ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সোনালী ব্যাংক পিএলসি এর ফরিদপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখার ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এবং ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও একটি সমবায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় দীর্ঘ সময় ধরে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্বকালীন হিসাব পরিচালনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শাখা কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে কার্যক্রমে অসহযোগিতা করে আসছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের আইন বিভাগের পরামর্শকের নির্দেশনা অনুসরণ না করে শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি মামলার বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বন্ধ করতে হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে হিসাব বন্ধ বা স্থগিত করা যায় না। কিন্তু শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি পক্ষের প্রভাবে আমাদের হয়রানি করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করেননি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ফিরোজার রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে জেনেছি। ইতোমধ্যে আমি দুই পাতার লিখিত জবাব দাখিল করেছি। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।” ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত বিভিন্ন কাজের তথ্য চাওয়া হলেও তিনি তা প্রকাশে গড়িমসি করছেন। এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওয়েবসাইটে প্রকাশযোগ্য প্রকল্প তালিকাও দীর্ঘ সময় অনলাইনে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪–২০২৫ এবং ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়নাধীন ও বাস্তবায়িত টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের তালিকা জানতে গত দুই সপ্তাহ ধরে একাধিকবার ভোলা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন পিআইও জিয়াউর রহমান। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কোন তথ্য আড়াল করতেই কি এই অনীহা? কাগজে রাস্তা সংস্কার, বাস্তবে নেই কাজের চিহ্ন অভিযোগ রয়েছে, ধনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মিলবাজার থেকে ব্যাপারী বাড়ির দরজা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেখানো হলেও সরেজমিনে গিয়ে কোনো ধরনের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, কাগজে প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে সেখানে উন্নয়নকাজ হয়নি। অথচ সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে চাল বরাদ্দের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, “পশ্চিম চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ০.৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে “সাহেবের চর হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি খেজুর বরাদ্দ চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ নামের কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান তাদের জানা নেই। এসব ঘটনায় সরকারি বরাদ্দ বণ্টন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প যাচাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য চেয়েও পাননি সাংবাদিকরা অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর তথ্য জানতে সাংবাদিকরা সাত দিন ধরে উপজেলা প্রকল্প অফিসে গেলেও পিআইও জিয়াউর রহমান তালিকা সরবরাহ করেননি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান সরাসরি মুঠোফোনে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন “আজ দেব, কাল দেব” বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। ‘তথ্য গোপন মানেই দুর্নীতির ইঙ্গিত’ এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখায়, তাহলে সেখানে দুর্নীতির আশঙ্কা থেকেই যায়। দুর্নীতি না থাকলে তথ্য গোপনের প্রয়োজন পড়ে না।” তিনি আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা জনগণের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অতীতেও বিতর্কে ছিলেন জিয়াউর রহমান পিআইও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অপরাধ বিচিত্রার মফস্বল সম্পাদক রাশেদুল ইসলামকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া বরগুনার ঠিকাদার মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন, পিআইও জিয়াউর রহমান তার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিআইও জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প তদারকি ও স্বচ্ছতা স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং উপকারভোগীদের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। ভোলা সদর উপজেলার সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছে। কারণ কাগজে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে না থাকলে, তার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নামে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ প্রকৃত কাজে ব্যয় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনিক চাপ, বদলি এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও দুর্গম ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, বরিশালের ১০ উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ১৯৭টি ভোটকক্ষ দেখানো হয়। এর মধ্যে ৭৭৭টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ, ১৯৫টি দুর্গম ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৮৯৩টি দুর্গম ভোটকক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন নথিতে এ সংখ্যাগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি স্মারকে প্রথমে দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ উল্লেখ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫ করা হয়। একইভাবে মুলাদীতে ৭২ থেকে ৩৯ এবং হিজলায় ৪৯ থেকে ২৩টি দুর্গম কেন্দ্র দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ দেখিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আনা হয়েছিল, তার বড় অংশ ডিসি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। ‘ভুয়া ভাউচার’ সমন্বয়ের অভিযোগ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসের জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থ ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, সরঞ্জাম পরিবহন ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ বৈধ দেখাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহ করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অতিরিক্ত ভাউচার পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকিতে নিয়োজিত ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আপ্যায়ন, পিএল ব্যয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত সহকারী কর্মীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে অনেক কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। পরে কয়েকজনকে আংশিক অর্থ দেওয়া হলেও বাকি অর্থ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাকডেটে ভাউচারে সই করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ ও বদলির অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শাখা, মানবসম্পদ শাখা এবং অন্য জেলায় বদলির ঘটনাও রয়েছে। