Brand logo light

প্রশাসনিক অনিয়ম

সাইদুর রহমান
বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ: অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগ: অভিযোগ, অনিয়ম ও এক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যা টেন্ডার, নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগে বলা হচ্ছে, নদী খনন প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি।  নদী খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ একাধিক প্রকল্পে কাজ না করেই কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোগাই ও কংস নদ খনন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।  সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্রের দাবি, ড্রেজিং বিভাগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যা দরপত্র প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক বদলিতে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের বাইরে অবস্থানকারী কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বা পদোন্নতিতে বাধার মুখে পড়ছেন।  দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি হয়নি। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চাকরি ও সনদ নিয়ে অভিযোগ আরেকটি অভিযোগে বলা হচ্ছে, চাকরির পূর্ববর্তী তথ্য গোপন করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে এ অভিযোগও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়।  প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও, এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও প্রকাশ্য জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
বরিশালে এখনো জিএম- ডিজিএম ও এজিএম সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সোনালী ব্যাংক

বরিশাল অফিস :    সোনালী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল অঞ্চলে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি বানিজ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম কমেনি। সরকার বদল হলেও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ভোল পাল্টে রাতারাতি নতুন পরিচয়ে রঙ্গিন ভুবন নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি সহ নানা ইস্যুতে তারা প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে নিষ্পেষিত হচ্ছে সাধারণ ও নিরীহ পেশাদার কর্মকর্তারা। বরিশাল সোনালী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার ও এজিএম জহুরুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যেখানে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। এই চক্র বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করছে। জহুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৬ নং সহ-সভাপতি ও বঙ্গমাতা পরিষদেরও ৬ নং সহ-সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া এসপিও মোঃ সাব্বির মাহমুদ এবং প্রিন্সিপাল অফিসার তিমির রঞ্জন দাস সহ কয়েকজন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতার অনুসারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু রেখেছে, যা অফিসিয়াল কাঠামোর বাইরে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে। কিছু কর্মকর্তাকে ‘পছন্দের শাখা’ বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’-এ পাঠানো হয়েছে, আবার কেউ কেউ স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়েছেন। এর মধ্যে চিন্থিত আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুজ্জামান মোল্লাকে চাখার শাখায় ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন, এসপিও তারিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপাল অফিস ইস্টে পদায়ন, এসপিও মনদীপ বেপারীকে উজিরপুর শাখা থেকে বরিশাল করপোরেট শাখায় পদায়ন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপের মুখে পিরোজপুরে পদায়ন করতে বাধ্য হয়। এসপিও মাসুদ পারভেজকে উজিরপুর শাখার ম্যানেজার করা হয়েছে। মোঃ কামরুজ্জামান হাওলাদারকে খানপুরা শাখার ম্যানেজার, সিনিয়র অফিসার রুপক পালকে ধামুড়া থেকে বরিশাল চকবাজার শাখায় পদায়রন করা হয়। প্রসুন কুমার পালকে পটুয়াখালী পায়রা বন্দর শাখা থেকে বরিশালের নলচিড়া শাখায় প্রাইজ পোস্টিং দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে,  এসব বদলী, পদায়ন ও প্রাইজ পোস্টিং করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে। এসব অভিযোগ এই পাচঁ সদস্য বিশিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। আরও পড়ুন:  বরিশালে সোনালী ব্যাংকে বদলি বাণিজ্য ও প্রভাব বলয়ের অভিযোগ প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার এর বিরূদ্ধে রয়েছে আরো গুরুতর অভিযোগ। তিনি সোনালী ব্যাংকের আবাসিক বাগানবিলাস এর একটি ভবনে থাকেন। সেখানে তার ছেলের সাথে ব্যাচ পড়ার কারণে যেন কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। বিকেল গড়ালেই সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্ররা এসে ব্যাচ পড়ে। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা এসি চালিয়ে মাত্র ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে তিনি সেখানে গড়ে তুলেছেন আরেকটি নতুন ভুবন। তাছাড়া কিছুদিন পূর্বে পিয়ন ফিরোজ শিকদারকে দিয়ে প্রায় ২৫টি কম্বল একাই নিয়েছেন ব্যাংক থেকে। এভাবে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন সম্পদ ও আর্থিক তসরূপ করে যাচ্ছেন বিভাস হাওলাদার। ডিজিএম বিভাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে নিজস্ব প্রভাববলয় তৈরির অভিযোগও উঠেছে। কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।  তাছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আমি যে সকল বদলি করেছি তা সম্পূর্ণ বিধিসম্মত ভাবেই করেছি। তাছাড়া আমি ছেলে সহ একটি ভবনে থাকি। সেখানে এসি চলে, ছেলের পড়াশুনা চলে এগুলো কোন ইস্যু হতে পারেনা। কিছু গরীব লোককে ২৫টি কম্বল পাইয়ে দিয়েছিলাম, সেগুলো তো আমি নিজে নেইনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
