চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৫ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেনামি কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই প্রস্তাব পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে ইরানকে পাঠানো হয়েছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তই এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এই কাঠামো গৃহীত হলে দুই পক্ষ এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পারে। এরপর এই কাঠামোর ভিত্তিতে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আলোচনা শুরু হবে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান সব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হবে। এই ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানকে তার বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দিতে হবে, পারমাণবিক অস্ত্র কখনো না বানানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, ইরানের মাটিতে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থাকবে না এবং হরমুজ প্রণালি সর্বদা উন্মুক্ত রাখতে হবে। হরমুজ প্রণালির বিষয়ে কড়া শর্ত রাখার কারণ হলো ইরানের আংশিক অবরোধে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। আলোচনার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জেরেড কুশনার। উল্লেখযোগ্য যে ইসরাইল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখতে রাজি হয়েছে এবং হরমুজ সংক্রান্ত একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ উপহার’ পাঠিয়েছে। তিনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, উইটকফ ও কুশনার এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প শাসন পরিবর্তনের বিষয়েও মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের কাছে আসল শাসন পরিবর্তন। কারণ নেতারা সবাই সেই পুরনোদের চেয়ে অনেক আলাদা যারা এসব সমস্যা তৈরি করেছিলেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে অভিযানের যৌক্তিকতা বোঝান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গোপন এই আলোচনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা নেতৃত্ব ধ্বংসের পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়। গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার সুযোগ সূত্র অনুযায়ী, উভয় নেতা আগেই গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে জানতে পারেন—খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে একটি কমপ্লেক্সে বৈঠকে বসবেন। এতে তারা একসঙ্গে অবস্থান করায় হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েন। তবে পরবর্তীতে নতুন গোয়েন্দা তথ্য জানায়, বৈঠকের সময় এগিয়ে আনা হয়, যা হামলার সময় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। নেতানিয়াহুর কৌশলগত যুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান—খামেনিকে হত্যার এমন সুযোগ আবার নাও আসতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে পূর্বে ইরানের কথিত হত্যাচেষ্টার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি-এর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে। ট্রাম্পের অবস্থান সূত্র বলছে, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ধারণায় সম্মতি দিলেও কখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও নেননি। তবে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছিল, যা সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। হামলা ও খামেনির মৃত্যু ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শুরু হয় প্রথম দফা বোমা হামলা। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানায়, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল— ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস নৌবাহিনী অকার্যকর করা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ রোধ যুদ্ধের বিস্তার ও প্রতিক্রিয়া এর আগে জুন মাসে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়, পরে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করা। সিদ্ধান্তে প্রভাবক ঘটনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে— ভেনেজুয়েলায় সফল মার্কিন অভিযান ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হয়। ঝুঁকি ও পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্টকম সতর্ক করেছিল—খামেনিকে হত্যা করলে আরও কট্টর নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এই আশঙ্কা আংশিক সত্যি হয়েছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায়— মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হাজারো বেসামরিক হতাহত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি জ্বালানি সংকট বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে। ইরানে রেভল্যুশনারি গার্ডের কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড খ্যাত খারগ দ্বীপের দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করতে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের দখল কিংবা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার এই বিষয়ে অবগত অন্তত চারটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ওই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যতক্ষণ না তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারছেন, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়। এদিকে, এই সঙ্কটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ দখল করার যে কোনো অভিযান মার্কিন সেনাদের সরাসরি বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনতে পারলে কেবল এই ধরনের অভিযান শুরু করা হতে পারে। খারগ দ্বীপ দখল কিংবা অবরোধের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলছে, ‘‘ইরানিদের আরও দুর্বল করতে আমাদের প্রায় এক মাস ধরে হামলা চালাতে হবে। এরপর দ্বীপটি দখল করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে। যা আলোচনার টেবিলে আমাদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।’’ এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে আরও সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি ইউনিট ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন খুব শিগগিরই আরও অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ‘‘তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এটি নিশ্চিত করতে খারগ দ্বীপ দখল করতে হয়, তাহলে তা-ই করা হবে। যদি তিনি উপকূলীয় আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিও হবে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’’ মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর টম কটন বলেছেন, স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ না করে ট্রাম্প ‘বিচক্ষণতার’ পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে এই অভিযানের পক্ষে কি না, তা স্পষ্ট করেননি। খারগ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি দখল করলেই যে তেহরান ট্রাম্পের শর্তে শান্তি চুক্তিতে রাজি হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘‘এই ধরনের মিশন মার্কিন সৈন্যদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যদি আমরা খারগ দ্বীপ দখলও করি, তারা অন্য প্রান্ত থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। এমন নয় যে আমরা তাদের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করি।’’ মন্টগোমারি বলেন, আরও দুই সপ্তাহ হামলা চালিয়ে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত তাদের ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে; যার ফলে স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে না। চলতি মার্চের শেষের দিকে চীন সফরের আগেই এই যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালির এই সঙ্কট তাকে সফর পিছিয়ে দিতে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করতে বাধ্য করেছে। গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী খারগ দ্বীপের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘‘ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিতেই ওই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে এটি ছিল দ্বীপটিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে স্থল অভিযানের ভিত্তিপ্রস্তুত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।’’ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমরা যেকোনও সময় ওই দ্বীপটি দখল করতে পারি। আমি একে একটি ছোট দ্বীপ বলি; যা একদমই অরক্ষিত। আমরা পাইপলাইনগুলো বাদে বাকি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছি। পাইপলাইনগুলো রেখেছি। কারণ সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে তাদের কয়েক বছর সময় লেগে যেত।’’ স্থল সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে রহস্য রেখে তিনি বলেন, ‘‘যদি পাঠাতামও তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই আপনাদের বলতাম না।’’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। এছাড়া সমপরিমাণ সদস্যের আরও দুটি ইউনিট ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মেরিন সেনাদের খারগ দ্বীপ ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে ওই অঞ্চলের দূতাবাসগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও করতে পারেন মেরিন সেনারা।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে মার্কিন গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রন সংস্থার প্রধান ব্র্যান্ডেন কার। যুদ্ধের খবর প্রচার পছন্দ না হলে মিডিয়ার সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প- বলে জানান তিনি। শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন কার বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গুজব ও বিকৃত খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে, না হলে তাদের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও লেখেন, ইতিমধ্যে যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ভুয়া খবর বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে, তাদের এখনই লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তার এই বক্তব্যের পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ মন্তব্যকে ‘স্পষ্টতই সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যা দেন। সমালোচকদের দাবি, সংবাদ পরিবেশনের কারণে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক ও নাগরিক অধিকারকর্মী এই সতর্কবার্তাকে সেন্সরশিপের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই বার্তা মূলত এমন ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধে ইতিবাচক কভারেজ না দিলে সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নাও হতে পারে। তার ভাষায়, এটি সংবাদমাধ্যমকে বলে দেওয়ার চেষ্টা যে যুদ্ধ কীভাবে কাভার করতে হবে। ব্রেন্ডন কার এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেলের শো-তে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করায় তিনি এবিসি চ্যানেলকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আতঙ্কে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে নিয়মিত সাইরেন বাজছে এবং মানুষ মুহূর্তের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনে একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। সাইরেন শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। কিছু সময় পর বিপদ কেটে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে তারা আবার ঘরে ফিরলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নতুন করে সাইরেন বাজতে পারে—যা তাদের মধ্যে স্থায়ী উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যা দ্রুত বাড়তে পারে। সাইরেন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আগত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শনাক্ত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে সাইরেন ব্যবস্থা নিয়েও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কোনো হামলা না হলেও সাইরেন বেজে উঠছে। আবার কখনো প্রকৃত হামলার সময়ও সতর্ক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর মধ্যেও উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর বেশি প্রভাব বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষরা। নিয়মিত স্কুল কার্যক্রম এবং কর্মজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা, জরুরি খাদ্য ও পানীয় মজুত রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ একটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমার নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।” তবে তিনি জানান, মানবিক কারণে আপাতত দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খার্গ দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরানের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এসব স্থাপনাকে “ছাইয়ের স্তূপে” পরিণত করা হবে। হামলার ভিডিও ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রকাশিত একটি ভিডিওর ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এতে খার্গ দ্বীপের বিমানবন্দর ও রানওয়েসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে বড় বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে যে হামলাগুলো দ্বীপটিতেই সংঘটিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন এদিকে সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাডার কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা ১২ দিনের চলমান সংঘাতে সামরিকভাবে বড় সাফল্য না পেলেও ইসরায়েল সরকার তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক পরিস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। মূল্যস্ফীতি কমছিল, মর্টগেজ সুদের হার ধীরে ধীরে নেমে আসছিল এবং জ্বালানির দামও ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—মার্কিন অর্থনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হবে না। তার ভাষায় এটি একটি “স্বল্পমেয়াদি অভিযান”। