” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল কলেজে প্রবেশ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষক শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। এই ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, যুবদলের সাবেক এক নেতা এবং আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলায় নেতৃত্ব দেন। ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর একটি অংশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করলে বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের দাবি, বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়ার প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় আত্মসম্মান রক্ষার্থে ওই শিক্ষিকা প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান বা শারীরিকভাবে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল অভিযুক্তদের একজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জুতা দিয়ে পেটানো বিএনপি নেতা বহিষ্কার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানোর ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজশাহী জেলাধীন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন এলাকার মুরব্বিরা দাওয়াত পত্র নিয়ে গেছিল। এ সময় ম্যাডাম বলেন- আপনারা কি জন্য এখানে। আপনারা টাকা নিতে আসছেন নাকি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন এক বিএনপি নেতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারী শিক্ষককে পেটানো ওই নেতা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। একই সঙ্গে আংশিক তথ্য বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোরও আহ্বান জানানো হচ্ছে। এক নজরে দাওকান্দি সরকারি কলেজ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজ (স্থাপিত: ১৯৭২) একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । বারনই নদীর তীরে অবস্থিত এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস/সম্মান) ও মাস্টার্স ১ম পর্বের কোর্স চালু রয়েছে । বর্তমানে এখানে ২/৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং এটি স্থানীয় শিক্ষার একটি প্রধান কেন্দ্র। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী: মারামারি ও ভাঙচুর: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের স্নাতক পরীক্ষা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে । শিক্ষক লাঞ্ছনা: এই ঘটনায় কলেজের একজন নারী প্রদর্শক (ডেমোনেস্ট্রেটর) আলেয়া খাতুন হীরা লাঞ্ছিত হন এবং পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় । তদন্ত কমিটি: এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । কলেজ সম্পর্কে তথ্য: অবস্থান: দাওকান্দি বাজার সংলগ্ন, জয়নগর ইউনিয়ন, দুর্গাপুর উপজেলা, রাজশাহী । শিক্ষাক্রম: কলা, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি এক নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান রোববার কলেজ পরিদর্শন শেষে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাকে এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কলেজে একটি তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুইজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাকে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি প্রতিক্রিয়ায় চড় মারেন। এর জেরে শাহাদাত আলী তাকে জুতা খুলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর তার ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান। পরে আরও ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং শিক্ষকদ্বয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ পরিদর্শনের সময় পরিচালক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ করে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” এ ঘটনায় দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুগ্ম সচিব (কলেজ-২) আহ্বায়ক উপ-পরিচালক (কলেজ-১, সরকারি কলেজ) সদস্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সদস্যসচিব কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ ঘটনার পরদিন বিএনপির কয়েকজন নেতা অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার ওপর হামলা হয়েছে এবং তার মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরাসরি মামলা করতে পারছেন না, তবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশের অবস্থান দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে আটক করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি হামলার শিকার আলিয়া খাতুন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এখনো কর্মস্থলে ফেরার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার সময় সংঘটিত এক সহিংস হামলার ঘটনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। কী ঘটেছিল সেদিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় কলেজে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দুপুরে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা বলছেন, তারা নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দেন এবং অধ্যক্ষের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। নারী শিক্ষকের ওপর হামলা ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর হামলা। তিনি জানান, অধ্যক্ষকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে এক হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্য করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি স্যান্ডেল খুলে শিক্ষককে মারধর করেন। পরে তাকে চুল ধরে টেনে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অধ্যক্ষকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। ‘চাঁদা না দেওয়াই মূল কারণ’ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনা আকস্মিক নয়—বরং দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির চাপের ফল। অধ্যক্ষের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে নিয়মিত অর্থ দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক আলেয়া খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, “হিসাব চাওয়ার নামে মূলত চাঁদাই দাবি করা হতো।” স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি এলাকায় ‘সামাদ দারোগা’ নামে পরিচিত—এই প্রভাববলয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তের বক্তব্য হামলায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কলেজে গিয়েছিলেন এবং তর্কের এক পর্যায়ে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ মারধর করেন। তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যতে অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা দাবি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এক নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। তবে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু নেতা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “ভুলভাবে উপস্থাপন” করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কলেজে স্বাভাবিকভাবেই প্রবেশ করেছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটে শিক্ষিকার আচরণের কারণে। তারা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার সময় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। তবুও কীভাবে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এই ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার উদাহরণ নয়—এটি স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাহীনতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়ই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজে এক শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম. এম. ইউনুছুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তবে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন পোস্টও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে স্ক্রিনশট ও ভিডিও প্রমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, শিক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া বা ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও দাবি করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্নভাবে সহায়তার প্রস্তাব—যেমন বিসিএস প্রস্তুতি, চাকরির আবেদন, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা ব্যক্তিগত সুবিধা—দিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হতো। পরে সেই সম্পর্ককে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মানসম্মান ও নিরাপত্তার ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি গত রোববার (২০ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য গেট খুলতে চাইলে দারোয়ানকে তা না করতে বলা হয়। এসময় বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ তোলেন। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ থাকার দাবিও করেছেন তারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত শিক্ষক শেরে বাংলা নগর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টিকে কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ফিরে যায়। শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া অভিযুক্ত শিক্ষক এম. এম. ইউনুছুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় অভিযোগ করেছি, যেন বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধান হয়। অভিযোগগুলো পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু ‘অভিমানজনিত’ ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, এক শিক্ষার্থী বাথরুমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দারোয়ান যোগাযোগ করলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তিনি সাড়া দিতে পারেননি। তার মতে, এক স্টাফের সঙ্গে বহিরাগত প্রবেশকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে বড় করে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওরা আমাদেরই শিক্ষার্থী। অভিমান থেকেই এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আমরা চাই না প্রতিষ্ঠানের মানহানি হোক।” শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কারণে অনেক সময় সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায় এবং শিক্ষকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তদন্তের দাবি এদিকে শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে স্বচ্ছ তদন্তই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ‘গ্রিন ফোরাম’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের এমন প্রকাশ্য কমিটি সামনে আসায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনকে নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হয়েছে। তবে নতুন করে প্রকাশিত এই কমিটির সদস্য তালিকা পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে আলোচনায় এসেছে—এখানে এমন কয়েকজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাদেরকে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শিক্ষক নির্বাচন ও প্রশাসনিক সমর্থনের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল, তাদের কয়েকজন এখন এই কমিটির অংশ। অভিযোগ রয়েছে, মো. নাঈমুর রহমান, মো. মোমিন উদ্দীন, মো. আশিক ও মো. শাহীন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষক সমিতিতে 'নীল দলের' প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনও করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সরকারি প্রক্টর হিসেব ও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. নুরনবী ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের তালিকাভুক্ত সদস্য হিসেবে ক্যাম্পাসে আলোচিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি এতদিন তারা ভিন্ন পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন, নাকি নতুন বাস্তবতায় রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন? আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে—যে আদর্শিক ভিত্তির ওপর একটি সংগঠন দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু একটি সংগঠন যখন নিজেকে আদর্শভিত্তিক হিসেবে তুলে ধরে, তখন সেই আদর্শের প্রতি স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকগণ ও সামান্য সুবিধার বিনিময়ে অনেক অনৈতিক কাজের সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত হতে পারেন যা আমরা বিগত সময়ে দেখেছি ,যা এতদিন শুধুমাত্র ভাইস চ্যান্সেলরগণকেই শুধুমাত্র দোষী সাব্যস্ত হতে দেখেছি এমনকি জেল ও খেটেছেন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই কমিটি তাই শুধু একটি সাংগঠনিক ঘোষণা নয়; এটি ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতিতে আদর্শ, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রসচিবসহ দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কেন্দ্রসচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক খগেন মণ্ডল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি; বরং ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রশ্নপত্র