বরিশাল সোনালী ব্যাংক
বরিশালে সোনালী ব্যাংকে বদলি বাণিজ্য ও প্রভাব বলয়ের অভিযোগ: অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বরিশাল অফিস :    বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসির বরিশাল অঞ্চলে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে, একটি প্রভাবশালী কর্মকর্তাগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদায়ন দিচ্ছে।   প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর অভিযোগ   বরিশাল সোনালী ব্যাংকের ভেতরের কয়েকটি সূত্রের দাবি,বরিশাল অঞ্চলের বর্তমান জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি এজিএম জহুরুল ইসলামের একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যেখানে আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই গোষ্ঠী বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করছে। জহুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৬ নং সহ-সভাপতি ও বঙ্গমাতা পরিষদেরও ৬ নং সহ-সভাপতি ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েস্টের ডিজিএম বিভাস চন্দ্র হাওলাদার, জিএম অফিসের এজিএম মোঃ জহিরুল ইসলাম, এসপিও মোঃ সাব্বির মাহমুদ এবং প্রিন্সিপাল অফিসার তিমির রঞ্জন দাস—এই কয়েকজন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতার অনুসারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্যসিস্ট সাবেক জিএম গোপাল চন্দ্র গোলদারের পথেই যোগদানের পর থেকে হাটছেন জিএম মোঃ মাহমুদুল হক।এই পাঁচ জন মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন সোনালী ব্যাংক বরিশাল অঞ্চলে।   ‘পছন্দের পোস্টিং’ নিয়ে প্রশ্ন বিভিন্ন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, কিছু কর্মকর্তাকে ‘পছন্দের শাখা’ বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’-এ পাঠানো হয়েছে, আবার কেউ কেউ স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন,চিন্থিত আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুজ্জামান মোল্লাকে চাখার শাখায় ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন, এসপিও তারিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপাল অফিস ইস্টে পদায়ন,এসপিও মনদীপ বেপারীকে উজিরপুর শাখা থেকে বরিশাল করপোরেট শাখায় পদায়ন। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপের মুখে পিরোজপুরে পদায়ন করতে বাধ্য হয়।এসপিও মাসুদ পারভেজকে উজিরপুর শাখার ম্যানেজার করা হয়েছে। মোঃ কামরুজ্জামান হাওলাদারকে খানপুরা শাখার ম্যানেজার, সিনিয়র অফিসার রুপক পালকে ধামুড়া থেকে বরিশাল চকবাজার শাখায় পদায়রন করা হয়।প্রসুন কুমার পালকে পটুয়াখালী পায়রা বন্দর শাখা থেকে বরিশালের নলচিড়া শাখায় প্রাইজ পোস্টিং দেয়া হয়। এসব বদলী,পদায়ন ও প্রাইজ পোস্টিং করা হয়েছে লাখ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে। এসব অভিযোগ এই পাচঁ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।   আরও পড়ুন: বরিশাল সোনালী ব্যাংক: দুর্নীতিতে জর্জরিত, গোপালের পথে হাটছেন জিএম মাহমুদুল হক   জিএম মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ- * কিছু কর্মকর্তাকে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে পদায়ন * করপোরেট ও প্রিন্সিপাল অফিসে স্থানান্তর * স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলি বাতিল ও পুনর্বহাল করা হয়। একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বদলি পরিবর্তনের ঘটনাকেও “ব্যতিক্রমী” বলে বর্ণনা করা হয়েছে।   জিএম- ডিজিএম ও এজিএম সিন্ডিকেট :  জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে  প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা  বিভাস চন্দ্র হাওলাদার  বিভাস এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি এজিএম জহুরুল ইসলাম চিন্থিত ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধাসহ পছন্দমত পোস্টিং দিয়ে আসছেন। বিগত সময়ে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডের স্থায়ী বাসিন্দা  বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং বঙ্গমাতা পরিষদের  সহ সভাপতি   মোঃ মাইনুল ইসলামের নামে নামমাত্র অফিস অর্ডার করে তাকে সারাদিন ফ্রী থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে ।   সোনালীয়ান কাশীপুর নামে একটি গ্রুপ তৈরী ডিজিএম মোঃ শাহ্আলম জিএম হওয়ার জন্য তার নিজস্ব শক্ত বলয় তৈরী করার জন্য ফ্যাসিস্ট  কর্মকর্তাদের নিয়ে  সোনালীয়ান কাশীপুর নামে একটি গ্রুপ তৈরী করেন এবং গোপনে কাশিপুরের বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করেন। উল্লেখ্য যে, জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হক পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের একনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ার কারনে তাকে ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পট পরিবর্তনের পর সুদূর জামালপুর থেকে বরিশালে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। কিন্ত তিনি সংশোধন না হয়ে বরিশাল সোনালী ব্যাংকে ফ্যাসিষ্ট পুনর্বাসনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।   এসি রুমে ৭০ টাকায় বিভাস চন্দ্র হাওলাদার’র বসবাস প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েষ্ট এর ডিজিএম বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা বিভাস চন্দ্র হাওলাদার বরিশাল করপোরেট শাখার আওতাধীন সোনালী ব্যাংক আবাসিক এলাকায় মাত্র ৭০ টাকায় এসি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। দুইটা এসি রুমে নিয়মবহির্ভূত ভাবে তার ছেলে, স্ত্রী সহ থাকেন। এই বিভাষ চন্দ্র হাওলাদার এবং এজিএম জহুরুল ইসলাম সুকৌশলে ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধাসহ পছন্দমত পোস্টিং দিয়ে আসছেন।   ১৭ বছর এসপিও ইফতেখার মাহমুদ সোহেল বরিশাল শহরে বিগত ১৭ বছর ধরে এসপিও ইফতেখার মাহমুদ সোহেল ( সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা সন্তান সংসদ)  বরিশাল শহরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন,এরপর কয়েকমাস আগে বরিশাল প্রিন্সিপাল অফিস ইস্ট থেকে ঝালকাঠি কোর্ট বিল্ডিং শাখায় তার বদলী করা হয়। বর্তমান জিএম মোঃ মাহমুদুল হক মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবার তাকে প্রিন্সিপাল অফিস বরিশাল ওয়েস্ট, বরিশালে বদলী করেন। সোনালী ব্যাংকের ইতিহাসে এটা একটা  নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি স্বেচ্ছাচারীতার সর্বোচ্চ সীমা পাড় করেছেন। জিএম ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হক আগের ফ্যাসিস্ট বলয়কে আরো সুসংগঠিত করেছেন।এই বলয়ে আছেন জি এম অফিসের এজিএম মোঃ জহিরুল ইসলাম, পিও তিমির রঞ্জন দাস, এস ও সাব্বির, এসিপও অসীম  সহ আরো অনেক ফ্যাসিস্ট।   রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছু কর্মকর্তা বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক সুবিধা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, কিছু কর্মকর্তার পরিবার স্থানীয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।   সুবিধা প্রদান ও অনিয়মের অভিযোগ আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— * নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে নামমাত্র দায়িত্ব দিয়ে কার্যত কর্মমুক্ত রাখা * অফিসের সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার * শাখা পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে অবস্থান ধরে রাখা অভ্যন্তরীণ বলয় তৈরির অভিযোগ   একজন ডিজিএমের বিরুদ্ধে নিজস্ব প্রভাববলয় তৈরির অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও পরবর্তীতে তারা পুনরায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন।    কী বলছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ?   এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  সোনালী ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, সেবার মান ও স্বচ্ছতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
গৌরনদী  ইউএনও
গৌরনদীতে ইউএনওকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

গৌরনদী: গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের কাজ হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ‘টার্গেট পিপল ফর ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (টিপিডিও)-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলীর পক্ষে এ নোটিশ পাঠান বরিশাল জজকোর্ট-এর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের জন্য আবেদন করলে টিপিডিওকে কাজটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে পৌরসভার অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম চলমান থাকায় কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ পুনরায় কাজ শুরু করার আবেদন করলে ১৫ মার্চ পৌর প্রশাসন থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার প্লেট প্রস্তুত, জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। কিন্তু হঠাৎ করেই একই কাজ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে সংস্থাটির প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে— পূর্ব অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কেন কাজটি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হলো এবং কেন টিপিডিওকে কাজ থেকে বিরত রাখা হলো। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, তিনি পৌরসভা থেকে একটি আবেদনপত্র পেয়েছেন, তবে তা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পাননি। কেউ অভিযোগ করলে সেটিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের তার কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে কাজ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে তারা তার কোনো আত্মীয় নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
রাজাপুর যুব উন্নয়ন অফিস
রাজাপুর যুব উন্নয়ন অফিসে ৭ বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন—প্রক্সি নিয়োগের অভিযোগ

রাজাপুর: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক পদের দুই কর্মচারী সাত বছর অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি নিয়োগ করে বেতন তুলছেন নিয়মিত। তাদের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে প্রক্সির মাধ্যমে দপ্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাশিয়ার আব্দুর রব ও অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন সাত বছর ধরে অফিসে আসেন না। তাদের হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন ঝুমুর নামে এক নারী ও ইসা নামে এক যুবক। মাসে সাত হাজার টাকায় তাদের প্রক্সি নিয়োগ করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রক্সি লোক দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজ । এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যাশিয়ার আব্দুর রব বলেন, “কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই অফিসে যাই না।” কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন চলাফেরা করতে পারছেন না। তবে তিনি এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ করেন।উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রক্সির কোনো বিধান নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
এমএ আবুল খায়ের
ক্ষমতার বলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন ওসি আবুল খায়ের!