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ইরানের কঠোর অবস্থান ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। যুদ্ধের শুরু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্র। এই ঘটনাকে ঘিরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তবে ট্রাম্পের দাবি—ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে। সেই সব স্থাপনায় একের পর এক হামলা চলছে।” তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন “প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।” ইরানের পাল্টা বার্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, “এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান আরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। নাঈনির ভাষায়, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড এখন এক টনেরও বেশি।” তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে “সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।” তেলের বাজারে বড় ধাক্কা এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলবাজারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে একটি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনকি আইআরজিসি বলেছে, “অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।” মার্কিন অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গত এক সপ্তাহেই প্রতি গ্যালনে গ্যাসের দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ট্রাম্প নিজে বলেছেন তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, “যদি গ্যাসের দাম বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।” কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানি খরচ নয়—এটি পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক বছরে মাত্র ২.৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে সেই হিসাব বদলে যেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এ বছর মূল্যস্ফীতি আবার ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর কারণ— জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান ভাড়া বাড়বে পরিবহন খরচ বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে ফলে পুরো অর্থনীতিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে। ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা মার্কিন অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশই নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। কিন্তু দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রি ২০২৫ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডি বলেন, “গ্যাসের দাম যদি গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার থেকে ৪ ডলারে উঠে যায়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” তার মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবাসন বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা যুদ্ধের আগে মার্কিন আবাসন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল। মর্টগেজ সুদের হার ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বেশি সুদ দাবি করছেন। ফলে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং এর সঙ্গে মর্টগেজ সুদের হারও আবার ৬ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। এটি বাড়ি কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। গড় পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম টানা বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মার্ক জ্যান্ডির মতে, “প্রতি ব্যারেল তেলের দাম টানা ১০ ডলার বাড়লে গড় মার্কিন পরিবারের বছরে প্রায় ৪৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে।” এটি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্র হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে— বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, “আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে দেব না।” যুদ্ধ কতদিন চলবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। কিন্তু অন্যরা বলছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেন, “হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম আবার কমে যাবে। আবার এমনও হতে পারে কয়েক মাস পরও আমরা একই অবস্থায় থাকব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তখন আমরা চাকরি কমানো এবং সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে কথা বলব।” মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি এই সংঘাতের একটি বড় রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি যদি খারাপ হতে শুরু করে— মূল্যস্ফীতি বাড়ে গ্যাসের দাম বাড়ে চাকরি কমে তাহলে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অসন্তোষ বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপও কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে— বিশ্ববাজারে তেলের দামে মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে আবাসন বাজারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কারণ সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতির আগামী পথ।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে। ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, খুব শিগগিরই ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি এ হামলা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই হামলা হবে ব্যাপক ও বিস্তৃত। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে সীমিত আকারের হামলা চালিয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না। বরং ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় সমন্বিতভাবে মিসাইল ও বিমান হামলা চালানো হতে পারে। যৌথ অভিযানে থাকতে পারে ইসরায়েল প্রতিবেদনে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এ অভিযানে অংশ নিতে পারে ইসরায়েলl। দুই দেশ যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে, যা দেশটির সরকারের টিকে থাকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইসরায়েলের লক্ষ্য হতে পারে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটানো। কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক প্রস্তুতি একসঙ্গে গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জের্ড ক্রুসনারের মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মার্কিন পক্ষের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান আব্বাস আরাগচি। এর ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত থাকলেও, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। এতে করে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। আগের উত্তেজনার প্রেক্ষাপট গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের এক সংঘাত হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত হয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত ছিল। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। এখন নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে ‘চাপ ও আলোচনা’—দুই পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। এক মার্কিন উপদেষ্টা এক্সিওসকে জানিয়েছেন, ইরানে বিমান হামলার সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের প্রস্তুতি—দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান না হলে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য এ হামলা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।