ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদ এবং সাংগঠনিক তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। বুধবার (২৫ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কী ঘটেছিল ধানমন্ডিতে? মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ওই উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চাপের মুখে তদন্ত কমিটি হামলার ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জামায়াতের সংবাদ কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন। এতে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সমালোচনার মুখে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে কী পাওয়া গেছে? দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বুধবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেনকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও জড়িত ছিলেন কি? জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত চারজনই ঘটনার সূচনা এবং আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা আরও কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত? বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে দায়ী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত এবং সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ২১ দিন বয়সের নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন।এ ঘটনায় নেট দুনিয়া সহ বরিশালের সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দেখেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের হাসপাতাল স্টাফ বা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন ও ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতলের সিইও রিয়াজ হাসান। এদিকে পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশিষ স্যার প্রেসক্রিপশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন। সিজারের এক ঘন্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার তার প্রেসক্রিপশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরের কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি। সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না। শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই,উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই। এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা.নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়। পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে? এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে। এ বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাচ্চাটি আমার আন্ডারে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করেছি, আমি আমার রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেইনি। তাছাড়া কোন ডাক্তার ইচ্ছা করে কোন রোগীগে ভুল চিকিৎসা করেন না। বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাবো। যেহেতু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তানাধীন তাই এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়ার নিয়োগ উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমানে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন। তবে তার এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন, তাকে কীভাবে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসানো হলো? শিক্ষার্থীদের অভিযোগে কী ছিল ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, অশালীন মন্তব্য এবং মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ক্লাস চলাকালে তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতেন। নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তির ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গবেষণা কার্যক্রমে নিরুৎসাহিত করা, নম্বর প্রদানে বৈষম্য সৃষ্টি এবং মতের অমিল হলে একাডেমিক চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভাগের সহকর্মী শিক্ষকদের সম্পর্কেও তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন, যা বিভাগের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কমিটি হলেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় আইবিএ’র অধ্যাপক আইরীন আক্তারকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত শেষ হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় ড. আমির হোসেন ভূঁইয়াকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে। ‘অমীমাংসিত অভিযোগ’ নিয়েই প্রশাসনিক পদোন্নতি? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো শিক্ষক বা প্রশাসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে সাধারণত তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না দেওয়ার অলিখিত নীতি অনুসরণ করা হয়। তাদের ভাষ্য, “তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমন নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।” তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানির অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ তদন্তে বিলম্ব এবং একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পদোন্নতি বা নিয়োগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি কাঠামোকে দুর্বল করে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। কারণ, অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তার উপাচার্য নিয়োগ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন হয়রানি ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন। অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশোভন ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কথা বলার ভিডিও ধারণ করে তা অভিভাবক ও প্রশাসনের কাছে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রোববার দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রায়ই ক্লাসে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ টেনে আনতেন। তার ভাষ্য, “তিনি আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। একবার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের প্রসঙ্গ টেনে আমাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেন, যা একজন শিক্ষকের মুখে মানায় না।” হিজাব পরিহিত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তাকে পশ্চিমা পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি, শিক্ষক তাকে বলেন— “তুমি ২০ বছর পরে জিন্স আর টপস পরে আসলে আমি তোমাকে চিনতেই পারব না।” ওই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার পর তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘদিন স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন। আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে দেখলেই সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন। তিনি বলেন, “কাউকে বাইরে কথা বলতে দেখলে ভিডিও করতেন। পরে সেই ভিডিও প্রিন্সিপাল বা গার্ডিয়ানকে পাঠানোর ভয় দেখাতেন।” অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, অফ পিরিয়ডে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় তার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে আলাদা ডেকে ভিডিওটি অভিভাবকের কাছে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষক বরুণ কুমার সাহার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির কথা কী বলছে প্রশাসন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন বলেন, আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পরই একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রশিক্ষণে থাকায় তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। তিনি জানান, গত ৭ মে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানালে নতুন করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। তার ভাষ্য, “শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ হয়েছে। কমিটি একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটি আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।” তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত সুপারিশ যুক্ত হতে পারে। ডাকসুর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, মানসিক হয়রানি, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ডাকসু বলেছে, এ ঘটনায় গড়িমসি না করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল গণপূর্ত সার্কেল অফিসে মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন। গনপুর্ত অফিস সুত্রে জানা গেছে,গনপুর্ত বরিশাল সার্কেল অফিসের নিরাপত্তা রক্ষী আব্দুল বারেক দীর্ঘদিন যাবৎ অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে আসছে। সম্প্রতি চুরির মালামালসহ আই বি জোন এর কর্মচারী রিমনের সামনে পরে। রিমন চুরির বিষয়টি গনপুর্ত বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালিদ হোসাইনের কাছে প্রকাশ করেন। গনপুর্ত বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালিদ হোসাইন চুরির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিনজন প্রকৌশলীকে তদন্ত করার দ্বায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন,সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন,উপ -সহকারী প্রকৌশলী মামুন বাড়ি ও সহকারী প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ। এ ব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন বলেন চুরির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একটি পত্র দিয়েছে।শিঘ্রই তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করবো। এ ব্যাপারে রিমনকে মোবাইলে কল করা হলে তিনি বলেন,আমি একটু পরে কল দিতেছি। যার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ সেই আব্দুল বারেকের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেন নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি এক নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান রোববার কলেজ পরিদর্শন শেষে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাকে এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কলেজে একটি তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুইজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাকে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি প্রতিক্রিয়ায় চড় মারেন। এর জেরে শাহাদাত আলী তাকে জুতা খুলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর তার ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান। পরে আরও ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং শিক্ষকদ্বয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ পরিদর্শনের সময় পরিচালক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ করে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” এ ঘটনায় দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুগ্ম সচিব (কলেজ-২) আহ্বায়ক উপ-পরিচালক (কলেজ-১, সরকারি কলেজ) সদস্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সদস্যসচিব কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ ঘটনার পরদিন বিএনপির কয়েকজন নেতা অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার ওপর হামলা হয়েছে এবং তার মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরাসরি মামলা করতে পারছেন না, তবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশের অবস্থান দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে আটক করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি হামলার শিকার আলিয়া খাতুন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এখনো কর্মস্থলে ফেরার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
বরিশাল অফিস : বরিশাল আঞ্চলিক স্কাউট কার্যালয়ে অনিয়ম, অর্থ তছরুপ এবং ব্যক্তিগত অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কমিটির সদস্যরা কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। সকাল ১০টার দিকে নগরের রূপাতলীতে অবস্থিত কার্যালয়ে পৌঁছান তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, সরকারি ফজলুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবদুর রবসহ তিন সদস্যের একটি দল। সেখানে তারা অভিযুক্ত আঞ্চলিক কমিশনার দেবাশীষ হালদার, সম্পাদক ফারুক আলম এবং কোষাধ্যক্ষ এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে লিখিত সাক্ষ্য দেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন এবং লিডার ট্রেইনার ও প্রধান শিক্ষক কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নি। এছাড়া আরও কয়েকজন স্কাউট ট্রেইনার মৌখিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য সাক্ষ্য দেওয়ার পর মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “অ্যাডহক