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : এম এ খায়ের কাওছার ওরফে আবুল খায়ের।ওসি খায়ের নামে পরিচিত।ঘুরে ফিরে বরিশাল বিভাগেই কর্মরত।বিতর্ক যেন তার পিছু লেগেই আছে। ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারির পর এবার যোগ হয়েছে জুয়ার খেলোয়াড় হিসেবে।গড়েছেন সম্পদের পাহাড়ও। টাকার গরমে প্রতিনিয়ত বসেন হাজার হাজার টাকা নিয়ে জুয়ার আসরে। যেখানেই যান সেখানেই বিতর্কিত যেখানেই যান সেখানেই বিতর্কিত হয়ে রাতের আধারে চলে আসতে হয়। ওসির ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ আবুল খায়ের তার স্ত্রী,শাশুড়ী, নামে -বেনামে ও শ্বশুরের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন। শুধু অবৈধ সম্পদ উপার্জনই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা-সহ নানা অভিযোগ। মহিপুর থানার সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে এসব জানা যায়। ওই থানার আওতাধীন নির্যাতিত সাধারণ মানুষের দাবি একটাই, এই দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাকে যেন বিচারের মুখোমুখি করা হয়।  কুয়াকাটায় শ্বশুরের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় মহিপুর থানার সাবেক ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রথমে নিজের নামে বায়না রেজিস্ট্রি করলেও পরবর্তিকালে ওই জমি শ্বশুরের নামে কিনেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ওই সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় কোনো অর্থ পরিশোধ না করে প্রতিবেশী হালিম মোল্লা নামের এক জমির মালিককে জেল হাজতে প্রেরণ করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক ওই কর্মকর্তা ওই থানায় কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দাবিকৃত অর্থ না দিলে চলতো হয়রানি ও মামলা দেওয়ার হুমকি।   টাকা না দিয়ে যেভাবে দখল করেছেন জমি জমি সংক্রান্ত ভুক্তভোগী হালিম বলেন, দেড় বছর আগেও পটুয়াখালীর পশ্চিম কুয়াকাটা এলাকায় সড়ক লাগোয়া ৭ শতাংশ জমির বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। হঠাৎ ২০২৩ সালের কোনো এক রাতে তৎকালীন মহিপুর থানার ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের একটি মামলায় স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য হালিম মোল্লা ও তার ছেলেসহ থানায় নিয়ে আসে। পরের দিন সকালে তাদের একটি মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সাত দিন হাজত বাস শেষ করে বাড়ি ফিরে দেখেন কোনো অর্থ পরিশোধ না করে তার বাড়ির ওই সম্পত্তির চারপাশে উচ্চ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে জমি দখলে নেয় ওসি। পরবর্তীকালে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে সেখানে ওই জমির মালিক হিসেবে ওসি খায়েরের শ্বশুর মো. এনায়েত করিমের নাম লিখে দেন। আর তার বাড়িতে তিনি পরিবারসহ প্রবেশ করতে চাইলে মামলা ও গুম হওয়ার হুমকি দেন ওসি।  রেহাই পায়নি সরকারের খাস জমিও তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছ থেকে জোর করে নেয়া সাত শতাংশ জমির পাশাপাশি ক্রয় করেছেন মোট ৬০ শতাংশ জমি এবং তার হাত থেকে রেহাই পায়নি সরকারের খাস জমিও। এই সব জমি একসঙ্গে করেই গড়েন সীমানা প্রাচীর।   এদিকে সাইনবোর্ডে জমির তফসিল উল্লেখ থাকলেও পরিমাণ উল্লেখ নেই। সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, রেজিস্ট্রি বায়না সূত্রে এই জমির মালিক মো. এনায়েত করিম। জেএল নং ৫৭, কুয়াকাটা মৌজা, বিএসখতিয়ান নং ১২৮৪, বিএসদাগ ১২২৯। তবে বায়না রেজিস্ট্রি দলিল অনুযায়ী জমির পরিমান ৬০ শতাংশ। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।   স্থানীয় বাসিন্দা শুকুর মাঝি জানান, ওসি খায়ের তার শ্বশুরকে উপহার দেওয়া সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় কোনো অর্থ পরিশোধ না করে হালিম মোল্লা নামের এক জমির মালিককে জেল হাজতে প্রেরণ করে জমি দখলে নিয়েছেন। অসহায় পরিবারটি আজ ভূমিহীন অবস্থায় আছেন। সাবেক ওসি দুর্নীতির সরজমিনে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর।    খায়েরের অভিনব কৌশলে  চাঁদাবাজি কুয়াকাটা ফিশ ফ্রাই মার্কেটের মো. কাওসার বলেন, ওসি খায়ের সাহেব একজন অসৎ মানুষ। থানায় কর্মরত থাকাকালীন আমাকে অফিসে ডেকে টাকা চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার দোকানের বৈদ্যুতিক লাইন কেটে দেয়। পরে টাকা দিয়ে সংযোগ আবারও চালু করি। আমার ফিশ ফ্রাইয়ের দোকান থেকে বিভিন্ন সময় মেহমান এবং তার পরিবার নিয়ে এসে মাছ খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে গেছে।   বিএনপির সমর্থনকারীদের থেকে চাঁদা নিতো খায়ের স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  বিএনপির সমর্থনকারীদের থেকে ওসি  প্রায়ই চাঁদা নিতো। টাকা না দিলে মামলার হুমকি দিতো। বিএনপি করো কেন- সেজন্য সবসময় গালমন্দ করতো। মহিপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তার মতো অসৎ এবং দুর্নীতিবাজ ওসি এ থানায় আসেনি। ওসি খায়ের মহিপুর থানায় কর্মরত সময়কালে কী কী অপকর্ম করেছে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারের দাবি জানাচ্ছি।   