মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: একজন পরিচিত, বিনয়ী এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানুষ—নজরুল ইসলাম বাচ্চু । তবে তার জীবনের শেষ কয়েক বছর এবং মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, যার উত্তর আজও অজানা। স্থানীয়দের কাছে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর, মৃত্যু সংবাদ হয়ে ফিরে আসেন তিনি—একেবারে নীরবে। বরিশালে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন নজরুল ইসলাম বাচ্চু ।এতটাই ভালো ছিলেন তাই তাকে বাংলাবাজার মোড়স্থ মসজিদের কোষাধ্যক্ষ বানিয়েছিলেন মুসুল্লীরা। ২০১৯ এর পর তাকে বরিশালের অনেকেই দেখতে পায়নি।মৃত্যু হয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বরিশালে।তবে দু' দিনের জন্য এসেছিলেন। ঘুরেছেন রিকসায়।এটাই ছিল তার শেষ দেখা বরিশালের। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বসুন্ধরা ট্রেডার্স।এক সময়ে পুলিশ লাইন রোডে ছিল। পরে পলিটেকনিক রোডে। বাসা ব্যাপটিস্ট মিশন রোডে।সাড়ে চার তলা ভবন সৈয়দ ভিলা। নজরুল ইসলাম বাচ্চু চলে গেলেন নিরবে নিস্তব্ধে তবু রেখে গেছেন হাজারো প্রশ্ন। হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর কখনোই জানবেনা কেউ। বাচ্চুর পরিবার ও শশুর বাড়ির লোকজন আড়ালে রেখেছিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।এমনকি মাত্র তিন থেকে চার মিনিট বাবুর মৃত্যু দেহ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল এলাকার লোকজনের দাবীর মুখে। বাচ্চুর মৃত্যু একটা রহস্যজনক! নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যুর পর তার বন্ধু আকরাম আলী শোক সংবাদ নামে একটি পোষ্ট করেন। সেখানে বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারন করেন। পোস্টের কমেন্টে - সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নামে একজন কমেন্ট করেন। তিনি কমেন্টে উল্লেখ করেন "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।অনেক ব্ছর পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল। রহস্যজনক। "। একই পোষ্টে নিপু সরদার নামে একজন " ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাচ্চুর মৃত্যু একটা রহস্য। বন্ধু তো ছিলই তাছারা আমি ছিলাম ওর দোকানের রেগুলার কাস্টমার কিন্তু ৪/৫ বছর অনেক চেষ্টা করেও ওর সাথে দেখা করতে পারি নাই। " কমেন্ট করেন। তানজিল নামে একজন কমেন্টে উল্লেখ করেন" আপনি অনেক গুরত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং আচরণ তুলে ধরেছেন। তার ঐ ব্যাবসার মালিকানা এখন কার হয় দেখার বিষয়।" এভাবে অনেকেই কমেন্ট করেছেন। একটি মৃত্যু অনেক প্রশ্ন একটি মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন।সেই যে এয়ারএ্যাম্বুলেন্সে গেলেন মাঝে দু'দিন ছাড়া আর বরিশালে ফিরে নাই।নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মা ও বাবা পক্ষের কেউ নেই।বন্ধু ও সহপাঠিদের থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল তাকে।কোথায় ছিলেন ঢাকায়। সেই ঠিকানাও কাউকে দেয়া হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে।এমন অভিযোগ বাচ্চুর বন্ধুদের। ব্যাপটিস্ট মিশন রোডের সৈয়দ ভিলা এখন নিরব।নিস্তব্ধ।নেই কোলাহল। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে সহায় সম্পত্তির কারনে? বাচ্চুর মুত্যু রহস্যের জট না খুললেও তার বন্ধুদের ধারনা তাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে সহায় সম্পত্তির কারনে।তাদের একটাই বড় প্রশ্ন বাচ্চুর সহায় সম্পদই কাল হয়েছে। আজ ৩০ এপ্রিল বাদ আসর বাচ্চুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বাংলাবাজার জামে মসজিদে। বাচ্চু ছিলেন একজন ভালো বাস্কেট খেলোয়ার। জিলা স্কুল থেকে বিএম কলেজ। সবখানেই তার সুনাম ছিল।তার সহপাঠীদের মধ্যে বর্তমান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি,ভোলার নাজিম উদ্দিন আলম,কুয়াকাটার আলম, বোর্ড ক্লাবের নাসিরসহ অসংখ্য সহপাঠি ছিলেন। সকল সহপাঠিদের একটাই মন্তব্য বাচ্চু ভালো ছিলেন তাই বাচ্চু কে " ভালো " নামে ডাকা হত। আপাদমস্তক একজন ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মানুষ।