কমিটির সদস্য কিংবা যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকার কথা নয়। কিন্তু মার্চে গঠিত কমিটিতে তাদের রাখা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নিজস্ব লোক দিয়ে একটি স্টল নির্মাণ করা হয়েছে—যা নিয়মবহির্ভূত। অন্যদিকে কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নি অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিটি অভিযোগ মোকাবিলায় “ভুয়া কাগজপত্র” তৈরি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “প্রধান অভিযুক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলামের সাক্ষ্যই এখনো নেওয়া হয়নি। আমরা সুষ্ঠু বিচার না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।” তদন্ত কমিটির অবস্থান তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আবদুর রব বলেন, “তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আপাতত দুইজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং অন্য অভিযোগকারীদের বক্তব্যও প্রমাণ সাপেক্ষে যাচাই করা হবে।” পরিচালক সাইফুল ইসলামের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি বরিশালে নেই এবং প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। গত সোমবার আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির সভাপতির উদ্যোগে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর পরিচালক সাইফুল ইসলামকে বরিশাল কার্যালয় থেকে সরিয়ে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছর ধরে আঞ্চলিক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এছাড়া গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে একটি “পকেট কমিটি” গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তারা বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চালাবে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই তদন্তের ফলাফল শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নয়, বরং আঞ্চলিক স্কাউট কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলমকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলায় কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি সিলযুক্ত প্রায় ৪০০ বস্তা চাল একটি ট্রাকে করে কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ট্রাকটি শহরের পালং মডেল থানার সামনে পৌঁছালে চালগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটকে দেয়। পরে পুলিশ ট্রাক ও চালগুলো থানার সামনে নিয়ে যায়। তবে রাতের দিকে পুনরায় চাল সরানোর চেষ্টা হলে চৌরঙ্গী এলাকায় আবারও স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে। রাত গভীর পর্যন্ত একাধিকবার স্থানান্তরের চেষ্টা ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মধ্যরাতে চালগুলো জেলা খাদ্যগুদামে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় গুদাম কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার পরদিন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন—গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারিকুল ইসলাম, জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির জানান, প্রশাসনিক কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের শিকার হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও কুকুরটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে ফেলা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী, মাজারের খাদেম ও নিরাপত্তাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয় এবং লাঠি ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে কুকুরটি দৌড়ে প্রধান ঘাটে চলে যায়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার কুকুরটিকে তাড়াতে গেলে সেটি তার পায়ে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। এ সময় ঘাটের পানির নিচে থাকা একটি কুমির মুহূর্তেই কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে এবং সেটি পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটির কামড়ে অন্তত ৭-৮ জন আহত হয়েছেন এবং তারা বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কুকুরটিকে বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা হলেও তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিডিওতে কুকুরটিকে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়নি, তবে সেটি দুর্বল ছিল এবং পানির বাইরে উঠতে পারছিল না। মাজারের খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে মাত্র একটি কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে ছাড়া হয়েছিল। ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” এরই মধ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটে ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (২৫ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে একটি দোকানে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তদন্তে ডিএমপি একটি কমিটি গঠন করেছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ওই মার্কেটের একটি পাঞ্জাবির দোকানে বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রির অফারকে কেন্দ্র করে মার্কেট কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শোরুমের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে হাতিরঝিল থানার ওসিকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। এর আগে, ঈদুল ফিতরের আগের দিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রির কারণে আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী ‘নবীন ফ্যাশন’-এর দোকান বন্ধ করে দেয়। তারা এই মূল্যছাড়কে ‘রিলিফ বিতরণ’-এর সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুতই জনমনে প্রশ্ন ওঠে—বাজারে প্রতিযোগিতামূলক বিক্রি কি অপরাধ?