প্রতিমন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দিত ওসি খায়ের কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন প্রতিমন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দিয়ে এই ওসি খায়ের বহু মানুষকে অত্যাচার করেছে। বিনা অপরাধে আমাকে বহু মামলায় অজ্ঞাত আসামি করার ভয় দেখিয়ে প্রায় প্রায় মোটা অংকের টাকা নিতো। টাকা না দিলে থানার লোক পাঠিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাতো। টাকা দেওয়া মাত্র চলে যেতো। ওসি খায়ের এভাবে শুধু আমাকে নয় বিএনপির সকল নেতা-কর্মীকে এভাবে রাত-দিন ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে অত্যাচার চালাত। তিনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কলঙ্ক বলে মনে করছি আমি।   ঘুষ না দিলে গুম ও মিথ্যামামলায় ফাঁসানোর হুমকি ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ওসি খায়ের থানায় কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে চাঁদা গ্রহণ করতেন। আর ঘুষের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বা অপারগতা প্রকাশ করলে গুম ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন অনেক ভুক্তভোগী। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রেস্টুরেন্ট ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে একাধিক। এমনকি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদকে প্রকাশ্যে আব্বা বলে সম্বোধন করতেন।  রেষ্টুরেন্টে খেত ফাঁও কুয়াকাটার বৈশাখী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক ইমাম হোসেন বলেন, মহিপুর থানার ওসি খায়ের সাহেব এখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় কুয়াকাটা আসলেই তিনি আমার হোটেলে খাওয়া দাওয়া করতেন। কিন্তু কোনো সময় টাকা পরিশোধ করতেন না। টাকা চাইলে বলতো, লিখে রাখুন খাতায়। এভাবে খেতে খেতে তিনি ২৭ হাজার ২৪০ টাকা বিল করেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে তিনি বিল পরিশোধ না করেই চলে গেছেন। আমি আমার এই টাকা ফেরত চাই।   বিনা অপরাধে সাদ্দাম মালকে আটক করে জনপ্রিয় অভিনেতা সাদ্দাম মাল জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনা অপরাধে করাবাস করিয়েছেন ওসি খায়ের। জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সাদ্দাম মাল বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনা অপরাধে বাদীপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে, আমাকে বেশ কয়েকদিন কারাবাস করিয়েছেন ওসি খায়ের। আমার সাথে অন্যায় হয়েছে এমনটা বলে ওসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন সে সময়। জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি আমার কাছ থেকে একটি মোটা অংকের টাকাও নিয়েছেন। এবং সে বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছিলাম।  অভিনেতা আরও বলেন, তার কাছে কেউ নিরাপদ নয়। দুর্নীতিবাজ সাবেক ওসির দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান এই শিল্পী।  বর্তমানে কর্মরত নলছিটি পুলিশ ফাড়িতে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ১ জুন পর্যন্ত এ থানায় কর্মরত ছিলেন। এরপর সেখান থেকে পটুয়াখালী পুলিশ লাইনে। সেখান থেকে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে কিছু দিনের জন্য ঝালকাঠি জেলার সদর থানার শেখেরহাট তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে আবার তাকে ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। পরে ঝালকাঠি সদর ফাঁড়ি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।বর্তমানে নলছিটি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন এই কর্মকর্তা। জুয়ার আসরে খায়ের সম্প্রতি বরিশালের ফকিরবাড়ি রোডের একটি ফ্লাটে জুয়া খেলার খবর ভিডিও ও ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হলে ওসি খায়েরের অপকর্ম সামনে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে নগরীর একটি ফ্লাটে জুয়া খেলা চলছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান সাংবাদিকরা। সেখানে গিয়ে দেখেন একটি লম্বা টেবিল। টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। একপাশে ওসি এমএ আবুল খায়েরও বসে রয়েছেন।প্রত্যেকের সামনে টেবিলে মানিব্যাগ ও মোবাইল রাখা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলের ওপরে তাস ও ৫০০-১০০০ টাকার নোট। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখেই কয়েকজন দৌঁড়ে পালিয়ে যান।এসময় আবুল খায়ের ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করতে টাকা আর মোবাইল নিয়ে পাশের বাথরুমে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর সুযোগ বুঝে তড়িঘড়ি করে তিনি নেমে যান। পরে অন্য লোক দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। নারী কেলেঙ্কারি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার সাবেক ওসি  খায়ের পুলিশের গাড়ি ব্যাবহার করে নারী নিয়ে কুয়াকাটার একটি নামি দামি রিসোর্টে গিয়ে নিয়মিত ফূর্তি করতেন।  কুয়াকাটার বিলাসবহুল ঐ রিসোর্টের সামনে সরকারি গাড়ি থামিয়ে নারী নিয়ে প্রবেশের একটি ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন এক প্রবাসী সাংবাদিক। সচেতন মহলের মতে,এসব বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে পুলিশ বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।ভেঙ্গে পড়বে চেইন অব কমান্ড  তার খায়েরের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেযার দাবী জানিয়েছেন।                                                                                                                              

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল পিআইবি মহাপরিচালক—কার ছত্রছায়ায় ফারুক ওয়াসিফ?