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক সুবিধা সীমিত করার অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর অনেকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।” আরও যেসব খাতে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ, পর্যবেক্ষক টিম, আপ্যায়ন ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় উৎস থেকে সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যবহারে অনিয়ম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগও রয়েছে। ডিসি বাংলোর সংস্কারের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে প্রায় আট লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টিআর নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের ব্যয় বৈধ নয়। ডিসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন, বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কর অঞ্চলে কর্মরত মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদকে ঘিরে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ উঠেছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ১৯৯৩ সালে কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহায়ক (পিয়ন) এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৫৯, পুরানা পল্টন, ঢাকায় কর্মরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুয়া ঠিকানা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানিকগঞ্জ জেলাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে চাকরি গ্রহণ ও পরবর্তীতে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে অনিয়মের মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির দাবি প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তার স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে বিভিন্ন নথিতে অসামঞ্জস্য রয়েছে। একদিকে মানিকগঞ্জ এবং অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকানার উল্লেখ পাওয়া যায় বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কর ও টিআইএন সংক্রান্ত অভিযোগ আয়কর রিটার্ন ও টিআইএন নিবন্ধন ব্যবস্থায় কর অঞ্চল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ম উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়। একই ব্যক্তির একাধিক টিআইএন ও ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তার আয়ের তুলনায় জীবনযাপন ব্যয়বহুল। ঢাকায় ফ্ল্যাট ক্রয়, গ্রামের বাড়িতে সম্পদ, এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পড়াশোনা ও অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব সম্পদ বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত কিনা—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক কার্যক্রম প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনুদান প্রদান এবং উপস্থিত থাকার মাধ্যমে সামাজিক পরিচিতি বজায় রাখেন। প্রতিক্রিয়া প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু অভিযোগ স্বীকার করে “ভুল হয়েছে” বলে মন্তব্য করেন এবং কিছু বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ⚖️ উপসংহার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে তা প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি রাখে। তবে একই সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাকির হোসেনকে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রত্যাহার করে মহাপরিদর্শক নিবন্ধন দপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত বর্তমান দায়িত্বভার হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব (রেজিস্ট্রেশন) হাসান মাহমুদুল ইসলাম এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আযিযুর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে এই আদেশ জারি করা হয়। এ বিষয়ে জানতে জাকির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা সাজিয়ে জাল দলিল তৈরি, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সাভার উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, বিলামালিয়া ও বড় বরদেশী মৌজার সিলিকন সিটি এলাকার জমি রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশনের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, গত দুই বছরে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে গোপনে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় একটি এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের নেপথ্যে তার আপন ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার দাবিও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিন্ডিকেটের কবজায় বড় প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে পরিচালিত অধিকাংশ বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৈমুর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে সাজাতেন যাতে তার পছন্দের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলে দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে। ভাইয়ের প্রভাব ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা তৈমুর আলমের দুর্নীতির বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভাইয়ের প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অংকুরই ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান সরকারি বদলি নীতিকে তোয়াক্কা না করে তৈমুর আলম ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি দুর্ভেদ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতে মামলা ও আইনি জটিলতা তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক অভিযোগই নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ঢাকার একটি আদালতে (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের অভিমত বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্তের মতো সংস্থায় এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়। তারা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলামকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে একদল শিক্ষার্থী তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে এ অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি মুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী তার কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল নাসে অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মাসে দু-একবার এসে কাজ পরিদর্শন করে চলে যান এবং অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের বিল থেকে ১ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। একই দাবিতে গত ৭ এপ্রিলও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক দুর্নীতি করছেন। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। উপাচার্য আরও জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফয়সাল হালিম ঠিকাদারদের প্রায় প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য প্রায় ১০ শতাংশ হারে কমিশন নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এপিপি বরাদ্দের আওতায় ১১০টি দরপত্র এলটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়। তবে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে তিনি প্রতিটি দরপত্রে সীমিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। এ ক্ষেত্রে তিন থেকে চারজন অংশগ্রহণকারী নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়, যাতে কমিশন প্রদানকারী ঠিকাদাররা কাজ পান। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্যান্য বিভাগে একই পদ্ধতির দরপত্রে শতাধিক ঠিকাদারের অংশগ্রহণের নজির থাকলেও, এখানে অংশগ্রহণ সীমিত রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কমিশন না দেওয়া ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং তাদের ফাইলে স্বাক্ষর না করার ভয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া আজিমপুর কলোনির নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুরোনো ভবনের সার্ভে রিপোর্ট নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র রাজস্ব জমা দিয়ে প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে নিলামের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে RFQ পদ্ধতিতে ২০ লাখ টাকা এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আরও ২০ লাখ টাকা—মোট ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন তিনি। বিদেশ সফর শেষে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরির মতো অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল হালিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে পুকুর ও খাল পুনঃখনন এবং খরা সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর তত্ত্বাবধানে এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প এখন বিতর্কের মুখে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকায় পাঁচটি খাস পুকুর সংস্কারকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান একটি পুকুর ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরের চারটি ব্যাটারি ও টুলবক্স খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময় চালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউএনও কার্যালয়ের পিয়ন রাজন হোসেন-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পুকুর খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের প্রেক্ষাপট জানা গেছে, রাজশাহীসহ তিন জেলায় মোট ১৮টি এনজিও এই জলাশয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তানোর উপজেলায় প্রায় ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় “মেসার্স কুশ এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার কাজ শুরু হয় ১ এপ্রিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও প্রকল্প সমন্বয়কারী আরাফাত রহমান-কে ডেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুর ভরাটের প্রস্তাব দেন। পরে অফিস সহকারী ইমরান আলী ঠিকাদারদের ডেকে একই বিষয়ে তাগিদ দেন বলেও অভিযোগ। ঠিকাদার দাবি করেন, পুকুরটি ভরাট করতে প্রায় ৫–৬ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা প্রকল্পের আওতার বাইরে। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগও ওঠে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিকাদার পক্ষের বক্তব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাপ্পির দাবি, অভিযানের সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালিগালাজ করা হয় এবং এক্সকেভেটর চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন রাজন হোসেন। তার দাবি, কোনো ব্যাটারি ভাঙা বা মোবাইল নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং উৎকোচ দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে ইমরান আলী বলেন, তিনি ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ডেকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ইউএনও নাঈমা খান অভিযোগ নাকচ করে জানান, এটি কোনো সরকারি প্রকল্পের কাজ নয় এবং সংশ্লিষ্ট জলাশয়টি একটি ছোট ডোবা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন—এই অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করলে জব্দ করা সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হবে। তদন্তের ইঙ্গিত এ বিষয়ে কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, বলেন—অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বস্ত্র অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি লাভ, পদোন্নতি এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বর্তমানে সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ পদেও রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত তথ্য এবং পিতার নামে দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে, যা প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পিএসসি নিয়োগে জটিলতা জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল সুপারিনটেনডেন্ট (ষষ্ঠ গ্রেড) পদে নিয়োগ পান রেজাউল করিম। তবে এর আগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) তার নথিপত্র জমা দেওয়ার পরই জটিলতা দেখা দেয়। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পিএসসির এক স্মারকে তার ফলাফল “প্রশাসনিক ও তথ্য বিভ্রাটজনিত কারণে” স্থগিত করা হয়। পরে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর প্রায় এক বছর পর তার ফলাফল সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সেই সুপারিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, পরবর্তীতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি, জালিয়াতি বা ভুয়া তথ্য প্রমাণিত হলে সুপারিশ বাতিল এবং প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যোগদানের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ চূড়ান্ত যোগদানের সময়ও কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে রেজাউল করিম জটিলতায় পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় মাস বিলম্বে তিনি নথি জমা দেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। পরিচয়পত্র ও সনদে অসঙ্গতি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তার পিতার পরিচয় নিয়ে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার পিতার নাম মো. ছানাউল ইসলাম এবং ঠিকানা বগুড়া সদর এলাকার। কিন্তু দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদে ভিন্ন নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। একটি সনদে পিতার নাম এ কে এম সানাউল ইসলাম উল্লেখ থাকলেও সেটি পরবর্তীতে গেজেট থেকে বাতিল করা হয়েছে। পরে আরেকটি সনদ দাখিল করা হয়, যেখানে নাম দেওয়া হয়েছে এ কে এম সানাউল ইসলাম মণ্ডল এবং ঠিকানাও ভিন্ন—সারিয়াকান্দি উপজেলার। এই অসঙ্গতিগুলো নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে রেজাউল করিম লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময়ও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তার ক্ষেত্রে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া গত ১৬ এপ্রিল মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রেজাউল করিম এ বিষয়ে পরে কথা বলার আশ্বাস দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তিনি সরাসরি কথা বলেননি। পরে ফোনে জানান, বিষয়টি জানতে হলে লালমনিরহাটে গিয়ে দেখা করতে হবে। কর্তৃপক্ষের অবস্থান বস্ত্র অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরিফুর রহমান খান বলেন, “সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞ মত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং এটি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ রানা–কে ঘিরে হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক—এমন দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ওয়াসা–এর মিটার রিডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে রাজস্ব পরিদর্শক পদে থেকে আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতার মাধ্যমে অবৈধ আয় করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ফাহমী বাবেল গোলন্দাজ–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের ওয়াসা রাজস্ব জোন-৩–এ দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন ঘিরেও অভিযোগ হারুন অর রশিদ রানার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ময়মনসিংহে একটি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলায় অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনের এক অংশগ্রহণকারী। এছাড়া একটি মামলায় শেখ হাসিনা–এর সঙ্গে তার নাম এসেছে বলে জানা গেলেও বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সম্পদের বিস্তার মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া, ঢাকা উদ্যান, ৩ নম্বর সড়ক ও চান মিয়া হাউজিং এলাকায় তার একাধিক ভবনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া গাজীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁও এলাকাতেও তার সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি গণপূর্ত বিভাগের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন দারোয়ান জানান, “তার বিষয়ে প্রায়ই তদন্ত করতে লোকজন আসেন।” জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে অনেককে। এমনকি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিকেও জঙ্গি আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, কিন্তু ব্যবস্থা নেই অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন সরকারি আনসার কর্মকর্তা বলেন, “স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে তিনি এখন কোটি টাকার মালিক। প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে চাপ দেওয়া হয়।” অভিযুক্তের বক্তব্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন অর রশিদ রানা। তার দাবি, “আমার সম্পদের বৈধ উৎস রয়েছে।” তবে সেই উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার কথা জানিয়েছেন। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগকারী নিজেই এলজিইডির একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে কর্মরত এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগটি দাখিল করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেওয়া মো. আজহারুল ইসলাম কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন, বিল ছাড় এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগে নাটোরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলন একাধিকবার সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ রয়েছে—যার মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সুপারিশে তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে শেখ সেলিম-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সান্নিধ্যে থাকার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আজহারুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ এনেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পদায়নের জন্য কোনো ধরনের তদবির করেননি। তার ভাষায়, “কর্তৃপক্ষ যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে, সেখানেই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি।” এ বিষয়ে এখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা এবং সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা দুদকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :নেত্রকোনার মদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ চত্বরের মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাটি ভরাটের কাজ করা নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তবে পিআইও’র দাবি প্রকল্পের টাকার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেনা। তবে ভুক্তভোগী বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা নিয়েও কাজের মুজুরীর টাকা পাচ্ছেন না ঘুরছে দ্বারে দ্বারে । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মদন উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আলম মিয়া উপজেলা পরিষদের মাটি ভরাটের প্রকল্পের কাজ দেন মাটি ব্যবসায়ী উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম কে। মাটি দিয়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন জায়গার গর্ত ভরাট করে দেন নজরুল ইসলামকে দিয়ে । মাটি ভরাট করতে খরচ হয় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া তাকে কয়েক ধাপে ২লাখ ৩০হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি থাকে ১লাখ ৩৯ হাজার টাকা আজ না কাল দিবে দিবে বলে ঘোরাচ্ছেন তাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তখনকার সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া বদলির আদেশ হলে পিআইও হুমায়ুন কবির কে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মাটি ভরাটের বাকি ১লাখ ৩৯হাজার টাকা নজরুল ইসলাম কে সময় মতো পরিশোধ করতে নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু কিছু দিন যাবৎ পিআইও তাকে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না। টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে মাটি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। মাটি কাটার টাকা পরিশোধ না করে আজ না কাল তাল বাহানা করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তব কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, টাকার বিষয়টা আমার পূর্বের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল জানেন। টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি। মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় একটি মসজিদের ইমামের সরকারি ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম না হয়েও তিনি নিজের নাম ভাতা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুতুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলিখিয়ার জামে মসজিদে। এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের বিবরণ অভিযোগে বলা হয়, মসজিদ কমিটির নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকার ঘোষিত ভাতা প্রকল্পে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খাদেমদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় খাদেম ও মোয়াজ্জেমের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও ইমামের নাম বাদ পড়ে যায়। পরে জানা যায়, ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নয়ন মিয়া ওই তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার অর্থ গ্রহণ করছেন। কমিটির বক্তব্য মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “সরকার থেকে তালিকা চাওয়া হলে আমরা যথাযথভাবে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি আমাদের ইমামের নাম বাদ পড়েছে এবং অন্য একজনের নাম যুক্ত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিস্ময়কর।” তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আমরা একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই, যাতে প্রকৃত ইমাম তার অধিকার ফিরে পান।” ইমামের দাবি মসজিদের বর্তমান ইমাম মিজানুর রহমান বলেন, “আমি শুরু থেকেই এখানে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। হঠাৎ করে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমি ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমি ন্যায্য সমাধান চাই।” অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে নয়ন মিয়া বলেন, “মসজিদে পেশ ইমাম ছিল না। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি সভাপতি নন। এখানে যিনি আছেন, তিনি খতিব, তাকে পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।” প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, “অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন এক গভীর বিতর্কের মুখে। নেতৃত্ব পরিবর্তন, ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন এবং “মব চাপের মাধ্যমে দখল”—এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। একদিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের দিকে, অন্যদিকে পাল্টা দাবি বলছে—সবই নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তনের অংশ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: ইতিহাসের গৌরব থেকে বর্তমান বিতর্ক মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে ত্রিপুরায় গড়ে ওঠা “বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল” থেকেই জন্ম নেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্বাধীনতার পর এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ অলাভজনক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সাভারের মির্জানগরে এর প্রধান কার্যালয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে উপকেন্দ্র, গণবিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ নানা প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নেতৃত্ব, মালিকানা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক বিতর্ক। নেতৃত্ব সংকট ও নতুন অধ্যায় ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে সাভারের প্রধান কার্যালয়ে একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রায় ৫০–৬০ জনের একটি দল প্রবেশ করে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করায়—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের একাংশ দাবি করে, ওই ঘটনার সময় লিখিত পদত্যাগপত্রে বাধ্য করা হয় ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও ডা. মাহবুব জুবায়েরকে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। “মব” অভিযোগ ও প্রশাসনিক নীরবতা অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের ভাষ্যমতে, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য সংগঠিত চাপ তৈরি করা হয় এবং ঘটনাস্থলে নির্দেশনা সম্বলিত ফোনকল শোনানো হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ট্রাস্টি বোর্ড গঠন নিয়ে আইনি বিতর্ক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের দলিল সামনে আসে, যেখানে কয়েকজন নতুন নাম যুক্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় ছিলেন— আলতাফুন্নেসা আবুল কাশেম চৌধুরী সন্ধ্যা রায় মনজুর কাদির আহমেদ শিরিন পারভীন হক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আব্দুল কাদের আজাদ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয়। বহিষ্কৃত কর্মী ও পুনর্বহাল বিতর্ক অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির কারণে পূর্বে বরখাস্ত কিছু কর্মী