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদন্ত কমিটিকে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ সময় বাসটিতে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বরিশাল: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর মেডিসিন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (রাত ১১টা) পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় আতঙ্কে রোগী সরানোর সময় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃতরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সময় মেডিসিন বিভাগে মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের দ্রুত অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। মৃত্যুর অভিযোগ নিহত আতাউর রহমানের ছেলে কাজী আনসার আলী অভিযোগ করেন, আগুনের আতঙ্কে বাবাকে নিচে নামানোর সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি তার বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দুই রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা গুরুতর অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। আগুন লাগার পর স্বজনরা তড়িঘড়ি করে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামালে এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।” আগুনের কারণ ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে রাখা পুরোনো ফোমের বেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের তথ্য অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে তিন আনসার সদস্য—রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন। তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রহমান খানকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্সিয়াল সার্জন তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে থাকা পুরোনো ফোমের বেড থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আব্দুল হামিদ ওরফে ধলা (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আসামি না হয়েও পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। তবে পুলিশ বলছে, বৃদ্ধটি সম্ভবত স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। মধ্যরাতে অভিযানে গিয়ে বাড়িতে ঢোকে পুলিশ স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (৪ মার্চ) দিনগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে করা একটি মামলায় আব্দুল হামিদের ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। ইমরান পেশায় ঢাকায় রিকশাচালক এবং কয়েকদিন আগে বাড়িতে ফিরেছিলেন। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে ওই রাতে মহাদেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আছির উদ্দিনসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য অভিযানে যান। প্রথমে তারা পাশের এক আসামির বাড়ি খুঁজে দেখেন। পরে আব্দুল হামিদের বাড়ির জানালা দিয়ে ডেকে অন্য আসামির বাড়ি দেখিয়ে দিতে বলেন বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে পুলিশ লাথি মেরে টিনের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। হাতকড়া পরিয়ে টেনেহেঁচড়া, লাথির অভিযোগ নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ইমরান ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তখন পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে আটক করে হাতে হাতকড়া পরিয়ে জোর করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। নিহতের ১১ বছরের নাতি রিপন জানায়, সে দাদার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমাচ্ছিল। রিপনের ভাষ্য, “মধ্যরাতে দরজা ভেঙে পুলিশ ঘরে ঢোকে। তারা দাদার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। আমি দাদার সঙ্গে বাইরে যাই। দাদা পুলিশকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং একজনের পা জড়িয়ে ধরেন। তখন একজন পুলিশ তাকে লাথি মারলে দাদা মাটিতে পড়ে যান।” রিপন আরও জানায়, পড়ে যাওয়ার পর আব্দুল হামিদের বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। পুলিশ চলে যাওয়ার পর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় পরিবারের অভিযোগ, আব্দুল হামিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মরদেহ বাড়িতেই রাখা ছিল। পরে নিহতের স্বজনরা থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের আবেদন নিহতের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম থানায় একটি লিখিত আবেদনে জানান, তার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি চান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বের হওয়া উচিত। পুলিশের বক্তব্য: ‘স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন’ এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় এবং একজন আসামিকে আটকও করা হয়। তিনি বলেন, “পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেখানে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পুলিশ আব্দুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে সহযোগিতা চাইলে তিনি স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেন। তার নাতিও তখন সঙ্গে ছিল। কিছুক্ষণ পর তাকে রেখে পুলিশ চলে আসে।” ওসি আরও জানান, পুলিশ চলে যাওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর খবর আসে যে আব্দুল হামিদ মারা গেছেন। তার ভাষ্য, “ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। পুলিশের মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।” তদন্ত কমিটি গঠন ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় উত্তেজনা ও প্রশ্ন এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একজন বৃদ্ধ, যিনি মামলার আসামিও নন, তাকে কেন হাতকড়া পরানো হলো—এ প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয়রা বলছেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন না হলে এ ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলতে পারে।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম’ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তাঁর অফিসকক্ষে রেখেই তালাবদ্ধ করে রাখেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর একটি দল অস্থায়ীভাবে কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সেনা সদস্যরা কয়েকটি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান বলে কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিভার ভিউ পার্ক থেকে মিছিল, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান বুধবার বেলা ১১টার দিকে জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আগে থেকেই ছিল অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রী হোস্টেলের ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অতীতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পদক্ষেপ, দুই শিক্ষক অব্যাহতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে কলেজের হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, দায়িত্বশীলরা আগে থেকেই বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতো না। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনের পরদিন একজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কারণে তাকে ধর্ষণ ও লাঞ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে যখন এই অভিযোগ করছিলেন, সে সময়ের ভিডিও বিবিসির কাছে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এ-ও অভিযোগ করছিলেন যে, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো। শুক্রবার রাতে তার স্বামীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে ওই নারী অভিযোগ এনেছেন, তারা বিএনপির কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট চিকিৎসক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে একজন মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার শারীরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। এই পরীক্ষার জন্য পুলিশ বা আদালতের চাহিদা বা অনুমতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন ওই চিকিৎসক। এদিকে, রোববার সকালে দশটায় নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য হাসপাতালেও পুলিশ থেকে কোনো পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এমন অভিযোগের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ঘটনাটি তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতার কাছে তুলবেন। একইসাথে দলটির অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। এদিকে, হাতিয়ার ওই এলাকাটি নোয়াখালী - ৬ আসনে পড়েছে। এই আসনে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন এনসিপির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মি. মাসউদ। ঘটনাটির তদন্তের আগেই নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মি. মাসউদ। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে একটি ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে তদন্ত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ওই নারীর সাথে মোবাইলে কথা বলে আইনী সহযোগীতাসহ সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিকেলে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে কী ঘটেছে? ওই নারী নোয়াখালীর নলেরচর এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বলে জানান। সরকারের তৈরি এই আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে ভূমিহীন মানুষের বাসস্থান। শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে স্থানীয় সাংবাদিকরা ওই নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার থেকে হুমকি পাওয়ায় শুক্রবার রাতে চাচাতো বোনের বাড়িতে চলে যান তিনি। সেখানেও ভাংচুর ও হামলা চালানো হয়। পরে তার স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি এসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই নারী। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার রাতে ধর্ষণ করার পর আবার শনিবার ভোর ছয়টা সাড়ে ছয়টার দিকে আবার ১০-১২ জন ব্যক্তি আসেন। সেসময় তার স্বামীকে মারধর করে আবার তাকে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন এই নারী। এই ঘটনার পর ওই নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে সাত সদস্যের একটি পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ "বানোয়াট ও মিথ্যা"। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য পুলিশ বা আদালতের রিকুইজিশন লাগে। বিবিসি বাংলাকে মি. চৌধুরী বলেন, "আমরা যথারীতি ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করলাম। পরে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ওনাকে যতটুকু পরীক্ষা করার সেটা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আইনী কর্তৃপক্ষের চাহিদা লাগে, রিকুইজিশন লাগে ধর্ষণের বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য। সেটি আসলে ফরমালি আমরা এখনো পাইনি। এসপি সাহেবের সাথে কথা হয়েছে আমার। ওনারা যদি আমাদের কাছে রিকুইজিশন পাঠান তাহলে আমরা পরীক্ষা করতে পারবো।" এই চিকিৎসক জানান, রোববার সকাল দশটার দিকে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গেলে চাহিদাপত্রের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। "আমি ওনাকে বলেছি, ফরমাল পরীক্ষার জন্য আমাদের তো আইনী কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র লাগে। আপনারা দেবেন বা ভিকটিম যদি কোর্টে মামলা করে, আমাদের কাছে চাইতে হবে। তখন আমরা একটা মেডিকেল বোর্ড করে যাবতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরীক্ষা শেষে একটা প্রতিবেদন দিতে পারবো" বলেন মি. চৌধুরী। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে হাসপাতালে কোনো চাহিদাপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশ কী বলছে? নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর সাথে সকালেই দেখা করেছেন পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন। এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর বিবিসি বাংলাকে জানান, শনিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মারধরের আমরা সত্যতা পেয়েছি। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি" বলেন মি. আকবর। নোয়াখালী – ৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফলের পর ওই এলাকায় ব্যাপক হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। মি. মাসউদ বলেন, "মহিলার অভিযোগ সত্যও হইতে পারে, মিথ্যাও হইতে পারে। এটার আমার ধারণা নাই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, লিগ্যাল প্রসেসেতো যাবে। যেই নিয়মে হওয়ার কথা, মহিলার আগে শারীরিক পরীক্ষা করবে তারপর মন্তব্য করবে। তার আগে কিভাবে এসপি মন্তব্য করে?" এদিকে, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। মি. নাসিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তিনি এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছেন। "সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে" ফেসবুকে লিখেছেন তিনি। গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর দাবি-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তার ওপর হামলা ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এদিকে, ভুক্তভোগীর স্বামী নিখোঁজ থাকায় মামলা হয়নি। ওই নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার নোয়াখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ঢাকায় এনসিপি বিক্ষোভ করে। এদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।