পিআইবিতে অনিয়মের নকশা: অভিযোগ, নথি ও টাইমলাইনে ফারুক ওয়াসিফ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ সামনে এলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং অভিযোগ, সবকিছু প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ ও পিআইবির ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “এটি আর শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।” আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অভিযোগ কী কী? পিআইবির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমান মহাপরিচালকের আমলে— আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ।   প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এগুলো প্রকাশ্যে আসে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরও নীরবতা কেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ, এত প্রতিবেদন, এমনকি প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন “প্রশাসনিক উদাসীনতা”র সীমা ছাড়িয়ে “প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া”র ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিআইবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো নতুন নয়। কিন্তু এখন যেভাবে প্রমাণসহ সামনে এসেছে, তাতে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া।” ভেতরের অসন্তোষ বেড়েই চলেছে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতা নেই, মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পুরো খাতের জন্যই নেতিবাচক বার্তা বহন করে।   কী বলছে নথি  অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথি (অফিস নোটশিট, বিল-ভাউচার, প্রকল্প অনুমোদনপত্র) বিশ্লেষণে দেখা যায়— প্রশিক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি: একই সরবরাহকারীকে একাধিক কাজ: অন্তত ৩টি প্রকল্পে একই ভেন্ডর/সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়ার নথি পাওয়া গেছে।  টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ছিল  না । বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি: কিছু খাতে বিলের অঙ্ক ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে অমিল লক্ষ্য করা গেছে।  নিয়োগ ও পদোন্নতি: প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে— নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “বোর্ডে যা ঠিক হয়, শেষ পর্যন্ত সেটাই থাকে না—উচ্চপর্যায় থেকে পরিবর্তন আসে।” অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা! জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি অডিট টীম পিআইবি তে কাজ করছে। ডিজির সাথে এই দুর্নীতির সহকারী নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও হিসাব কর্মকর্তা ফখরুল অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে এই চুরির হিসাব নিকাশ সঠিক করছেন ফারুক ওয়াসিফ। মানববন্ধন: প্রকাশ্যে অপসারণ দাবি বর্তমান: কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই  মাঠের প্রতিক্রিয়া মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন— “প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তে চলছে” “ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে” “অভিযোগ করলেই প্রশাসনিক চাপ আসে” তাদের দাবি, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করতে হবে। বড় প্রশ্নগুলো এই অনুসন্ধানে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি? ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোথায়? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে না কেন? একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নীরব কেন?  কর্তৃপক্ষের অবস্থান প্রতিবেদন তৈরির সময় ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে— পিআইবির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে। নথি, সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পিআইবির বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি অভিযোগগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। প্রশ্ন রয়ে গেল অভিযোগগুলো তদন্তে বাধা কোথায়? কার প্রভাবে বহাল আছেন মহাপরিচালক? প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে? যতক্ষণ এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না, ততক্ষণ পিআইবিকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন উপ-পরিচালক নিজামুল হক
বরিশালে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের  উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ।  পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি।   নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:   পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে।  একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। এছাড়া  নিজামুল হকের বিরুদ্ধে - ১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি  পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল  অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক। ২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের  অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। ৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে।  যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে  নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ:  পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে  অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই,  প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ। তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।   উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো  অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য” তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে  অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সচিব নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: বঞ্চিত কর্মকর্তারা, প্রভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের প্রশাসনে সাম্প্রতিক সচিব নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং এটি রূপ নিয়েছে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নে। ২৫ মার্চ রাতে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৯ জন সচিব নিয়োগের পর থেকেই একের পর এক অসঙ্গতি, অভিযোগ ও অস্বচ্ছতার বিষয় সামনে আসছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, দ্রুতই আংশিক পিছু হটা নিয়োগের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২৯ মার্চ তিনজন সচিবের বদলির আদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয় সরকার। একই সঙ্গে দুইজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, “এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নজিরবিহীন”—যা প্রাথমিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বঞ্চিতদের তালিকা বড়, সুযোগ পেলেন মাত্র দু’জন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তার নাম উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগে সেই তালিকা থেকে মাত্র দু’জন সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন। এতে করে প্রশাসনের একটি বড় অংশ নিজেদের আবারও উপেক্ষিত মনে করছেন। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা ভেবেছিলাম এবার অন্তত যোগ্যতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।” ক্যাডার ভারসাম্যে ব্যতিক্রম, নাকি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত? নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন নিয়মিত সচিবের মধ্যে ২ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আসা—যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প পরিকল্পনা ও মূল্যায়নে দক্ষ হলেও মাঠ প্রশাসন বা বহুমাত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সাবেক সচিব বলেন, “এ ধরনের নিয়োগ ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু একে যদি প্রবণতা বানানো হয়, তাহলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।” রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: নিয়োগে কি প্রভাব ফেলেছে? নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ পূর্ববর্তী সরকারের সময় সুবিধাভোগী ছিলেন, আবার কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ—তারা অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের পদোন্নতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? ৯ জনের মধ্যে একজনকে চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী পেশাগত অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রক্রিয়াটি যদি অস্বচ্ছ হয়, তাহলে সেটি পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ’—কিন্তু কে দায় নেবে? জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদোন্নতিগুলো ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা’ অনুযায়ী হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনার উৎস, মানদণ্ড বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এতে করে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে আসছে—এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আসলে কার? প্রশাসনের মনোবলে প্রভাব বিশ্লেষকরা বলছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগে যদি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। শেষ প্রশ্ন: সংস্কার নাকি পুনরাবৃত্তি? সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগ সেই প্রত্যাশাকে কতটা পূরণ করেছে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষায়— “পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন কোথায়?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)
বিআরটিএর উপ-পরিচালক বদলির আদেশ বাতিল, ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট

ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক বার আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। নতুন সরকারের আগমন ও অফিসিয়াল বদলির আদেশ বাতিলের দ্রুত ঘটনাচক্রে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৭ মার্চ স্বাক্ষরিত আদেশে মো. রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় অফিসে বদলি করেছিলেন। তবে কেবল একদিন পরেই, বিআরটিএর আরেক উপ-পরিচালক হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বদলি বাতিল করা হয়। কর্মচারীদের প্রশ্ন, কীভাবে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্য একজন কর্মকর্তার আদেশ এত দ্রুত উল্টো যায়। ঘুষ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্য, রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি এবং ঘুষ আদায়ে জড়িত। তার কথিত চাচার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় তার “শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামের অফিসটি সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, এই অফিস থেকে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারি সেবার স্বাভাবিক স্রোত ব্যাহত করছে। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: সিএনজি অটো-রিকশা রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় অংকের ঘুষ আদায়। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জালিয়াতি। সিন্ডিকেট গঠন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ আয়। আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন।   ঘটনার সময়রেখা:   তারিখ ঘটনা স্বাক্ষরকারী উপ-পরিচালক ৭ মার্চ ২০২৬ রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ থেকে রাজশাহী বদলি তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৯ মার্চ ২০২৬ বদলি আদেশ বাতিল হেমায়েত উদ্দিন   সময়ের রেখা ও প্রমাণ ২০১৫: চট্টগ্রাম মেট্রো-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা মোটরসের ডিলারের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ। ২০১৬: ঢাকা জেলা সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিএনজি রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম শুরু। ২০১৯ পর্যন্ত: প্রায় ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন, যেখানে অধিকাংশ মালিক ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে নিবন্ধন। ২০২৪: ঢাকা মেট্রো-১ থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি, এরপর বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালনা।   প্রশাসনিক ব্যর্থতা  কেন একটি উপ-পরিচালকের আদেশ অন্য একজন উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরে বাতিল হতে পারলো? রফিকুল ইসলামকে শুধু বদলি করা যথেষ্ট নয়, তার সিন্ডিকেট ও সম্পদের উত্থানও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি।   রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি বিভাগ প্রক্রিয়া প্রায় ঘুষের পরিমাণ মন্তব্য সিএনজি রেজিস্ট্রেশন ঢাকার নামে ভুয়া ঠিকানা ১ লাখ টাকা প্রতি রেজিস্ট্রেশন প্রায় ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন ২০১৬–২০১৯ মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আর.এম মোটরস & ইন্টারন্যাশনাল শোরুম অজানা, কোটি টাকা প্রায় আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি অর্জন ফিটনেস সার্টিফিকেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলাদা হিসাব নেই সরকারি নিয়মের চরম লঙ্ঘন   নিরাপত্তা ও আইনি প্রয়োজনীয়তা তদন্ত কমিটি গঠন, সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ, এবং অবৈধ সম্পত্তির অনুসন্ধান জরুরি। শুধুমাত্র বদলি আদেশের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রভাব ও প্রশ্ন কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বদলি করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও তদন্ত ছাড়া সরকারি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ক্ষোভ বাড়বে। বিআরটিএর উচ্চপর্যায় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও ঘুষ-বাণিজ্য চক্র সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম ও শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।   তদন্ত প্রয়োজনীয়তা সিন্ডিকেটের অবৈধ সম্পত্তি ও অর্থের উৎসের তদন্ত। ঘুষ-বাণিজ্য ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট। কঠোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
