Brand logo light

ড্রেজার

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটের ড্রেজিং প্রকল্পে শতকোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব : নদী খননে শত শত কোটি টাকা, তবু নাব্যতা ফেরে না: বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ঘিরে গুরুতর অভিযোগ

শত শত কোটি টাকা খরচে নদী খনন, তবু এক বছর না যেতেই ডুবোচর—বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন:ড্রেজার চলে, কিন্তু নদীর গভীরতা বাড়ে না—বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং নিয়ে যত অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ, বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং নৌপথ সচল রাখার দায়িত্ব বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআইডব্লিউটিএর। কিন্তু নদী খননে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নাব্যতা সংকট কাটছে না। বরং খনন শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই কোথাও কোথাও আবার দেখা দিচ্ছে ডুবোচর। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং কার্যক্রম ঘিরে এ পরিস্থিতির পাশাপাশি উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ড্রেজিংয়ের নামে জ্বালানি তেলের হিসাব, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া, খননকৃত বালু অপসারণ এবং ড্রেজার মেরামত—বিভিন্ন খাতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোলা–লাহারহাট–বরগুনা–আমতলী–পটুয়াখালী–বরিশাল সদরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নৌযান মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।   কমিশন বাণিজ্যে ডুবছে ড্রেজিং বিভাগ:নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী  প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশীদের নাম। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি তা অস্বীকার করে বলেছেন, বর্তমানে ড্রেজিং কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।অভিযোগ উঠেছে, ড্রেজিং প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই চলে যাচ্ছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের পকেটে, যার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী  প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। বিশেষ করে ভোলা লাহারা বরগুন আমতলী পটুয়াখালী বরিশাল সদর নৌ-পথে ড্রেজিংয়ের নামে নজিরবিহীন অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। ড্রেজার সচল না থাকলেও জ্বালানি তেলের বিল তোলা, খননকৃত বালু পুনরায় নদীতেই ফেলা এবং বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার নামে এক মহালুটপাট চলছে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগে। এতে সরকারি কোষাগারের অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি নির্বাহী  প্রকৌশলীর অদক্ষতা ও তদারকির অভাবে নৌপথগুলো অচিরেই ভরাট হয়ে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।   অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো ‘জ্বালানি তেল চুরি’ এবং ‘বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া’, যা নির্বাহী  প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ  প্রত্যক্ষ আসকারায় মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একটি ড্রেজার দিনে কত ঘণ্টা চলল এবং কতটুকু মাটি খনন করল তার সুনির্দিষ্ট লগবই থাকার কথা থাকলেও সেকশনে দেখা গেছে ড্রেজার বন্ধ রেখেও ভুয়া লগবইয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার ডিজেল চুরির হিসাব দেখানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী  হিসেবে মামুন উর রশিদ  চরম অদক্ষতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘকাল ধরে এই চুরির সিন্ডিকেট সক্রিয় রেখেছে। এছাড়া খননকৃত বালু বা পলি মাটি নদীর পাড় থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে ফেলার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মাঝ নদীতেই ফেলা হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী   কারিগরি তদারকি না থাকায় জোয়ারের টানে সেই মাটি পুনরায় খননকৃত স্থানেই ফিরে আসছে, যা একই স্থানে বারবার ড্রেজিং দেখিয়ে বিল উত্তোলনের একটি অন্তহীন সুযোগ করে দিচ্ছে। অভিযোগের তিলক পড়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র নিজস্ব ড্রেজার বহর থাকার পরও রহস্যজনক কারণে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে। অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাহী  প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ  মধ্যে এক ধরণের অলিখিত কমিশন চুক্তি রয়েছে। সরকারি ড্রেজার সামান্য ত্রুটির অজুহাতে বছরের পর বছর অচল করে রাখা হয়, যাতে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার পথ সুগম হয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন নৌপথ খননে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, তা দিয়ে একাধিক নতুন ড্রেজার কেনা সম্ভব ছিল। কিন্তু কমিশনের লোভে সেই পথে হাঁটছেন না সংশ্লিষ্টরা। