ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আবারও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। একদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে প্রবীণ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান করেছে সরকার। দুই নিয়োগই এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে আস্থাহীনতা, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিতর্কে রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান রোববার (২৪ মে) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পরপরই খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে একই বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার সঙ্গে তাকেও পদত্যাগ করতে হয়। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর যেসব কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে কাউকে এত গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘পরামর্শ’ ও বোর্ড রাজনীতি ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগের পর অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এবার তাকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “পরামর্শে” সরে যেতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভাও স্থগিত হয়েছে আন্দোলনের মুখে। রাজধানীর দিলকুশায় প্রধান কার্যালয়ে রোববার ওই সভা হওয়ার কথা থাকলেও ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভের কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সভায় বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে—এমন গুঞ্জন ছিল ব্যাংকপাড়ায়। এমডিকে ঘিরে উত্তেজনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গত এপ্রিল মাসে ওমর ফারুক খানকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা আগামী ৩১ মে। রোববার তিনি প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ভবনে প্রবেশ করতে দেননি। যদিও একটি সূত্র দাবি করেছে, তিনি চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক ঘিরে এই অস্থিরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ব্যাংকটির মালিকানা, পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটি শুধু আর্থিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবেরও অংশ হয়ে উঠেছে। কৃষি ব্যাংকে অভিজ্ঞ ব্যাংকার একই দিনে সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংক খাতের সঙ্গে যুক্ত নূরুল আমিন এনসিসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। পরে ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত? মোহাম্মদ নূরুল আমিন অতীতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং প্রাইমারি ডিলারস বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিংবিষয়ক ডিপ্লোমাও অর্জন করেছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বলেন, কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাংক এবং এটিকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে কৃষি খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই দুই নিয়োগকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ কম। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রত্যক্ষ তদারকিতে ব্যাংক খাতে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন তারা। ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট কাটবে? বাংলাদেশের ব্যাংক খাত গত এক দশকে খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা সংকট এবং তারল্য চাপে একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক নিয়োগগুলো সেই সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ, নাকি নতুন প্রভাব বলয় তৈরির প্রচেষ্টা—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়ায় জোরালোভাবে ঘুরছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও এমডি পরিবর্তনের ঘটনাকে অনেকে ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার মানচিত্রের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
বরিশাল অফিস : রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক–এর বরিশাল সার্কেল ও ভোলা জোনাল অফিসে দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৎ কর্মকর্তাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরার পর কয়েকজন কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে বদলি করা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই বদলি, কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা প্রশাসনিক চাপ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে ভোলা জোনে। অনিয়মের তদন্তের পর বদলি ভোলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এজিএম আলমগীর হোসেনকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম সার্কেলে বদলি করা হয়। ব্যাংক সূত্রের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনকালে ঋণ বিতরণে বেশ কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ঋণ বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়, তিনি টি-২৪ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ১২ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার শূন্য দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ঋণ আদায়ে গাফিলতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলবের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘আরোহী ট্রেডার্স’ ঋণ নবায়ন ঘিরে বিতর্ক অনুসন্ধানে জানা গেছে, “মেসার্স আরোহী ট্রেডার্স” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ টাকার ঋণ নবায়নের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আলমগীর হোসেন। ব্যাংক নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে ঋণ নেয় এবং এরপর প্রতিবছর ঋণ নবায়ন করে আসছিল। তবে সরেজমিন তদন্তে কার্যক্রমের অস্তিত্ব না পাওয়ার দাবি করেন তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক। এরপর তিনি ঋণ নবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে একটি প্রভাবশালী চক্রের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই আলমগীর হোসেনকে সরানোর চেষ্টা শুরু হয়। ‘ভূয়া অভিযোগ’ তৈরির অভিযোগ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আরোহী ট্রেডার্সের মালিকের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই ছাড়াই তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বদলি করা হয় চট্টগ্রাম সার্কেলে। অন্যদিকে, যেসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই জিয়াউদ্দিনকে পদোন্নতি দিয়ে একই শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুরোনো অভিযোগও ছিল ব্যাংক সূত্র জানায়, জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছিল। চরফ্যাশন শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ঋণ শ্রেণিকরণে অনিয়ম, সুদ আদায়ে অসঙ্গতি এবং বীমা খাতে অর্থ কর্তনের অভিযোগে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। এছাড়া মৃত গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটিতেই কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ‘সৎ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হচ্ছে’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “এখানে চোরের শাস্তি হয় না, যারা চোর ধরিয়ে দেয় তারাই শাস্তি পায়।” তার দাবি, বরিশাল সার্কেল ও ভোলা জোনে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক বলয় কাজ করছে, যারা নিজেদের স্বার্থে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি নিয়ন্ত্রণ করে। সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন জিয়াউদ্দিনের সম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, চাকরিজীবনের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভোলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন, যার আর্থিক উৎস নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। আলমগীর হোসেন যা বললেন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে “কল্পিত অভিযোগ” তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, তদন্তে আসা কর্মকর্তারা শাখার কর্মীদের চাপ দিয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য করেছেন। যারা রাজি হননি, তাদের বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরাগভাজন হন। জোনাল প্রধানের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ব্যাংকের হেড অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী বদলি ও পদোন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভুয়া রপ্তানি আদেশ, অতিমূল্যায়িত এলসি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগে নতুন আর্থিক কেলেঙ্কারি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ এক অর্থপাচারের অভিযোগ। ভুয়া ও অতিমূল্যায়িত রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ২৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ৯৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে সরিয়ে নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; বরং পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি, যেখানে ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। কীভাবে ঘটেছে অর্থপাচার বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি একটি প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধা। সাধারণত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সীমা ভয়াবহভাবে অতিক্রম করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় ১০০ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মূল্যের এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলসির বড় অংশই ছিল ভুয়া, অতিমূল্যায়িত অথবা প্রকৃত ব্যবসার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশেষভাবে উঠে এসেছে। টোটাল ফ্যাশন মাত্র ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও তাদের নামে খোলা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের এলসি। অ্যাভান্টি কালার টেক্স প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে নেয় ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি সুবিধা। ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস ৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলে। আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অন্তত ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানিকৃত কাঁচামাল কোথায় গেল? তদন্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হচ্ছে—এলসির বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাচারই নয়, ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিও দেওয়া হয়েছে। “অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না” ঘটনায় আলোচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেছেন, অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না যে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছেন। এই বক্তব্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এতে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ব্যবসায়ী নয়, ব্যাংকের ভেতরেও কি ছিল সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র? তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, পুরো সময়জুড়ে নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ শহীদ হাসান মল্লিক। ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালনের বিধিনিষেধ থাকলেও তিনি টানা প্রায় ১০ বছর ওই শাখায় ছিলেন। এছাড়া আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম এককভাবে সম্ভব নয়; বরং এতে ব্যাংকের একাধিক স্তরের কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল। তদন্ত শেষ, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালেই তদন্ত শেষ করলেও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার অনুমোদিত ডিলার (এডি) লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব এবং বিভিন্ন চাপের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইকবাল পরিবারের হাতেই ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেন। শুধু লাইসেন্স বাতিলেই কি যথেষ্ট? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, এই ধরনের জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য সাধারণত নগদ প্রণোদনা ও ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া। তার মতে, কেবল একটি শাখার লাইসেন্স বাতিল করে দায় এড়ানো যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও সম্পদ অনুসন্ধান জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এক সময় ক্রেডিট কার্ড ছিল কেবল উচ্চবিত্ত বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের আর্থিক হাতিয়ার। বড় ব্যবসায়ী, বিদেশ ভ্রমণকারী কিংবা ব্যাংকের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই বাস্তবতা। এখন শহর থেকে মফস্বল—বাংলাদেশজুড়েই ক্রেডিট কার্ড ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সঙ্গী। বাজার করা, হাসপাতালের বিল, অনলাইন কেনাকাটা, বিমান টিকিট, শিক্ষা ব্যয়, রেস্টুরেন্ট বিল কিংবা ইউটিলিটি সেবা—সবখানেই বাড়ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন। ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেডিট কার্ড এখন অনেকের কাছেই “বিকল্প নগদ অর্থ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। গ্রাহক আকর্ষণে ব্যাংকগুলোও দিচ্ছে ক্যাশব্যাক, ইএমআই, ডিসকাউ্ট, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকও ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করতে নতুন নীতিমালা চালু করেছে। এতে ঋণসীমা দ্বিগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা, সুদের স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা এখন ৪০ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জামানত ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চমূল্যের চিকিৎসা, বিদেশে শিক্ষা ব্যয়, ব্যবসায়িক সফর কিংবা জরুরি খরচ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত অনেক গ্রাহকের জন্য বড় সহায়তা হবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির বিস্তারেও ভূমিকা রাখবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক তার মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এই নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য হবে না। সুদ ছাড়াই ৪৫ দিন পর্যন্ত খরচের সুযোগ ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো ‘গ্রেস পিরিয়ড’। অর্থাৎ কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটার পর সঙ্গে সঙ্গে বিল পরিশোধ করতে হয় না। ব্যাংকভেদে গ্রাহকরা ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় পান, যেখানে কোনো সুদ গুনতে হয় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে এটি কার্যত স্বল্পমেয়াদি সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে কাজ করে। ফলে হঠাৎ আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া সহজ হয়। ব্যাংকারদের ভাষ্য, পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্রেডিট কার্ড ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলিত করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বেতনভিত্তিক চাকরিজীবী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি কার্যকর আর্থিক সহায়ক হয়ে উঠছে। বাড়ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন গত এক দশকে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপভিত্তিক আর্থিক সেবা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহারও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৫ কোটির বেশি কার্ড চালু রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যাই প্রায় ৫৪ লাখ। প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঙ্ক ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে সুপারশপ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে। এরপর রয়েছে ইউটিলিটি বিল, ওষুধ, পোশাক, পরিবহন ও সরকারি সেবা খাত। অন্যদিকে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের বড় অংশ যাচ্ছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, যাতায়াত, শিক্ষা এবং খুচরা কেনাকাটায়। বিদেশে বাড়ছে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার এক সময় বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ছিল ক্রেডিট কার্ড। তবে এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ডুয়াল কারেন্সি ডেবিট কার্ডও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দেশে টাকা জমা দিলেই বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীরা সহজে কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন। পাশাপাশি ডেবিট কার্ডে সুদের ঝুঁকি না থাকায় অনেকেই এখন এদিকে ঝুঁকছেন। নিরাপত্তায় আসছে নতুন প্রযুক্তি ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াতির ঝুঁকিও বাড়ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করছে। সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড চালু করেছে মাস্টারকার্ড ও প্রাইম ব্যাংক। এই কার্ডে দৃশ্যমান কোনো কার্ড নম্বর, সিভিভি বা মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য থাকবে না। সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে মোবাইল অ্যাপে। এ ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক এখন ওটিপি, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা, অ্যাপভিত্তিক কার্ড নিয়ন্ত্রণ, তাৎক্ষণিক কার্ড ব্লক এবং রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নতুন নীতিমালায় নির্দেশ দিয়েছে, কার্ড হারানো বা জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের হয়রানি করে ঋণ আদায় করা যাবে না। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডেও বাড়ছে আগ্রহ দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের চাহিদাও বাড়ছে। এসব কার্ডে প্রচলিত সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ বা উজরাহ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখেও আধুনিক ডিজিটাল আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামিক কার্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ার এটিও একটি কারণ। শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কার্ড এখন শুধু চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীরাই নন, শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও বিশেষ ধরনের কার্ড চালু করছে ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি সাউথইস্ট ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভিসা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে। এতে অভিভাবকের গ্যারান্টিতে শিক্ষার্থীরা কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসহ বিশেষ কার্ড দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক। এসব কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি সফটওয়্যার, ক্লাউড সার্ভিস, অনলাইন সাবস্ক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজে করা যাচ্ছে। সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে এটি আর্থিক চাপের কারণও হতে পারে। কারণ নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে উচ্চ সুদ যোগ হয় এবং দেনা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শুধুমাত্র ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ দিয়ে দীর্ঘ সময় বকেয়া রাখলে সুদের বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত খরচ না করা, সময়মতো বিল পরিশোধ, ওটিপি বা পিন কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং নিয়মিত স্টেটমেন্ট যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সচেতন ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্রেডিট কার্ড শুধু একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানি লন্ডারিং,বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন,ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে দুবাইতে ব্যবসা,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান,ফ্লাট,বাড়ি ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানোর অভিযোগ রয়েছে। তানভির আহমেদ নামে এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে দুর্নীতি দমন কমিশন নোটিশ প্রদান করেছেন সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে। বিদেশে অর্থ পাচারকারী অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃদ্বে সরকারি ১১ সংস্থার নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছিল। বিদেশে অর্থ পাচারকারী শিল্পগ্রুপের মধ্যে খান সন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের নাম সর্বাগ্রে চলে আসে। অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে জুলিয়া রহমানের নামও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন,শুধু ব্যাংক খাত থেকে গত ১৫ বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ২ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ধনকুবেররা এ পাচারকাণ্ডে জড়িত। এছাড়া দেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ বছরে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের নামও। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনা ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন প্রতিনিধি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) একজন করে প্রতিনিধি টাস্কফোর্সের সদস্য হিসাবে কাজ করছেন। টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিত করা ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা দেওয়া, পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও তা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ, জব্দ বা উদ্ধারকৃত সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় করা। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে কোনো সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞকে সভায় উপস্থিত হওয়াসহ বিশেষজ্ঞ মতামত/পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করতে পারবে। অর্থ পাচারকারী হিসাবে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট চিহ্নিত জানা যায়, সন্দেহভাজন মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারকারী হিসাবে টাস্কফোর্স সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ১০/১২টি শিল্প গ্রুপ ও একক ব্যক্তি হিসাবে সাবেক একজন সাবেক মন্ত্রীকে চিহ্নিত করেছে। তালিকার আছে ব্যাংকখেকো হিসাবে আলোচিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রের ছায়ায় থাকা এস আলম গ্রুপ, এস আলমের আশীর্বাদপুষ্ট রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের নেতা নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপ, প্রয়াত কাজী সাহেদের জেমকন গ্রুপ, শিকদার গ্রুপ, বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় লোপাটকারী সামিট গ্রুপ,বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এবং ওরিয়ন গ্রুপ। জুলিয়া রহমানকে দুদকের নোটিশ প্রদান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যানকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে।নোটিশে দেশ ও বিদেশে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নগদ অর্থসহ সহায় সম্পদের হিসেব দিতে বলেছে।এছাড়া নিজের, সন্তান ও নির্ভরশীলদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব, আয়কর রিটার্ন, ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ,অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক থেকে পাঠানো এক নোটিশে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়। অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন দুদকের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জন,হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে অনুসন্ধানে নামে দুদক। সম্পদের নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন । এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে। তাই নোটিশে জুলিয়া রহমান,তার তিন সন্তান, নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান বারমুডা থেকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দিয়ে তার মেয়েসহ নাগরিত্ব গ্রহন করেছেন।। বিদেশে যেভাবে অর্থ পাচার : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ও তার সন্তান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার,লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট,আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় দুদকের এক কর্মকর্তা জানান,কিভাবে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্পোরেট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,দুদকের জাল থেকে বের হওয়াটা সহজ হবেনা।তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন একটি চলমান লাভজনক প্রতিষ্ঠান কিভাবে ধুকে ধুকে বন্ধের পথে যাচ্ছে তা ভাবা মাত্র শরীর শিউরে উঠে। ব্যাংক লোন দিতে নাজেহাল অবস্থা অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড ও অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডের কাছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ৬ শত কোটির বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক,উত্তরা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের পাওনা রয়েছে আরো শত কোটি টাকা। অলিম্পিক ফাইবার এক মাস যাবৎ বন্ধ ব্যাংকগুলোতে ঋনের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। ইতিমধ্যে অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেড প্রায় এক মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ দু মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সূত্রের দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আয়কর ও ট্যাক্স ফাঁকির পাশাপাশি অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব:টিআইবি টাকা পাচার প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা ব্যাংক খাত ও বাণিজ্যের আড়ালে প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। যে দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে আইনি চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। দুই বছরের মধ্যে যদি কোনো টাকা ফেরত আসে, তাহলে সেটাও বড় অর্জন হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি দৃষ্টান্ত আছে। ২০০৭ সালে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় দুদক। পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯৩০ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান,পিএস নিলুফা ইসলাম, পিএস জুয়েল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য কল দেয়া হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি কল রিসিভ না করার কারনে। দুর্নীতি ও অর্থ-আত্মসাতে আরো যারা জড়িত এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হবে শিঘ্রই। চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে......
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট সামনে আসতে শুরু করে। একের পর এক তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে, যা আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমসহ রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এক ডজনেরও বেশি ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের বড় অংশেই খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ, আতঙ্ক এবং আস্থাহীনতা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি আংশিকভাবে স্থিতিশীল হয়। তবে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই আইনের আওতায়, পূর্বে একীভূত বা পুনর্গঠনের আওতায় আসা ব্যাংকের পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অর্থ ফেরত, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানতকারীদের দায় পরিশোধ, কর পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সরকারের দেওয়া অর্থের অন্তত ৭.