পরাজয়ের পর তৃণমূলে অস্থিরতা: নেতৃত্ব, আই-প্যাক ও দলত্যাগের শঙ্কায় গভীর সংকটে মমতার দল ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা দলটি এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রকাশ্য বিভক্তির লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে। দলের ভেতরের অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আই-প্যাক নির্ভর রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। ‘মা, মাটি, মানুষ’ থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে দলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। দলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট সুব্রত বক্সীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি শুধু দল ছাড়ার ঘোষণা দেননি; বরং দল পরিচালনায় পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাকের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে পরোক্ষ প্রতিবাদ। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের পেছনে আই-প্যাককে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হলেও, এখন দলের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠছে—সংগঠন ও নেতৃত্বের জায়গা দখল করে নিয়েছে একটি করপোরেট রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো। কাকলি ঘোষ দস্তিদার তার চিঠিতে দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তৃণমূলের একাধিক নেতা মনে করছেন, দল তার মূল আদর্শ ‘মা, মাটি, মানুষ’ থেকে অনেকটাই সরে গেছে। প্রকাশ্যে নেতাদের বিরোধ দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন তৃণমূলের আরেক প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমালোচনায় নামেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করেছে। এরই মধ্যে দলের মুখপাত্র ঋজু দত্তকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে দলের অভ্যন্তরীণ ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো মূল সংকট মোকাবিলার বদলে বরং দলের অস্থিরতাকেই সামনে নিয়ে আসছে। শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ, বাড়ছে দলত্যাগের জল্পনা সংকটের মধ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের তিন কাউন্সিলর—আনিসুর রহমান, বীণা মণ্ডল ও মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তৃণমূলের একটি অংশ এখন বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান খুঁজছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জনপ্রতিনিধি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর পাশাপাশি দুই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তারা এটিকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছেন, তবে দিল্লির বেঙ্গল গভর্নমেন্ট গেস্ট হাউজে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকের খবর নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আড়ালে চলে গেছেন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা—ইন্দ্রনীল সেন, শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক ও অরূপ বিশ্বাস—সম্প্রতি জনসমক্ষে অনেকটাই অনুপস্থিত। দলের ভেতরের নেতারা বলছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না, আবার কেউ নীরবে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এর মধ্যে গত ১১ মে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসুকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করায় তৃণমূল আরও চাপে পড়ে। পরাজয় মানতে নারাজ মমতা? নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো ফল মেনে নিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রায় ১৫০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিগত চার দশকের মধ্যে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ বা বিধানসভার কোনো কক্ষের সদস্য নন। বর্তমানে তিনি মূলত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দিতে কলকাতা হাইকোর্টে গেলে তাকে বিরোধীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখোমুখি হতে হয়, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আই-প্যাক, টিকিট বাণিজ্য ও সাংগঠনিক বিচ্ছিন্নতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, দল এখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও তাদের দাবি। সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে আই-প্যাককে ঘিরে। পঞ্চায়েত পদ থেকে শুরু করে বিধায়ক মনোনয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘আই-প্যাকের নামে’ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এখন দলীয় অন্দরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তৃণমূলের একাধিক পুরোনো কর্মী মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামনে কোন পথে তৃণমূল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে সাংগঠনিক ভাঙন এবং দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে দলটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতদিন যেসব অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নির্বাচনী জয়ের আড়ালে চাপা ছিল, পরাজয়ের পর সেগুলো এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন কি না, নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের দীর্ঘ আধিপত্যের অবসানের সূচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বল্প সময়ের জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন রাজ্যপালকে ফলাফল জানাবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হতে পারে। এদিকে, আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটিকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত কয়েকদিন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস-কে সরিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এই ফলাফলকে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত এই নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই নেতা এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট এবং সাংগঠনিক পরিবর্তন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উত্থান এবং দলীয় ভারসাম্যের পরিবর্তন শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত দলত্যাগে রূপ নেয়। ভোটার তালিকা ও ফলাফলের প্রভাব নির্বাচনের আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়া বা সংশোধনের আওতায় আসার ঘটনা বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব আসনে বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ পড়েছে, সেখানে বিজেপির সাফল্য বেশি। যেমন—২৫ হাজারের বেশি ভোটার বাদ পড়া ১৪৭টি আসনের মধ্যে ৯৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি। সংখ্যালঘু ভোট বিভাজন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা—যেমন মুর্শিদাবাদ—এ ভোট বিভাজনও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একাধিক দলের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দুর্বল হয়ে পড়ে। মমতার অবস্থান: “আমরা হারিনি” ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তার অভিযোগ, নির্বাচন “জোর করে প্রভাবিত” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি। ভোট লুট হয়েছে। তাহলে ইস্তফা দেব কেন?” সংবিধান ও রীতি ভারতের সংবিধানে এমন পরিস্থিতির স্পষ্ট উল্লেখ নেই যে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে কী হবে। তবে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি বা সাংবিধানিক শিষ্টাচার যে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। উদাহরণ হিসেবে ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরই রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেন। মেয়াদ শেষ হলেই কী হবে? বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। ইস্তফা না দিলেও ওই দিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মেয়াদ শেষ হবে এবং তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবেন। নতুন সরকার গঠন বিজেপির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি-র বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র দিন শপথগ্রহণ হতে পারে। এদিকে অমিত শাহ কলকাতায় এসে পরিষদীয় দলের বৈঠকে নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারেন। নির্বাচিত নেতা রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি যদি শপথগ্রহণ বিলম্বিত হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে রাজ্যপাল ভূমিকা রাখতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেও ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। তবে এত স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং বর্তমান নির্বাচনী ফলাফলও মেনে নিচ্ছেন না। “আমি কেন রাজভবনে যাব? শপথ নিতে গেলে যেতাম। ওরা দখল করেছে। আমি পদত্যাগ করতে যাব না। আমরা ভোটে হারিনি,”—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচনের ফলাফলকে “অপ্রকৃত” দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। তার মতে, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, “ওরা গুণ্ডার মতো আচরণ করেছে। এমন নির্বাচন আমি কোনোদিন দেখিনি।” বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এদের মধ্যে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন। তবে সম্ভাব্য জোট বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি। রাজনৈতিক অবস্থান তৃণমূল প্রধান দাবি করেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, বরং মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যদি সঠিকভাবে পরাজয় পেতাম, তাহলে নিশ্চয়ই পদত্যাগ করতাম। কিন্তু আমাকে জোর করে পরাজিত করা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” সারসংক্ষেপ এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক চললেও তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোববার পশ্চিমবঙ্গে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর অধীনস্থ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নজর এড়িয়ে কীভাবে ওই দুই ব্যক্তি ভারতে ঢুকল, তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বর্তমানে বিজেপি-সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি বলেন, “অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত Mamata Banerjee-র পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছে দুই অভিযুক্ত।” অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে হলে আসাম ও ত্রিপুরা অতিক্রম করতে হয়, আর এই দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তার ভাষায়, “দুই রাজ্যের পুলিশ এবং অমিত শাহর বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে দুষ্কৃতীরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গই বাংলাদেশের অপরাধীদের জন্য একটি “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “শুধু হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তরা নয়, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের বা অন্য দেশের অপরাধীরা পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছে।” দেবজিৎ সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের যে প্রক্রিয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিএসএফ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনায় একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। টাইমলাইন: হাদি হত্যা মামলা ঘটনার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে হত্যা – ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি খুন হন তদন্ত শুরু – বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে প্রধান সন্দেহভাজন শনাক্ত – ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভারতে পালানোর অভিযোগ – তদন্তে উঠে আসে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে রোববার গ্রেফতার – পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফ্যাক্টবক্স: কী জানা গেছে হাদি হত্যা মামলা – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিহত: শরিফ ওসমান হাদি পদবি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রধান অভিযুক্ত: ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী অভিযুক্ত: আলমগীর হোসেন গ্রেফতার: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত সম্ভাব্য প্রবেশ পথ: মেঘালয় সীমান্ত বিশ্লেষণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঘটনাটি সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।