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি ড্রেজার বাস্তবে কাজ না করলেও ভুয়া ‘কিউবিক মিটার’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার বিল পাস করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের পেছনে প্রধান প্রকৌশলীসহ ড্রেজিং বিভাগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রকৌশলীর নাম মুখে মুখে ফিরছে, যারা দীর্ঘদিন একই পদে থেকে এই দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। দুর্নীতির আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো ড্রেজার মেরামত। ড্রেজিং বহরে থাকা কোটি কোটি টাকা মূল্যের ড্রেজারগুলো নির্বাহী  প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ  উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জং ধরছে। অথচ এই ড্রেজারগুলো মেরামতের নামে প্রতিবছর বরাদ্দ করা হচ্ছে বিপুল অর্থ। অভিযোগ উঠেছে, মেরামতের নামে যেসব যন্ত্রাংশ কেনা হয়, তার অধিকাংশের মান অত্যন্ত নিম্নমানের অথবা পুরনো যন্ত্রাংশ রং করে নতুন হিসেবে চালানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো যন্ত্রাংশ না কিনেই কেবল ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশ পাচার হওয়ার ঘটনাও নতুন নয়। নির্বাহী  প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি ড্রেজার মেরামতে যেখানে কয়েক লাখ টাকা লাগার কথা, সেখানে প্রাক্কলন বাড়িয়ে কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ যেন এখন এক ‘আলাদিনের চেরাগ’। ভুক্তভোগী লঞ্চ মালিক সমিতির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতি বছর নাব্যতা সংকটে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ি। বিশেষ করে পদ্মা ও যমুনার সংযোগস্থলে জাহাজ আটকা পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ড্রেজার চলে কিন্তু গভীরতা বাড়ে না—এ এক অলৌকিক রহস্য। সরকার হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে কিন্তু নির্বাহী  প্রকৌশলীর অদক্ষতায় নদীগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে দুর্নীতির একটি সুশৃঙ্খল চেইন রয়েছে। যদি কেউ প্রতিবাদ করতে চায়, তাকে দুর্গম এলাকায় বদলি করা হয় অথবা বিভাগীয় মামলার ভয় দেখানো হয়। জ্বালানি চুরির টাকা নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত নির্বাহী  প্রকৌশলীর দপ্তর পর্যন্ত বন্টন হয় বলে গুঞ্জন রয়েছে। কাগজে খনন, বাস্তবে ফের ডুবোচর অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—ড্রেজিংয়ের পরও নদীর নাব্যতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফিরছে না। কোথাও কোথাও খনন কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই ফের ডুবোচর দেখা দিচ্ছে। কীর্তনখোলা নদীসহ বরিশাল-ঢাকা নৌপথের বিভিন্ন অংশে নাব্যতা সংকটের কারণে ছোট-বড় নৌযান নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন নৌযান সংশ্লিষ্টরা। বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পাতারহাট-লক্ষ্মীপুর, মিয়ারচর, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে ভাটার সময় পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে লঞ্চ ডুবোচরে আটকে পড়ছে। জোয়ারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় বাড়ছে, পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন নৌযান মালিকরা। বরিশাল নৌবন্দরেও নাব্যতা সংকটের অভিযোগ রয়েছে। সেখানে নিয়মিত খনন চললেও লঞ্চের মাস্টারদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে ঘাটে নৌযান ভেড়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের অন্যতম বড় ক্ষেত্র জ্বালানি তেলের ব্যবহার। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ড্রেজার দিনে কত ঘণ্টা চলেছে, কত পরিমাণ মাটি বা পলি উত্তোলন করেছে এবং সে অনুযায়ী কত জ্বালানি ব্যয় হওয়ার কথা—এসব তথ্য লগবইয়ে সুনির্দিষ্টভাবে থাকার কথা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ড্রেজার কার্যত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও লগবইয়ে ড্রেজার চলার তথ্য দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি তেলের হিসাব দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ড্রেজিং বিভাগে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি ‘সুশৃঙ্খল চেইন’ রয়েছে। কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বদলি কিংবা বিভাগীয় মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।   খনন করা মাটিই আবার নদীতে? ড্রেজিং কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন খননকৃত মাটি ও বালু কোথায় ফেলা হচ্ছে, তা নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, খননকৃত বালু বা পলি নদীর পাড় থেকে নির্ধারিত দূরত্বে ফেলার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নদীর মধ্যেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে জোয়ারের পানির স্রোতে ওই পলি আবার খনন করা এলাকায় ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। ফলে একই এলাকায় বারবার ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। নৌযান মালিকদের অভিযোগ, এতে একদিকে সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর নাব্যতা দীর্ঘমেয়াদে ফিরছে না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগ করেন, আগে ড্রেজিংয়ের সময় বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চমালিকদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হতো। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে নেই। তার অভিযোগ, ড্রেজিং বিভাগ এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করায় খনন ও পরিমাপের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে ‘ভাটায় কাটেন, জোয়ারে মাপেন’—এমন অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ কম মাটি কাটার পর বেশি পরিমাণ মাটি উত্তোলনের হিসাব দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। নিজস্ব ড্রেজার থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ড্রেজার বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজার বহর রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন প্রকল্পে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি ড্রেজার সামান্য ত্রুটির অজুহাতে দীর্ঘ সময় অচল রাখা হয়। এর ফলে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া করার সুযোগ তৈরি হয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন নৌপথে বেসরকারি ড্রেজার ব্যবহারে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা দিয়ে একাধিক নতুন ড্রেজার কেনা বা পুরোনো ড্রেজার আধুনিকায়ন করা সম্ভব ছিল বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তবে কাজের পরিমাণের তুলনায় বেশি ‘কিউবিক মিটার’ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।   