৫০ শতাংশ পে-অর্ডার হিসেবে জমা এবং বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে সুদসহ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বিধান বাস্তবে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় ব্যাংক খাতে ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকার এক গ্রাহক মুনিরা শাহরিন বলেন, নতুন আইনের খবর শুনে তিনি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন। অতীতে টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রুবেল নামের আরেক গ্রাহক। তিনি বলেন, আগে একীভূত হওয়া একটি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রেখেছিলেন, কিন্তু টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। নতুন করে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি তার আমানত তুলে নিচ্ছেন। এস আলম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবস্থা এস আলম গ্রুপ–এর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ~৯৬.২০% সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ~৭০.১৭% ইউনিয়ন ব্যাংক: ~৯৬.৬৪% গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ~৯৫.৭০% বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ~৫১.৬৫% ন্যাশনাল ব্যাংক: ৫২% এর বেশি অন্যদিকে, দেশের বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল ভুয়া এলসি (লেটার অব ক্রেডিট)। অভিযোগ রয়েছে, পণ্য আমদানির নামে এলসি খুলে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু বাস্তবে পণ্য দেশে আনা হয়নি। বিশেষভাবে আলোচিত একটি ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার পর তা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। এছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করেও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত আইনগুলো একদিকে সংস্কারের সুযোগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনঃপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি—বরং নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলা, রপ্তানিমুখী শিল্পে স্বল্পসুদের ঋণ চালু এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে অগ্রাধিকারমূলক নীতিগত উদ্যোগের ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি ফিরছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা চলছে। সরকারের ভাষ্যমতে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম দ্রুত করা হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলার দাবি ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় সংকট নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়। ফলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়নি—এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব উৎপাদন খাতে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। রপ্তানি খাতে নতুন ঋণ সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ধ থাকা প্রি-শিপমেন্ট ঋণ পুনরায় চালু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ১০ হাজার কোটি টাকার একটি রপ্তানি সহায়ক তহবিল থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ২ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারবে। রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের আগের ব্যয় মেটাতে এই ঋণ ব্যবহৃত হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতে দীর্ঘদিনের পুঁজি সংকট কিছুটা কমবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে। শিল্প পুনরায় চালুর পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে স্বল্পসুদের ঋণ সহায়তার জন্য একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একটি ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বন্ধ কারখানা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তার বিষয়ে সুপারিশ দেবে। কৃষি ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে। ফল, দুগ্ধ, খাদ্য ও পোলট্রি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় কারণেই তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগগুলো পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
শীর্ষনিউজ: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে শীর্ষ পদে নিয়োগকে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আবুল বাশারের নাম। একাধিক গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্ন, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, এমনকি আলোচিত একটি গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন- এমন আলোচনা ব্যাংকপাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্যাংকের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা, সাবেক প্রশাসনিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল বাশার আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, পদায়ন, বদলি এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার মানদণ্ড আদৌ কতটা কার্যকর? রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগে নতুন বিতর্ক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিগত সরকারের সময় রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাংকিং খাতেও রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় অনেক কর্মকর্তা নিজেদের ‘অতি আওয়ামী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় নামেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল বাশার ছিলেন এই ধারার অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিনি শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেই নন, বরং একটি রাজনৈতিক বলয়ের কেন্দ্রীয় মুখ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের ভেতরে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যা পদোন্নতি থেকে শুরু করে সংবেদনশীল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলত। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“ব্যাংকের ভেতরে কার কোথায় পোস্টিং হবে, কে পদোন্নতি পাবে, কে প্রশাসনিক সুবিধা পাবে- এসব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের প্রভাব ছিল। সেই বলয়ের কেন্দ্রে আবুল বাশারের নামই বেশি উচ্চারিত হতো।” আন্দোলনবিরোধী অবস্থান ও ‘লাল প্রোফাইল’ আতঙ্ক ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ব্যাংকের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থানের অভিযোগও উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “লাল প্রোফাইল” ব্যবহারকারী বা সরকারবিরোধী মনোভাব আছে বলে সন্দেহ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের মতপ্রকাশে সংযমী হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থনে প্রকাশ্য মিছিলে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন করা হয়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডে উচ্চপর্যায়ের নীরব সমর্থন ছিল। গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় নাম, তবু এমডি পদে দৌড়ে? সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো- জুলাইয়ের গণহত্যা-সংক্রান্ত একটি মামলায় নাম থাকা সত্ত্বেও আবুল বাশারের নাম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে আলোচনায় রয়েছে। জানা গেছে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সিআর-১৭৬ নম্বর মামলায় তিনি ৬৮ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। এমন একটি গুরুতর মামলায় নাম থাকার পরও তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বিবেচনা করা হলে তা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। ব্যাংকিং খাতের এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন,“রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগের আগে নৈতিক যোগ্যতা, আইনি অবস্থান এবং প্রশাসনিক সততার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। সেখানে এ ধরনের অভিযোগ থাকা ব্যক্তি যদি দৌড়ে এগিয়ে থাকেন, তা উদ্বেগজনক।” ‘খাম বাশার’ উপাধি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরে আবুল বাশারকে “খাম বাশার” নামে ডাকা হয়- এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সূত্রগুলোর দাবি, এইচআর বিভাগের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এবং পদোন্নতি কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। বিশেষ করে ২০২৪ সালে এজিএম পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিতদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন, “যোগ্যতা নয়, কে কতটা প্রভাবশালী বা কার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছে—এসবই যেন তখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” এ ধরনের অভিযোগ ব্যাংকের মেধাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বদলি-নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্তৃত বলয় অভিযোগ রয়েছে, বদলি ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল। ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পদায়ন, জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক বদলিতে তার প্রভাব ছিল বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকপাড়ায় এখন আলোচনা- রং বদলালেও প্রভাবের ধরন বদলায়নি। অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মীয়-স্বজনের নামে খোলা হিসাব ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা হতো। যদিও এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। অন্যদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতো। নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলোর একটি হলো নারী নিপীড়ন ও অশোভন আচরণের অভিযোগ। ব্যাংকের একাধিক নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তার আচরণে তারা নিরাপদ বোধ করেন না। অনেকেই অফিসিয়াল কাজেও তার কক্ষে একা যেতে ভয় পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী কর্মকর্তা বলেন,“আমরা অনেকে প্রয়োজন ছাড়া তার কক্ষে যাই না। অফিসের ভেতরেও অস্বস্তি কাজ করে।” এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনৈতিকতার বিষয় নয়, বরং কর্মপরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে আনে। ৫ আগস্টের পরও সক্রিয় প্রভাব বলয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও আবুল বাশার তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে নতুন বলয় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, এই বলয়ের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদায়ন এবং কর্মকর্তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নিরপেক্ষতা ও সুশাসনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতগুলো বহুমাত্রিক অভিযোগের পরও যদি তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বিবেচনা করা হয়, তবে তা নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা সংকট তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত জরুরি। শুধু প্রশাসনিক অনুসন্ধান নয়, প্রয়োজনে আর্থিক ও নৈতিক আচরণ সংক্রান্ত পৃথক তদন্ত হওয়া উচিত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সেখানে শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বা বিতর্কিত ব্যক্তির উত্থান গোটা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএমডি হিসেবে প্রমোশন উদযাপন অফিসিয়াল কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও অতি উৎসাহি হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেয়ার জন্য টুঙ্গিপাড়া মুজিবের মাজারে ফুল দেয়ার জন্য যায়। শুধু ফুল দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ফুল দেয়ার ছবি ও ভিডিও তা আবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয় নিজের অতি উৎসাহী আওয়ামীলীগ প্রমাণ করার জন্য। অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি আবুল বাশারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে এনেছে। গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় নাম, ঘুষ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, নারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ- এসবের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া শীর্ষ পদে তার নাম আলোচনায় থাকা ব্যাংকিং খাতের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাদের হাতে যাবে- এ প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, জনআস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, মিলনমেলা এবং ছোটদের জন্য অধীর অপেক্ষার একটি মুহূর্ত—সালামি পাওয়া। বহুদিন ধরে আমাদের সমাজে ঈদের দিন ছোটরা বড়দের সালাম করে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে অর্থ বা উপহার পেয়ে থাকে, যা পরিচিত ‘ঈদ সালামি’ বা ‘ঈদিয়া’ নামে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নগদ টাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সালামি’ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাচ্ছে সালামি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেকেই এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সালামি চান। অন্যদিকে বড়রাও বিকাশ, রকেট, নগদ বা উপায়-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তেই সালামি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির বিস্তার দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। আগে প্রবাসে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে সালামি পাওয়া কঠিন ছিল, এখন তা কয়েক সেকেন্ডের বিষয়। মহামারির পর ডিজিটাল লেনদেনের উত্থান বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১০-১১ সালের দিকে। তবে ২০১৫ সালের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় ডিজিটাল লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময় থেকেই পারিবারিক আর্থিক লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়—যার প্রভাব এখন ঈদের সালামিতেও স্পষ্ট। এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “ডিজিটাল সালামি সহজ এবং নিরাপদ। তবে নতুন টাকার যে অনুভূতি ছিল, সেটা এখন আর পাওয়া যায় না।” নতুন টাকার সংকট, বাড়ছে বিকল্প ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি, ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান: ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ টাকা ২০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৫০ টাকা ১০০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত ৭০০–৮০০ টাকা পর্যন্ত বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোট ছাপাতে উচ্চ ব্যয় এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিই এর পেছনে কাজ করছে। সালামি আদায়ে নতুন কৌশল ঈদে সালামি পাওয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে নানা কৌশল দেখা যায়। আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে সালাম ঈদের নামাজ শেষে বড়দের সঙ্গে দেখা দলবদ্ধভাবে সালামি সংগ্রহ অফিস সংস্কৃতিতেও রয়েছে আলাদা রীতি—ছুটির আগে কনিষ্ঠরা অগ্রজদের কাছ থেকে সালামি নেন। নতুন ট্রেন্ড: ‘সালামি তোড়া’ ঐতিহ্যবাহী সালামির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্রেন্ড—টাকার নোট দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া। অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন: মেকিং চার্জ: ৩০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা নোটের পরিমাণ ও ডিজাইনের উপর নির্ভর করে খরচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। ইতিহাসে ঈদের শিকড় ঈদের দিনে উপহার দেওয়ার প্রথা নতুন নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ‘ঈদিয়া’ প্রথার সূচনা মিসরের ফাতেমীয় আমলে (দশম শতক)। সে সময় শাসকরা: সাধারণ মানুষকে অর্থ ও কাপড় দিতেন শিশুদের উপহার দেওয়া হতো ধীরে ধীরে এটি মুসলিম সমাজে সাংস্কৃতিক রীতিতে পরিণত হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আলেমদের মতে, ঈদ সালামি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, তবে বৈধ। একজন আলেমের ভাষায়: এটি ইবাদত নয়, সামাজিক প্রথা উপহার আদান-প্রদান ভালোবাসা বাড়ায় ছোটদের আনন্দ দেওয়া একটি প্রশংসনীয় কাজ ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সহাবস্থান বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে রীতির পরিবর্তন স্বাভাবিক। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, ফলে ঐতিহ্যের প্রকাশভঙ্গিও বদলাচ্ছে। এক সময় নতুন টাকার গন্ধ ছিল সালামির আকর্ষণ। এখন সেই জায়গায় এসেছে ডিজিটাল লেনদেন—তবে মূল চেতনা একই: 👉 ভালোবাসা ভাগাভাগি 👉 সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা সময়ের সঙ্গে সালামির ধরন বদলাচ্ছে—নগদ থেকে ডিজিটাল, খাম থেকে মোবাইল অ্যাপ, এমনকি টাকার তোড়া পর্যন্ত। তবে ঈদের আসল সৌন্দর্য এখনও এক জায়গায় অটুট— প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর প্রক্রিয়ার সময় তার উপদেষ্টা ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘মব’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বের করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা সূত্রপাত হয় মনসুরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তাদের অসন্তোষ এবং প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিস্থিতি গভর্নর থাকার সময় মনসুরের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কয়েকজন কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন গভর্নর তিনজন কর্মকর্তাকে বদলির নোটিশ দেন। অভিযোগ, প্রতিবাদ সভার একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তারা মনসুরের পিএস ও অন্য দুই কর্মকর্তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধাক্কা, বাঁধা, অশ্লীল ভাষার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বের করা হয়েছে। পরে নতুন গভর্নর নিয়োগের পর তিন কর্মকর্তার বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সাবেক গভর্নরের পিএস কামরুল ইসলামকে হেড অফিস থেকে সদরঘাট শাখায় বদলি করা হয়েছে। বরিশালে আদালতে বিশৃঙ্খলা বরিশাল জেলা আদালতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের জামিন দেয়ায় হট্টগোল এবং আদালতের এজলাসে ঢুকে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লিংকনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। হাইকোর্টও ওই ঘটনায় মামলার পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এবং ১১ মার্চ শুনানির জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে হামলা ও ভাঙচুর বরিশালের ঘটনায় মানববন্ধন পালনকারী আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের কক্ষে হামলা চালানো হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বাসসেও অস্থিরতা নতুন সরকারের শপথের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসে অস্থিরতা দেখা দেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে সরানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, কর্মকর্তারা মব সৃষ্টি করে তাকে সরানো হয়। বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মন্তব্য অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “মবের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সরকার এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।” মানবাধিকার কর্মী সাইদুর রহমান উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল আদালত, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কক্ষে হামলা—সবই মবের অন্যরূপ।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সরকারকে মব প্রতিরোধে সতর্ক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বরিশালের ঘটনায় আইন প্রয়োগের উদাহরণ অন্য ক্ষেত্রেও অনুসরণীয়। মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এই ধরনের ঘটনার বৃদ্ধি এবং আইনের দ্রুত প্রয়োগে তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আইনগত পদক্ষেপই মব নিয়ন্ত্রণে মূল চাবিকাঠি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার। দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ১৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের নিকট সুদসহ মোট পাওনা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এই অর্থই ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত সরকারি হিসেবে, এ ঋণ মওকুফ কার্যকর হলে আনুমানিক ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে করে— কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে চাষাবাদে মনোনিবেশ করতে পারবেন। কিস্তি পরিশোধে ব্যয় হওয়া অর্থ উন্নতমানের বীজ, সার ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ঋণের চাপ কমায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি খাতে কর্মস্পৃহা বাড়বে। ক্রেডিট রেকর্ড উন্নয়ন ও মহাজনী ঋণ নির্ভরতা কমবে ঋণ মওকুফের ফলে কৃষকদের ব্যাংকিং ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে। এর মাধ্যমে তারা পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় মহাজনী উচ্চসুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে, যা দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে। জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা হ্রাস বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন কমার সম্ভাবনা অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের বোঝা কমলে গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে। এর ফলে গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন হ্রাস পেতে পারে এবং গ্রামীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপও কমতে পারে। অতীতেও ছিল এমন উদ্যোগ উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। সে সময় এই পদক্ষেপ কৃষকদের আর্থিক কষ্ট লাঘব এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।
ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মোস্তাকুর রহমানকে। মো. মোস্তাকুর রহমান একজন যোগ্যতাসম্পন্ন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ)। দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি হিসাবরক্ষণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স সংশ্লিষ্ট খাতে কাজ করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর হিসাবরক্ষণ বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অফ বাংলাদেশ (এটিএবি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)–সহ বিভিন্ন পেশাদার ও শিল্প সংগঠনের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে অভিজ্ঞতা তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড–এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারণী পরামর্শ এবং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে তার নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বেঁধে দেওয়া ঋণসীমা অমান্য করে অতিরিক্ত হারে ঋণ বিতরণের কারণে দেশের বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে। আগ্রাসী ঋণ বিতরণ নীতির ফলে এসব ব্যাংক এখন ঋণ আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে। সময়মতো ঋণ আদায় না হওয়ায় বাড়ছে খেলাপি ঋণ। একই সঙ্গে ইমেজ সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না আমানত প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ঋণসীমা অমান্য করছে কারা? প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি খাতের ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ঋণ বিতরণ করছে। তবে বেসরকারি ও শরিয়াভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকগুলো ঋণসীমা মানছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী— সাধারণ ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে। ১৩ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত (Statutory Reserve) হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে মোট আমানতের ৯.৫ শতাংশ বিধিবদ্ধ আমানত রাখতে হয়। বাকি ৯০.৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে বিতরণ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ বেসরকারি ও ইসলামি ব্যাংক এই সীমা অতিক্রম করেছে। চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী— বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: মোট আমানতের গড়ে ৯৪.১০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১১.১০ শতাংশ বেশি। ইসলামি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক: মোট আমানতের তুলনায় ১২১.৮০ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। যা সীমার চেয়ে ৩১.৩০ শতাংশ বেশি। অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে এসব ব্যাংক অন্য ব্যাংক ও বন্ড মার্কেট থেকে ধার করেছে—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ বেআইনি। কেন বাড়ছে তারল্য সংকট? ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী, দৈনন্দিন গ্রাহক লেনদেন নিষ্পত্তির জন্যও নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ নিজস্ব রিজার্ভে রাখতে হয়। কিন্তু সীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণের ফলে— নগদ তারল্য কমে গেছে আমানতকারীদের আস্থা কমেছে আন্তঃব্যাংক নির্ভরতা বেড়েছে সময়মতো ঋণ আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দখল ও লুটপাটের অভিযোগ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দখল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। শুধু ইসলামি ব্যাংক নয়, বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংকেও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সম্ভাব্য প্রভাব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে— তারল্য সংকট আরও তীব্র হবে নতুন ঋণ বিতরণ সীমিত হয়ে যেতে পারে আমানতকারীদের আস্থাহীনতা বাড়বে আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঋণসীমা কঠোরভাবে মানা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দখলদারিত্ব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতির পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায়ও তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক তৎপরতা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকার প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। নির্বাচনি প্রচার, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের নানা ব্যয় মেটাতে প্রার্থীদের বড় একটি অংশ ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পথে হাঁটছেন— যার স্পষ্ট প্রতিফলন মিলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসে— ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ দুই মাসেই নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে নগদ টাকা উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রার্থীরা প্রচার ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থ ব্যবহার করছেন বলেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বড় ও সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে এসব লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ উল্টো স্রোত এই নগদ প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগের কয়েক মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই অঙ্ক প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচনি ব্যয়ের কারণেই হঠাৎ এই উল্টো স্রোত তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। কালোটাকার আশঙ্কা ও নজরদারি নগদ টাকার এই দ্রুত বিস্তার কালোটাকার ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে। সে কারণেই বিএফআইইউ নির্বাচন সামনে রেখে নজরদারি জোরদার করেছে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনও হিসাবে একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) আকারে জমা দিতে হচ্ছে। রেমিট্যান্সে জোয়ার নির্বাচনের আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক— রেমিট্যান্সে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক প্রবণতা। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু জানুয়ারিতেই এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। ডলার কিনে টাকার তারল্য রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ ভালো থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এতে টাকার বাজারে তারল্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। ডিজিটাল লেনদেনে কড়াকড়ি নির্বাচনের আগে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে নগদ অর্থের এই অদৃশ্য দাপট গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কঠোর নজরদারি ও ভোটারদের সচেতনতাই পারে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।