আমতলী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স
মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: আমতলীতে ভুয়া হিসাব, জাল প্রোফাইল ও ব্যাংক জালিয়াতির তদন্ত

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ভুয়া হিসাব ও জালিয়াতির বিস্তৃত চক্র চার বছরে নিঃশব্দে অর্থ উত্তোলন, সামনে এলো বড় ধরনের অনিয়ম বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত চার বছরে অনুমোদনবিহীন একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী তোফাজ্জেল হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—একটি চক্রের সহায়তায় ভুয়া হিসাব খুলে এবং জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নির্দিষ্ট পে-রোল তালিকা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং— অনুমোদন ছাড়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে নিয়মিতভাবে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে একাধিক শাখা ব্যবহার করা হয়েছে লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমতলী, বরগুনা কোর্টবিল্ডিং, বরিশাল চকবাজার এবং কলেজ রোড শাখা।   একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত হিসাব অনুসন্ধানে জানা যায়, তোফাজ্জেল হোসেনের নামে আমতলী শাখায় একাধিক হিসাব খোলা হয়। এর মধ্যে— একটি বৈধ সঞ্চয়ী হিসাব একটি এমডিএস (ডিগিএস) হিসাব দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব শুধু তাই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের নামেও হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে: স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি হিসাব বোন লুৎফা বেগমের নামে একটি হিসাব এসব হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হয়ে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভুয়া প্রোফাইলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মোট ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে— ১৪টি সম্পূর্ণ ভুয়া ২০টি হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতিও যুক্ত শুধু ভাতা নয়, জালিয়াতির পরিধি আরও বিস্তৃত। তদন্তে দেখা গেছে— তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে ঋণ নেওয়া হয়েছে ফরিদা বেগম, চম্পা ও রুনু নামের ভুয়া ব্যক্তিদের নামে মোট ২৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এতে বোঝা যায়, জালিয়াতির চক্রটি শুধু ভাতা আত্মসাৎ নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ব্যাংকের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সামনে আসে। লিখিত বক্তব্যে তোফাজ্জেল হোসেন নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তির সহযোগিতায় এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন: তিনি কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা? তোফাজ্জেল হোসেন ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি— মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স খুবই কম ছিল তিনি কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি এতে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের অজান্তেই অন্যদের হিসাবে টাকা চলে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন: “খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা তাদের হিসাবে গেল—এটা কীভাবে সম্ভব, বুঝতে পারছি না।” পরিবারের অস্বীকার অভিযুক্তের স্ত্রী শাহানারা কাজল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি— তিনি কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নন পুরো বিষয়টি ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের কাজ তার ভাষায়: “আমার স্বামীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট: অস্বাভাবিক লেনদেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধরা পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল নামে একজন সাবেক ব্যবস্থাপক জানান, অনুমোদনহীন লেনদেনের কারণে কিছু হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভাতা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হলে ব্যাংকের পক্ষে সব ক্ষেত্রে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আংশিক টাকা ফেরত তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো বড় অংশের অর্থ উদ্ধার হয়নি। প্রশ্নগুলো বড় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: ১. কীভাবে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি হলো? সরকারি তালিকায় কীভাবে ১৪টি ভুয়া নাম যুক্ত হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ২. ব্যাংকের ভেতরে সহযোগিতা ছিল কি? একাধিক শাখায় লেনদেন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। ৩. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি কোথায় ছিল? বিএফটিএন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হলেও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পদ্ধতিগত ত্রুটি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার উদাহরণ। সম্ভাব্য দুর্বলতা: ডিজিটাল যাচাইয়ের অভাব প্রোফাইল যাচাইয়ে শৈথিল্য ব্যাংকিং নজরদারির ঘাটতি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী চক্রের দাপট তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে— দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হবে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে বৃহত্তর প্রভাব মুক্তিযোদ্ধা ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি জাতীয় সম্মানের প্রতীক। এই ধরনের জালিয়াতি— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমায় দুর্নীতির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে   আমতলীর এই ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগঠিত এই জালিয়াতি দেখিয়ে দিয়েছে, যথাযথ তদারকি না থাকলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা কর্মসূচি কত সহজেই অপব্যবহৃত হতে পারে। এখন নজর সবার—তদন্ত কতদূর এগোয়, দায়ীদের কী শাস্তি হয়, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা ফিরে পান কিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0