পরবর্তীতে নতুন কাঠামোয় ফিরে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এটি নিয়েও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভক্ত মত রয়েছে। একপক্ষ এটিকে “পুনর্গঠন”, অন্যপক্ষ “নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল” হিসেবে দেখছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে অভিযোগ কিছু অভিযোগে পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ট্রাস্টি কাঠামো গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দাবি ও পাল্টা অবস্থান কিছু ট্রাস্টি ও কর্মকর্তা বলছেন, সব পরিবর্তন ছিল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি ছিল “সংগঠিত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দখলের প্রক্রিয়া”। আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন, পরিচালনা বোর্ড গঠন এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই আইনি স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে দলিল, প্রক্রিয়া ও অনুমোদন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনো মীমাংসিত নয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র—যা একসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল—এখন নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধতা নিয়ে এক জটিল বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং নীরবতার এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলায় নির্বাচন ব্যয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলার রিটার্নিং অফিসার এবং বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত বাস্তবতার তুলনায় দুর্গম ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষের সংখ্যা অতিরিক্ত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন আলোচনা প্রশাসনের অভ্যন্তরে রয়েছে। তবে এ অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৬২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ ও ব্যয়ের কাঠামো চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা–১) রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি স্মারকের মাধ্যমে বরিশাল জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপত্র অনুযায়ী, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন ও ফেরত আনার জন্য কেন্দ্রপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং দুর্গম কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যায় ভিন্নতা বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসারের একটি স্মারক অনুযায়ী, জেলায় দুর্গম ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৫টি এবং দুর্গম ভোট কক্ষ ১,৮৯৩টি। তবে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন অফিসের নথিতে এই সংখ্যায় অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়— মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দুর্গম কেন্দ্র প্রথমে ১০০টি উল্লেখ থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫টি করা হয়। মুলাদীতে ৭২টি কেন্দ্রের সংখ্যা পরে কমিয়ে ৩৯টি করা হয়। হিজলায় ৪৯টি কেন্দ্র কমিয়ে ২৩টি করা হয়। বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও বরিশাল সদরে দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলায় দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষ শূন্য দেখানো হয়েছে। নথিগুলোতে একাধিকবার কাটাছেঁড়া ও সংশোধনের বিষয়টি দেখা গেলেও এসব পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অর্থ না পেয়েও বিল-ভাউচার জমার অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু উপজেলা পর্যায়ে এখনো নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ পৌঁছায়নি, যদিও সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “জেলা অফিসে ডেকে বিল-ভাউচার জমা দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো অর্থ হাতে পাইনি।” তবে এই বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক বদলি নিয়ে প্রশ্ন সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে কিছু কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থসংক্রান্ত তথ্য বা অনিয়ম নিয়ে জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখা বা জেলায় বদলি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় অনীহা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেকেই ফোন রিসিভ করেননি বা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” এরপর তিনি কল কেটে দেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যা এখনো স্পষ্ট নয় বর্তমানে যেসব প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিত রয়ে গেছে— দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা কেন একাধিক নথিতে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হলো সংশোধিত নথির অনুমোদন কে দিয়েছে বরাদ্দকৃত অর্থ মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে কি না এবং অভিযোগ অনুযায়ী অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বরিশালে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় সংক্রান্ত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন ও অসমর্থিত। প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা ও নথিগত ভিন্নতার বিষয়টি সামনে এলেও, এর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এই মুহূর্তে সব অভিযোগই প্রাথমিক পর্যায়ের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের জন্য সরকারি ও স্বাধীন তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণ খাতের অন্যতম সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ফজলুল হক মধুকে ঘিরেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল প্রদান এবং ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভুয়া বিল উত্তোলন, কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান, এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই বিল ছাড়ের ঘটনাও ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল প্রদানের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া আগারগাঁওয়ে অবস্থিত একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যেখানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের কথা বলা হয়। এই ঘটনাগুলো নিয়ে জনমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং পরবর্তীতে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসময় এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলে জানা গেলেও সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস.এম. দেলোয়ার হোসেন।তিনি পটুয়াখালীতে যোগদানের পুর্বে ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভোলায় থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি তহবিল অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালীতে যোগদান করে আবারো শুরু করেছেন ভোলার কর্মরত থাকাকালীন সময়ের মত ঘুষ,অনিয়ম ও দুর্নীতি। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ-এর পালকপুত্র বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সূত্র অভিযোগ করেছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের জন্য অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন তোফায়েল আহমেদের পালকপুত্র বিপ্লবকে নারী ও মদ সরবরাহের মূল দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। সরকারি পদে থেকে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিপ্লবের বিভিন্ন নৈশ আসরে নারী সরবরাহ ও মদের ব্যবস্থা করা ছিল তার নিয়মিত দায়িত্ব। ত্রাণ তহবিল অপব্যবহারের দাবি স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ বরাদ্দ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ত্রাণের জিআর (Gratuitous Relief) বরাদ্দের প্রতি টন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়া হতো।দেলোয়ার হোসেন দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ অপব্যবহার করে তা ব্যয় করতেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতার পেছনে। অভিযোগ রয়েছে, ভোলা জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতিকে আন্দোলন দমনে সহযোগিতার বিনিময়ে কয়েক দফায় দিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এই অর্থ তিনি জিআর ফাইলের প্রতিটি টনের বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে পেতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন গত বছরের আগস্টের পর তার বদলি ভোলা থেকে পটুয়াখালীতে হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ছাত্র-সমন্বয়কের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে পটুয়াখালী বদলি হন। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের চাপও কাজ করেছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার আত্মীয়দের সঙ্গে মিলে পরিবহন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বরিশাল ও নিজের এলাকায় বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি নিজের ভায়রা ভাইকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পরিবহন ব্যবসা। জমি, বাড়ি, যানবাহনসহ নগদ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। প্রতিক্রিয়া জানতে ব্যর্থতা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার নিজস্ব ও সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। গলাচিপায় ঘুষ কেলেঙ্কারি : ঘুষ দাবির অভিযোগ পুরোনো এস এম দেলোয়ার পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালের জুন মাসে এক ঠিকাদারের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পর আলোচনায় আসেন। সুত্র জানায়, পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি কালভার্ট নির্মাণের চূড়ান্ত বিলের জন্য ঠিকাদারের কাছে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম দেলোয়ারের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ২১ জুন'২০২০ তারিখ পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলাম ঠিকাদারি কাজের পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৩১ লাখ টাকায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করে ঠিকাদার ৮ জুন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই পিআইও দেলোয়ার হোসেন ঠিকাদার সাইফুলের বাবা আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে বিলের জন্য চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।এই ঘুষের ঘটনা জানাজানি হলে বেকায়দায় পরেন এস এম দেলোয়ার। উপায় না দেখে তখন বিনা ঘুষে ঐ ঠিকাদারের বিল দিয়ে দেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে এখনই নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস সহকারী ও নাজির সোহাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি—দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোহাগ তা অস্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব ও অভিযোগের শুরু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহাগ প্রায় আট বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন। এ দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশেষ করে গত কয়েক অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ভ্যাট ও অন্যান্য হিসাব-সংক্রান্ত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। চেয়ারম্যান বানানোর নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এক ইউপি সদস্য আবু জাহের ফরাজীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্যানেল চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ বা সমর্থনের বিনিময়ে জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি নিজেও জমি বিক্রি করে সোহাগকে কয়েক দফায় মোট ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় তিনি অর্থ ফেরত চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সম্পত্তি ও বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া এলাকায় চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করছেন সোহাগ। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের অভিযোগও উঠেছে। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, “এই বাড়িটি সোহাগ ভাইয়ের। কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলছে।” তবে এসব সম্পদের উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ নির্ধারিত সরকারি হিসাব বা আইডিতে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সোহাগের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে নাজির সোহাগ বলেন, তার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দিয়ে তিনি জমি ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। চেয়ারম্যান বানানোর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ যথাযথভাবে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো রসিদ বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। জনমনে প্রশ্ন একজন উপজেলা পর্যায়ের অফিস সহকারীর সীমিত বেতনের চাকরি থেকে কীভাবে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অস্পষ্টতার মধ্যে পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।