পেয়ে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অনেকে ঠিকভাবে উত্তর লিখতে পারেননি। এতে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া অথবা ফলাফলে বিশেষ বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের গাফিলতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে সংশ্লিষ্টদের এসএসসি পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হাসান বলেন, একটি কক্ষে অনিয়মিত আটজন শিক্ষার্থী ছিল, যারা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। হল সুপার আবু ইউসুফকে ধামুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং সেখানকার হল সুপার সেকান্দার আলী হাওলাদারকে হাবিবপুর কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রসচিব হিসেবে নতুনভাবে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, “পাবলিক পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কাঁঠালিয়া সদরের একটি ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত এবং দেলোয়ার হোসেন জমাদ্দার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান ১৯৮৭ সালের ০৩ জানুয়ারি সহকারি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ গাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান। ১৯৮৮ সালে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বানিজ্য, স্কুলের বই, গাছ, আসবাবপত্র, বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি, বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিপত্রে টেম্পারিং ও অর্থ আত্মসাৎসহ সীমাহিন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিদ্যালয়ের জমি অন্যত্র বিক্রিতে তিনি পরিচিতির স্বাক্ষর দেন। তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, শহীদুল ইসলাম ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে সহকারি শিক্ষক হয়েও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। এরপর থেকে শুরু হয় তার অপকর্ম। নিজের চাচাতো ভাইকে বিদ্যালয়ের সভাপতি বানিয়ে নিজের মেয়েকে সহকারি গ্রান্থগারিক পদে এবং দুই কর্মচারীকে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে নিয়োগ দেন। বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল ও এফডিআর এর অর্থ আত্মসাতের করেন। যাহা তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের বই, গাছ, আসবাবপত্রসহ বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে যাহা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত বলেন, তার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের বিষয় সত্যতা প্রমানিত হলেও অদৃশ্য কারণে তার অপকর্মের এখন পর্যন্ত কোন বিচার হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান সম্প্রতি অবসরে যান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন । সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান, আমি এ বছরের ১০ মার্চ অবসরে যাই। আমাকে হয়রানী করার জন্য এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছেন। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন জানান, সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ে তার সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। তিনি অগোচালোভাবে উপস্থাপন করেন। সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে সন্তান জন্মের মাত্র তিনদিন পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক শিক্ষার্থী দৃঢ় মনোবল ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাওয়া আক্তার নামের ওই পরীক্ষার্থী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা হযরত আলী। গত ১৮ এপ্রিল তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নবজাতক সন্তানকে পরিবারের কাছে রেখে তিনি কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সেখানে নির্ধারিত সময়ে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভীদ’ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরিবারের এক সদস্য নবজাতককে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ফলে পরীক্ষার সময়ও সন্তানের দেখভালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ নুর বখত মিঞা জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় ১,১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী সিজারের তিনদিন পর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যা “অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক”। স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষ্যে অবিচল থাকার এই ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয়। হাওয়া আক্তারের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ফিলিং স্টেশন এলাকায় অবস্থান নিয়ে গিরিধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী এই অবরোধ শুরু করেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরীক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার জন্য সোমবার রাত পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। পরে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। ঘটনাস্থলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান এবং পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা দ্রুত প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। একই উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ৩৬ জন পরীক্ষার্থীও বিকেল পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান। এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক গুরুতর ভুল ধরা পড়ে। কারও বিভাগ পরিবর্তন, কারও ছবির গরমিল এবং কারও অভিভাবকের নাম ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা এবং তাদের অভিভাবকরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থীকে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়, কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ী উপজেলার গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। এর মধ্যে শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন এবং গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক ভুল ধরা পড়েছে। কোথাও বিভাগ পরিবর্তন হয়ে গেছে, কোথাও লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল, আবার কারও বাবা-মায়ের নামও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এখনও বিতরণই করা হয়নি। পরীক্ষার্থী সিয়াম, আরেফা খাতুন, জিহাদ ও জুঁই বলেন, “আগামীকাল পরীক্ষা। আমাদের এখন বইয়ের পাশে থাকার কথা। কিন্তু আমরা সকাল থেকে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় আছি। জানি না আমরা আদৌ পরীক্ষা দিতে পারব কি না।” অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম সরকার দাবি করেন, প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরবরাহ করা হয়নি। তবে সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, “সব শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষা দিতে পারে, সে চেষ্টা চলছে। ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে।” পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং রাতের মধ্যেই প্রবেশপত্র বিতরণের আশ্বাস পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দেওয়া হচ্ছে।” ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের তিন বোন—স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবি। ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একই দিনে জন্ম নেওয়া এই তিনজন এবার একসঙ্গেই অংশ নিচ্ছেন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়, যা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। শৈশব থেকে তাদের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবন—সবই একসঙ্গে। পরিবারের সদস্যদের কাছেও তারা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের বাবা ঠান্ডারাম বর্মন ও মা ময়না রানী সেনের চার সন্তানের মধ্যে এই তিন বোনই আলাদা করে নজর কাড়েন। পরীক্ষার আগের দিন তাদের বাড়িতে দেখা যায়, পাশাপাশি বসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তিনজনই। লক্ষ্য একটাই—ভালো ফলাফল করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় একটি কিন্ডারগার্টেনে। পরে তারা ভর্তি হন স্থানীয় আরাজী কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একই রকম চেহারা ও অভ্যাসের কারণে শিক্ষক-সহপাঠীদের জন্য তাদের আলাদা করে চেনা ছিল কঠিন। ২০১৮ সালে স্বপ্নীল ও স্বর্ণালী ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে একই বিদ্যালয়ে যোগ দেন সেঁজুতি। যদিও তারা একই শিফটে পড়েছেন, স্বর্ণালীকে পড়তে হয়েছে ভিন্ন শাখায়। এবার তিনজনই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পড়াশোনায় তারা সবাই মনোযোগী এবং নিয়মিত ভালো ফল করে আসছেন। তবে পছন্দের বিষয়ে রয়েছে কিছু পার্থক্য—স্বপ্নীলের আগ্রহ জীববিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্যে, স্বর্ণালীর জীববিজ্ঞান ও রসায়নে, আর সেঁজুতির পছন্দ জীববিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তারা সক্রিয়। ঠাকুরগাঁও বেতার কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী হিসেবে দেশাত্মবোধক গান গাইতে ভালোবাসেন তিনজনই। অবসরে তারা উপন্যাস ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়েন, গান শোনেন ও গেয়ে সময় কাটান। ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের স্বপ্ন আলাদা—স্বপ্নীল চান বিসিএস ক্যাডার হতে, স্বর্ণালীর লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া এবং সেঁজুতি শিক্ষক হতে আগ্রহী। তাদের দৈনন্দিন জীবনও অনেকটা একই ছন্দে বাঁধা—একই ঘরে থাকা, একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা করা ও খেলাধুলা। ছোটখাটো মনোমালিন্য হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস দেবনাথ জানান, একই ইউনিফর্মে তাদের আলাদা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে যেত, তাই মাঝে মাঝে আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করতে হতো। মা ময়না রানী সেন বলেন, “একসঙ্গে তিন মেয়েকে বড় করা সহজ ছিল না। তবে তাদের ভালোবাসাই সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।” বাবা ঠান্ডারাম বর্মন জানান, শুরুতে তিনি যমজ সন্তানের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তিন কন্যার জন্ম তাকে চিন্তায় ফেলেছিল। এখন তাদের সাফল্যে তিনি গর্বিত এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চান।
বরিশাল অফিস : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষকদের পদোন্নতি ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি অনশন শুরু করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকদের দাবি, গত দুই বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পদোন্নতি হয়নি। অনেক শিক্ষক প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পর ছয় মাসের বেশি সময় পার করলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অনশন শুরু করার পর মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং যোগ্য শিক্ষকদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।” এর আগে, রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছিলেন শিক্ষকরা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আন্দোলনের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। একই দিনে দুপুরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ক্লাস স্থগিত রাখা এবং উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচির প্রস্তাব ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা বারবার উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনের পথে যাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে আবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “৬০ জন শিক্ষকের অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এখন আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।” এদিকে, অনশনের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে অনশনরত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অনশন অব্যাহত ছিল। উপাচার্য বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলছি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষক পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে অধ্যাপক পদে ২৪ জন, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩০ জন এবং সহকারী অধ্যাপক পদে ৬ জন রয়েছেন।
ঝালকাঠি: নলছিটি উপজেলার হদুয়া বৈশাখিয়া কামিল মাদ্রাসার অধীনস্থ হদুয়া আইডিয়াল একাডেমিতে ২০২৫ সালের ইবতেদায়ী পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে একাডেমির সেমিনার কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হদুয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাহ মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, বিশেষ ক্লাস কার্যক্রম এবং আল্লাহর রহমতেই এ সফলতা অর্জিত হয়েছে। এ সময় অভিভাবকরাও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল দিকনির্দেশনার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান থেকে আদর্শ ও সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।