ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মোংলার একটি আবাসিক হোটেলে এক নারী এনজিও কর্মীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণের অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—হোটেলটির ম্যানেজার মো. মহসীন (৪০) ও কর্মচারী বনি আমিন (২৩)। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। পুলিশ জানায়, পেশাগত কাজে মোংলায় এসে মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে অবস্থান নেন এক নারী এনজিও কর্মী। রাতের একপর্যায়ে তিনি তার কক্ষের বাথরুমে গোসল করছিলেন। এ সময় পাশের একটি বাথরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁকা অংশ দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার গোসলের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী চিৎকার করলে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়। পরে তিনি ওই রাতেই থানায় গিয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতেই হোটেলটিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তথ্য-প্রমাণসহ ম্যানেজার মো. মহসীন ও কর্মচারী বনি আমিনকে আটক করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, মামলার বাকি আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের সদর উপজেলার ১০নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চুরিকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ আলম চুন্নুর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সম্পদ চুরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নুর পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠরা এই অর্থনৈতিক সুবিধার অংশীদার হয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে ইউনিয়নের অন্তত দুইটি গ্রামের কিছু অংশ জড়িত রয়েছে। দিনের পর দিন মাটির নিচে ও পানির নিচ থেকে ক্যাবল কেটে বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। একই সঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর অভিযান না থাকায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যদিও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেনি, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত বছর ক্যাবল চুরির ঘটনায় একটি মামলা (মামলা নং-৪, জিআর ১৪৬/২০২৬) দায়ের করা হয়, যেখানে দণ্ডবিধির ৩৭৯/৪১১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলার অগ্রগতি ধীর এবং বেশিরভাগ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, মামলার কয়েকজন আসামি বর্তমানে এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এবং বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গলাচিপার অন্ধকার রাত।এক নারীর নীরবতা, এক পরিবারের গোপন অপরাধ, আর একটি নবজাতকের হারিয়ে যাওয়া—যে গল্প এখনো শেষ হয়নি।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আটখালী গ্রাম। চারদিকে শান্ত পরিবেশ, নদীর বাতাস, আর সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু এই নীরবতার ভেতরেই দীর্ঘ এক বছর ধরে জমছিল এমন এক ঘটনা, যা এখন পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনা কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুরসহ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে খেই হারিয়ে ফেলার দাবি করেছেন থানার ওসি। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী (৬০)। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর ওই নারী গত ২৬ মার্চ গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর তিনি গলাচিপা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী ও নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে বেসরকারি ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান নবজাতক উদ্ধার ও দুজন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি অভিযুক্তরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টাও করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস পর গত রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ করার পর ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিরাপত্তার জায়গাতেই শুরু ভয় তিনি একজন প্রবাসীর স্ত্রী। স্বামী ওমানে থাকেন, আর সেই সুযোগে শ্বশুরবাড়িই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু অভিযোগ বলছে—সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে তার জন্য ভয়ংকর এক ফাঁদ। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিনই প্রথম তাকে ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর, মো. রুস্তুম গাজী। একবার নয়—এরপর বারবার। নিয়মিত নির্যাতন চলতে থাকে, আর প্রতিবারই বাড়তে থাকে তার অসহায়ত্ব। তিনি চুপ ছিলেন। কারণ? ভয়, লজ্জা, আর সমাজের চাপ—যা অনেক সময় অপরাধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গর্ভধারণ: গোপন সত্যের প্রকাশ সময় গড়ায়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন—তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এখানেই ঘটনা মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর শ্বশুরের পাশাপাশি শাশুড়ি ও ননদ মিলে চেষ্টা করেন ঘটনাটি চাপা দিতে। গর্ভপাত করানোর চেষ্টাও করা হয়—কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এটি শুধু একটি অপরাধ ঢাকার চেষ্টা নয়—এটি একটি সংগঠিত নীরবতা, যেখানে সত্যকে মুছে ফেলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ক্লিনিকের ভেতরে আরেক রহস্য ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ তাকে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কারণ দেখানো হয় চিকিৎসা। সেখানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় একটি ছেলেসন্তানের। একটি নতুন জীবনের শুরু—কিন্তু সেটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরদিনই নবজাতকটি নিখোঁজ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে— একটি নবজাতক কীভাবে একটি ক্লিনিক থেকে “অজান্তে” হারিয়ে যায়? এক মাস পরে বিস্ফোরণ ঘটনার প্রায় এক মাস পর থানায় মামলা করেন ওই নারী। এই দেরি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। পুলিশও বলছে—ঘটনার অনেক দিক এখনো অস্পষ্ট। এই এক মাসে কী ঘটেছিল? • তাকে কি চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল? • নাকি ভয় এতটাই গভীর ছিল যে মুখ খুলতে পারেননি? পুলিশের অভিযান অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। আটক করা হয়— • প্রধান অভিযুক্ত শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী • ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগম পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান, এবং আরও জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে। গলাচিপা থানার ওসি স্বীকার করেছেন— তদন্তে এখনো কিছু জায়গায় “খেই হারিয়ে যাচ্ছে” এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দেয়—ঘটনাটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক জটিল হতে পারে। ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও বাচ্চা অপহরণে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’ এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সে ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দরবারের প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দরবারের আরও তিন ভক্ত—মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ আছর স্থানীয় কবরস্থানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখনো মামলা হয়নি ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের বড়ভাই ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, পারিবারিক আলোচনা শেষে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। হামলার কারণ কী? স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালায়। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ নিহতের পরিবার ও অনুসারীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হামলা। পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে উত্তেজনা তৈরি করা হয় এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। আগের বিতর্ক জানা যায়, ২০১৮ সালে নিজ বাড়িতে দরবার প্রতিষ্ঠা করেন শামীম রেজা। ২০২১ সালে একটি শিশুর লাশ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দাফনের ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছিল এবং তিনি কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান। প্রশাসনের বক্তব্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও জনতার তুলনায় সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে জর্দা কোম্পানীর কর্মচারী রুবীনা বেগমের দায়ের করা একটি ধর্ষন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বাদী ও তার কন্যা সন্তানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মিলন মল্লিক, ঝালকাঠি থানার পক্ষ থেকে আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী রুবীনা বেগম (৩৪) ও তার ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে আসামীদের ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বাদী রুবীনা বেগম ঝালকাঠির চাচৈর গ্রামের আশ্রাফুল ইসলামের মেয়ে এবং তিনি শাহী জর্দা কোম্পানীর একজন কর্মচারী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঝালকাঠি সদর থানায় জর্দা কোম্পানীর মালিক শামশুল হক মনু এবং রুবিনার সাবেক স্বামী ফরিদকে আসামী করো মামলাটি দায়ের করা হয়। আবেদনটি শুনানি শেষে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক নওরীন কবির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে বাদী ও তার কন্যার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করতে হবে এবং ডিএনএ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আসামীদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য প্রোফাইল সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিআইডির হেডকোয়ার্টারের ডিএনএ ল্যাবরেটরির ফরেনসিক বিভাগের চিফ ডিএনএ অ্যানালিস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছে আদালত। ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, 'এই ডিএনএ পরীক্ষা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সত্য উদঘাটনে সহায়ক হবে। শিঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপ নেযা হবে।'
রাজধানীর আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক্স (সাবেক টুইটার)–এ প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। ওই সফরের সময় হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা নিয়েও পদক্ষেপ বাংলাদেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ বিষয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান ও সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। যেভাবে হত্যাকাণ্ড গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তের অগ্রগতি হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলায় ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে ভারতে আটক ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন ও ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) নম্বর সংগ্রহ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। রাজশাহীতে অভিযান সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এলআইসি শাখার অ্যানালাইসিস ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত সোমবার পবা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। যেভাবে চালানো হতো প্রতারণা তদন্তে জানা গেছে, মোবারক-সুলতানা দম্পতি তাদের বাড়িতে যাওয়া ভিক্ষুকদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে তাদের সিমকার্ড ও এমএফএস নম্বর সংগ্রহ করত। পরে সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিদের ফোন দেওয়া হতো। প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের জানাত— তাদের মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর জন্য দেওয়া হতো ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর। ভুক্তভোগী কেউ কণ্ঠস্বর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে প্রতারকরা বলত, ঠান্ডা লাগা বা দুর্ঘটনার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। টাকা পাওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত। সুইডেন প্রবাসীর পরিচয়ে প্রতারণা এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সুইডেন প্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে তার মাকে ফোন করা হয়। প্রতারক জানায়, সুইডেন থেকে দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন। চিকিৎসার খরচের কথা বলে একটি এমএফএস নম্বর দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান। পরে মেয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ এপ্রিল গোমস্তাপুর থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যা পরবর্তীতে মামলায় রূপ নেয়। সতর্ক থাকার আহ্বান সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অচেনা নম্বর থেকে আত্মীয় পরিচয়ে জরুরি অর্থ চাওয়া হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের সিমকার্ড ও এমএফএস নম্বর অন্যের কাছে হস্তান্তর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।