ড্রেজার মেরামতেও অনিয়মের অভিযোগ ড্রেজিং বিভাগের আরেকটি আলোচিত খাত ড্রেজার মেরামত। অভিযোগ রয়েছে, কোটি কোটি টাকা মূল্যের ড্রেজারগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘ সময় অচল পড়ে থাকে। পরে মেরামতের জন্য প্রতিবছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়। মেরামতের নামে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ কেনা, পুরোনো যন্ত্রাংশ সংস্কার করে নতুন হিসেবে দেখানো কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ না কিনেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। ড্রেজিং বিভাগের ভাণ্ডারে থাকা তামা, পিতল ও ভারী যন্ত্রাংশের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কোনো ড্রেজার মেরামতে প্রকৃত ব্যয় কয়েক লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও প্রাক্কলন বাড়িয়ে কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।   ‘ড্রেজার চলে, গভীরতা বাড়ে না’ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট আক্কাস সিকদার অভিযোগ করেন, প্রতিবছর ড্রেজিং হলেও দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, ড্রেজিংয়ের বরাদ্দ অর্থের বড় অংশ অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় হচ্ছে এবং এর ফলে একের পর এক নৌপথ নাব্যতা হারাচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। লঞ্চের একাধিক মাস্টারও বরিশাল নৌবন্দরসহ বিভিন্ন রুটে নাব্যতা সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ড্রেজিং চললেও নদীর গভীরতা স্থায়ীভাবে বাড়ছে না। বরং শুকনা মৌসুমে আবারও ডুবোচর দেখা দেওয়ায় নৌযান পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।   অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. মামুন উর রশীদ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, লঞ্চমালিকদের অভিযোগের সত্যতা নেই এবং বর্তমানে সব কার্যক্রম স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগে কী হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে ভবিষ্যতে ড্রেজিং কার্যক্রমে বিআইডব্লিউটিএ এবং লঞ্চমালিকদের একজন করে প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করা হবে। বরিশাল নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক  জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর খননের বিষয়ে লঞ্চমালিকরা তাদের অবহিত করেছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শিগগির এসব স্থান খননের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নের মুখে তদারকি ব্যবস্থা ড্রেজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য শুধু নদীর তলদেশ থেকে মাটি তোলা নয়; বরং নির্ধারিত গভীরতা নিশ্চিত করা এবং নৌপথকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখা। সেখানে ড্রেজারের কার্যক্রম, জ্বালানি ব্যবহার, উত্তোলিত মাটির পরিমাণ, মাটি ফেলার স্থান এবং ড্রেজিংয়ের আগে-পরে নদীর গভীরতা—প্রতিটি ধাপের নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণ জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে, এত বড় অর্থ ব্যয়ের প্রকল্পে এসব বিষয় কীভাবে যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে। নৌপথ সংশ্লিষ্টদের মতে, ড্রেজিংয়ের সময় স্বাধীনভাবে গভীরতা পরিমাপ, ডিজিটাল লগবই, জিপিএস-ভিত্তিক ড্রেজার ট্র্যাকিং এবং উত্তোলিত মাটির পরিমাণের তৃতীয় পক্ষের যাচাই চালু করা গেলে অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। নদী বাঁচানোর প্রকল্পই যদি নদী ভরাট করে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য নদীপথ শুধু পরিবহন ব্যবস্থা নয়; এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই নৌপথ সচল রাখতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু খননের পরও যদি নদী আবার ভরাট হয়ে যায়, তাহলে শুধু অর্থের অপচয় নয়—পুরো ড্রেজিং ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। নৌযান মালিকদের অভিযোগ, বরিশাল-ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে সেই বাস্তবতাই দেখা যাচ্ছে। তাই ড্রেজিং বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক অডিট, ড্রেজারভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব যাচাই, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার চুক্তি পর্যালোচনা এবং ড্রেজিংয়ের আগে-পরে নদীর গভীরতার তথ্য প্রকাশের দাবি জোরালো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও নথিভিত্তিকভাবে তা পরিষ্কার করার সুযোগ দিতে হবে। কারণ নদী খননের নামে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করে যদি নৌপথের নাব্যতা ফিরে না আসে, তাহলে প্রশ্নটি শুধু দুর্নীতির নয়—রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিরও। নদী খননের টাকা যেন বালুর নিচে চাপা না পড়ে—এ জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদারকি এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর বাস্তব ফলাফল যাচাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0