বরিশালের সু-পরিচিতদের একজন। শেষ দেখা, শেষ স্মৃতি স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর আগে মাত্র দু’দিনের জন্য তিনি বরিশালে এসেছিলেন। রিকশায় করে ঘোরাফেরা করেছেন—যা অনেকের কাছেই ছিল তার শেষ দেখা। তারপর আবার নিভৃতে চলে যাওয়া। অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গল্প পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে কার্যত তিনি বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী—সবাইয়ের কাছ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বারবার। এমনকি তার অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পরও গোপনীয়তা নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যুর পরও রহস্য কাটেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার মরদেহ দেখার সুযোগও সীমিত রাখা হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্থানীয়দের দেখার সুযোগ দেওয়া হয়, তাও চাপের মুখে। বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য কারণ নিয়ে জল্পনা বন্ধুদের একটি অংশের ধারণা, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বা পারিবারিক জটিলতা তাকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাকে “তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।” বন্ধুদের প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তার বন্ধু আকরাম আলী লিখেছেন, “বাচ্চু কোথায় ছিল, কেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আর কোনোদিন জানা যাবে না।” অন্যান্য বন্ধু ও পরিচিতজনদের মন্তব্যেও উঠে এসেছে একই ধরনের সংশয় ও বিস্ময়। কেউ কেউ এটিকে “রহস্যজনক মৃত্যু” বলেও উল্লেখ করেছেন। শোক সংবাদ নামে আকরাম আলীর পোষ্ট ২৭ এপ্রিল প্রবাসী আকরাম আলী (Akram Ali) নজরুল ইসলাম বাবুর শোক সংবাদ নামে যে পোষ্ট ফেসবুকে করেছিল তা হুবহু প্রকাশ করা হল- এইমাত্র আমাদের বন্ধু বরিশাল ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের নজরুল ইসলাম বাচ্চু`র মৃত্যু সংবাদ পেলাম। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। মহান আল্লাহ্ বাচ্চুকে ক্ষমা করে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিন। আমিন। বাচ্চু ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমরা বন্ধুরা ছিলাম তাই ওর ভাই-বোনের মতো। শুনেছি, বাচ্চুর মা ছোঁয়াচে রোগ সহ অনেকটা এবনরমাল ছিলেন। আমরা বন্ধুরা কেউ কখনো ওর মাকে দেখিনি। বাচ্চুর মায়ের এই অসুস্থ্যতার কারনে বাচ্চুকে তার মায়ের কাছে যেতে দেননি তার বাবা সৈয়দ সাহেব। মানে বাচ্চু তার মায়ের সঙ্গও পায়নি। বাচ্চুর বাবা সৈয়দ সাহেব পানি উন্নয়নে ক্লারিকাল জব করতেন। তো বাচ্চুর কাছে আমরাই ছিলাম ভাইয়ের মতো। আমরাও সেভাবেই দেখতাম। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাহিরে চলে আসার পরে শুনেছিলাম বাচ্চু এবং কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিকাদারি শুরু করেছিল। এই ঠিকাদারি করতে করতে বাচ্চু পানি উন্নয়নের এসডিই ফজলুর রহমান সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করে বরিশাল পুলিশ হাসপাতালের সামনে তৎকালীন পৌরসভার স্টল নিয়ে বসুন্ধরা ট্রেডারস নাম দিয়ে রড, সিমেন্টের দোকান দিয়ে বসে। তো সে দোকান বাচ্চুর হলেও বাচ্চুর শালা বাপ্পীই বসতো। এভাবেই চলছিল। দেশে গেলে খুব কমই তাকে দোকানে পেয়েছি। যখনই ওর দোকানের সামনে দিয়ে গিয়েছি, উঁচু গলায় ডাক দিতো~ মামা, চা খেয়ে যাও। তবে বেশীর ভাগ সময়ই তার শালা দোকানে থাকতো। বাচ্চুকে দোকানে পেতাম না। বাচ্চুর কথা তার শালাকে জিজ্ঞেস করলে ঠান্ডা নিঃস্পৃহ ভাব দেখাতো। বলতো~ ভাই একটু ব্যাস্ত আছেন। জানামতে, আমাদের কোন বন্ধু কোন সময় বাচ্চুর বাসায়ও যায়নি এবং বাচ্চুও কখনো কাউকে বলেনি বা আগ্রহ দেখায়নি। বাচ্চু সবকিছু কেমন যেন আড়ালে রাখার চেস্টা করতো। ২০১৯ সালে বাচ্চু হৃদরোগে আক্রান্ত হলে এয়ার এম্বুলেন্সে বরিশাল থেকে ঢাকা নেয়া হয়। এই যাওয়াই যেন তার পুরাপুরি আড়াল হয়ে যাওয়া। এরপরে আমরা বন্ধুরা কেউ তার চেহারা দেখিনি, এমনকি যোগাযোগ করতেও পারিনি। মোবাইলে কল দিলে ধরতো না। কল ব্যাকও করতো না। বরিশালে তার দোকানে তার শালা বাপ্পীকে আমাদের বন্ধুরা কেউ জিজ্ঞেস করলে ঢাকা আছেন, ভালো আছেন` এই উত্তর পাওয়া যেতো। এর মধ্যে একবার ঢাকাতে এক বন্ধুর সাথে বাচ্চুর ছেলে মাহাবুবুল ইসলাম শাইকের দেখা হলে সেও তার বাবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়। সেই বাচ্চু আজ মহান আল্লাহ্র ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে। যেখানে সে রেখে গেছে অনেক প্রশ্ন? কি হয়েছিল তার? কেন সে পুরানো বন্ধুদের কারো সাথে যোগাযোগ রাখেনি বা রাখতে পারেনি কিংবা রাখতে চাইতো না? চাইলে এ যুগে কারো সাথে যোগাযোগ করা কি খুব কঠিন কাজ? তাহলে কেন কিসের জন্যে, কার ভয়ে সে কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। জানা মতে তার তেমন কোন দেনা ও ছিলনা। বাচ্চুকে মহান আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে জান্নাত নসীব করুন। আমিন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রসচিবসহ দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কেন্দ্রসচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক খগেন মণ্ডল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি; বরং ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রশ্নপত্র পেয়ে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অনেকে ঠিকভাবে উত্তর লিখতে পারেননি। এতে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া অথবা ফলাফলে বিশেষ বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের গাফিলতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে সংশ্লিষ্টদের এসএসসি পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হাসান বলেন, একটি কক্ষে অনিয়মিত আটজন শিক্ষার্থী ছিল, যারা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। হল সুপার আবু ইউসুফকে ধামুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং সেখানকার হল সুপার সেকান্দার আলী হাওলাদারকে হাবিবপুর কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রসচিব হিসেবে নতুনভাবে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, “পাবলিক পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল আঞ্চলিক স্কাউট কার্যালয়ে অনিয়ম, অর্থ তছরুপ এবং ব্যক্তিগত অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কমিটির সদস্যরা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। সকাল ১০টার দিকে নগরের রূপাতলীতে অবস্থিত কার্যালয়ে পৌঁছান তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, সরকারি ফজলুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবদুর রবসহ তিন সদস্যের একটি দল। সেখানে তারা অভিযুক্ত আঞ্চলিক কমিশনার দেবাশীষ হালদার, সম্পাদক ফারুক আলম এবং কোষাধ্যক্ষ এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে লিখিত সাক্ষ্য দেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন এবং লিডার ট্রেইনার ও প্রধান শিক্ষক কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নি। এছাড়া আরও কয়েকজন স্কাউট ট্রেইনার মৌখিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য সাক্ষ্য দেওয়ার পর মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “অ্যাডহক কমিটির সদস্য কিংবা যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকার কথা নয়। কিন্তু মার্চে গঠিত কমিটিতে তাদের রাখা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নিজস্ব লোক দিয়ে একটি স্টল নির্মাণ করা হয়েছে—যা নিয়মবহির্ভূত। অন্যদিকে কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নি অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিটি অভিযোগ মোকাবিলায় “ভুয়া কাগজপত্র” তৈরি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “প্রধান অভিযুক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলামের সাক্ষ্যই এখনো নেওয়া হয়নি। আমরা সুষ্ঠু বিচার না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।” তদন্ত কমিটির অবস্থান তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আবদুর রব বলেন, “তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আপাতত দুইজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং অন্য অভিযোগকারীদের বক্তব্যও প্রমাণ সাপেক্ষে যাচাই করা হবে।” পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি বরিশালে নেই এবং প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। গত সোমবার আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির সভাপতির উদ্যোগে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর পরিচালক সাইফুল ইসলামকে বরিশাল কার্যালয় থেকে সরিয়ে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছর ধরে আঞ্চলিক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এছাড়া গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে একটি “পকেট কমিটি” গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তারা বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চালাবে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই তদন্তের ফলাফল শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নয়, বরং আঞ্চলিক স্কাউট কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে পহেলা বৈশাখের দিনেও রোগীদের সেবা ও খাবার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, উন্নতমানের খাবারের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের এবং কম পরিমাণ খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও এবং ঠিকাদারের যোগসাজশে রোগীর সংখ্যা কাগজে অতিরিক্ত দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, রেজিস্ট্রারে থাকা রোগীর সংখ্যা এবং ওয়ার্ডে বাস্তবে উপস্থিত রোগীর সংখ্যার মধ্যে গরমিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এতে খাবার বরাদ্দ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) মলয় কৃষ্ণন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “দুই-একটি গরমিল থাকতেই পারে, তাতে কী হয়?” তবে খাবারের মান ও পরিমাণ কম হওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত রাউন্ড না থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রশ্ন তুললে তাদের অন্য হাসপাতালে রেফারের কথা বলা হয়—যা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে বলে দাবি তাদের। শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে শয্যা সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানান স্বজনরা। একজন স্বজন অভিযোগ করে বলেন, “ছয়দিন ধরে বাচ্চা নিয়ে ফ্লোরে আছি, কোনো ফোম বা চাদরও দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার অবস্থা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, ব্যবহার অনুপযোগী পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ডাক্তার না আসা, বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হওয়া এবং সেবায় অবহেলার অভিযোগও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মনজুরুল এলাহী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের মতে, দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল মহানগরে সড়ক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে অবৈধ থ্রি-হুইলার যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার। বাড়ছে জনভোগান্তি ।সড়কে দেখা দিয়েছে নৈরাজ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এলাকার ৫৮ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে চলাচলকারী যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা ও অনুমোদিত সংখ্যার মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য, যার ফলে জনদুর্ভোগ, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং বিপুল রাজস্ব ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বনাম বাস্তবতা: দ্বিগুণেরও বেশি যানবাহন সরকারি হিসাবে, দুটি সংস্থা—বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন—মোট ১২ হাজার ৬২০টি থ্রি-হুইলারকে লাইসেন্স দিয়েছে। এর মধ্যে বিআরটিএ নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার এবং বিসিসি অনুমোদিত ৭ হাজার ৬২০টি। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, মহানগরে অন্তত ২৫ হাজারের বেশি থ্রি-হুইলার নিয়মিত চলাচল করছে। এর মধ্যে রয়েছে সিএনজি অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা, ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা—যার একটি বড় অংশই সম্পূর্ণ অবৈধ বা অনিবন্ধিত। নবায়ন স্থবিরতা ও রাজস্ব ক্ষতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছর ধরে যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। একইভাবে রিকশার মহাজনি নবায়ন এবং নতুন থ্রি-হুইলার নিবন্ধনও বন্ধ। এর ফলে বিসিসি ইতোমধ্যে ২০ কোটির বেশি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। এই স্থবিরতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে জনবল সংকট এবং প্রশাসনিক অকার্যকারিতা। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণহীনতা থেকে নৈরাজ্য অবৈধ যানবাহনের দাপট কেবল ট্রাফিক ব্যবস্থাকেই ভেঙে দিচ্ছে না, বরং জননিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, যিনি বিসিসির প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। চালকদের অভিযোগ: লাইসেন্স থাকলেও হয়রানি মাঠপর্যায়ে চালকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা। একাধিক চালক জানিয়েছেন, লাইসেন্স থাকলেও পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই মিলছে না। ফলে তারা লাইসেন্স নবায়নে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এক চালক বলেন, “নবায়ন করেও লাভ নেই, না করলেও একই অবস্থা। পুলিশ আটক করে—তাই ম্যানেজ করলেই চলে।” আরেকজন চালকের ভাষ্য, “লাইসেন্স করতে ঋণ নিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সুবিধা পাইনি। উল্টো বিভিন্ন রুটে চাঁদা দিতে হয়।” এই অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে একটি অনানুষ্ঠানিক ‘চাঁদা অর্থনীতি’ গড়ে উঠেছে, যা বৈধ ব্যবস্থাকে নিরুৎসাহিত করছে। প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী স্বীকার করেছেন যে, নগরীতে বিপুলসংখ্যক অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল করছে এবং জনবল সংকটের কারণে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে তার মতে, এই তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অবৈধ যানবহন চলাচল বন্ধের আশ্বাস বিসিসি প্রশাসকের সম্প্রতি বিএম কলেজ সড়কে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়কের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের একমাত্র সন্তান ও শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী চৈতি (১৩) ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় নিহত হয়। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিচার দাবিতে বিএম কলেজ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে চৈতির সহপাঠীরা। তারা নগরীতে অবৈধ যানবহন চলাচল বন্ধের দাবি তোলেন। ঘটনাস্থলে যান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ।তিনি ছাত্রীদের দাবি মেনে নিয়ে অবৈধ যানবহন চলাচল বন্ধের আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। অবৈধ যানবহন,অহরহ দুর্ঘটনা:চলাচল করছে প্রভাশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলার পুরো মহাসড়ক দাবড়ে বেড়াচ্ছে। দ্রুত গতির যানবাহন এত বেশি চলাচল করায় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানজট তো নিত্যদিনের ঘটনা।প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসব অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেমধ্যে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য জরিমানা ধার্য কিংবা আটকের চেষ্টা করলেও তাতে কোনো সুফল আসছে না।এসব অবৈধ যানবাহন বিভিন্ন সংগঠন, সাংবাদিক, পুলিশসহ প্রভাশালীদের ছত্রছায়ায় চলাচল করছে। রেহাই পেতে পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার বৈধ ও অবৈধ এসব যান ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ, মালিক সমিতি, শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের ব্যানার, বিভিন্ন পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে নগরীতে চলাচল করছে। অধিকাংশ মালিক ও চালক সড়কে ‘প্রশাসনিক হয়রানি’ থেকে রেহাই পেতে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব পরিবহনের অধিকাংশ অনুমোদিত না হওয়ায় চালকরাও লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। আর অদক্ষ এসব চালকের কারণ প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ডা. মনীষা চক্রবর্তী জানান- ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী জানান, লাইসেন্সের নীতিমালা ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বৈধতার রায় আদায় করেছে সংগ্রাম পরিষদ। তিনি বলেন, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালকদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। এদেরকে হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী দিনে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান- সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি, শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় ঘনঘন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিগত কয়েক বছরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করায় দিনে দিনে এ সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান মিলে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগামীতে বরিশাল নগরীতে আর চলাচল করা সম্ভব হবে না। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমাধান অসম্ভব বরিশালের থ্রি-হুইলার সংকট কেবল একটি পরিবহন সমস্যা নয়—এটি প্রশাসনিক অদক্ষতা, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি জটিল মিশ্রণ। যতদিন না— * লাইসেন্স ও নবায়ন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হচ্ছে, * জনবল ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে, * এবং আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, * ‘বিট বাণিজ্য’ বন্ধ হচ্ছে, ততদিন এই নৈরাজ্য বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণই থেকে যাবে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিল শুধু ধর্মীয় সমাবেশ নয়, ক্রমেই তা রূপ নিচ্ছে বড় আকারের অস্থায়ী অর্থনীতির কেন্দ্রে। লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতকে ঘিরে গড়ে উঠছে শত শত দোকান, যেখানে ধর্মীয় সামগ্রীর পাশাপাশি খাবারের ব্যবসাও জমজমাট। আর এ বছর আলোচনার কেন্দ্রে ‘বালিশ মিষ্টি’—যা যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি তুলছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। ভিড় না বাজার—কোনটি বড়? মাহফিল প্রাঙ্গণে ঢোকার মুখেই চোখে পড়ে সারি সারি দোকান। তসবিহ, টুপি, বইয়ের পাশে খাবারের স্টল। এর মধ্যেই একটি মিষ্টির দোকান ঘিরে অস্বাভাবিক ভিড়। বিশাল আকৃতির ছানার মিষ্টি—যা একাধিক মানুষ মিলে খাচ্ছেন—দর্শনার্থীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই আকর্ষণের পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক হিসাব। লাখ টাকার বিক্রি—কীভাবে? দোকান মালিকদের দাবি, মাহফিলের তিনদিনে কয়েক লাখ টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়। প্রতিটি বড় মিষ্টির দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত, আর মাঝারি ও ছোট আকারের মিষ্টিও ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। হিসাব বলছে, দিনে যদি গড়ে ৫০০–১০০০ পিস মিষ্টি বিক্রি হয়, তাহলে একটি স্টল থেকেই আয় দাঁড়াতে পারে কয়েক লাখ টাকায়। অথচ এই ব্যবসার বড় অংশই পরিচালিত হচ্ছে অস্থায়ী ব্যবস্থায়—যেখানে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সীমিত। মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি? মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ স্টলেই নেই দৃশ্যমান কোনো খাদ্য নিরাপত্তা সনদ বা স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণের ব্যবস্থা। বড় বড় গামলায় খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে মিষ্টি, যা ধুলাবালি বা জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি করছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় জনসমাগমে খোলা খাবার বিক্রি হলে সেখানে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। নচেৎ খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে যায়। প্রশাসনের নজরদারি কতটা? স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা থাকলেও, খাদ্য বিক্রির মান নিয়ন্ত্রণে তেমন সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়েনি। একাধিক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, তারা মূলত বিশ্বাসের জায়গা থেকে এসব খাবার গ্রহণ করছেন। তবে সচেতনতার অভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতি ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। অস্থায়ী বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলোতে এমন অস্থায়ী বাজার গড়ে ওঠা নতুন নয়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কতটা নিয়ন্ত্রিত এবং নিরাপদ? চরমোনাই মাহফিলের মতো বিশাল জমায়েতে যেখানে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হন, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা মাহফিলে আসা অনেকেই ‘বালিশ মিষ্টি’কে আনন্দের অংশ হিসেবেই দেখছেন। দলবেঁধে খাওয়া, ছবি তোলা—সব মিলিয়ে এটি এক ধরনের সামাজিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। তবে কিছু দর্শনার্থী আবার প্রশ্ন তুলেছেন—“স্বাদ ভালো, কিন্তু নিরাপদ তো?” ৪ এপ্রিল আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের মাহফিল। তবে এই আয়োজন ঘিরে যে অস্থায়ী অর্থনীতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হবে আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা—যেখানে ধর্মীয় আবহ বজায় রেখেই নিশ্চিত করা যাবে জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল বাণিজ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।