Brand logo light

টেন্ডার সিন্ডিকেট

প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

সওজে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’: মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সওজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বর্তমানে সওজের জনবল নিয়ন্ত্রণ ও বদলি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় তাঁর অদৃশ্য প্রভাব বজায় রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধাজনক পোস্টিং ও বদলির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন এই প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন বলে তাঁদের দাবি। কক্সবাজারে ১৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রাক্কলন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়। সেখানে সমুদ্র উপকূলীয় ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো ছিল নিয়মিত চর্চা। পরবর্তীতে রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ‘কোর সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে ৪ থেকে ৫ জন প্রভাবশালী ঠিকাদারকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ নিশ্চিত না করলে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কিংবা কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্কের তথ্য দুদকে জমা পড়া অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে “আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নিম্নমানের কাজ ও পুনঃসংস্কারের চক্র মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বা সংস্কার করা সড়ক বর্ষা শুরুর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদনের সংস্কৃতি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ফলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক পুনরায় সংস্কারের তালিকায় চলে আসে। কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না—অভিযোগ সওজের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হতো না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন নেওয়ার কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলেও চূড়ান্ত বিল অনুমোদনে বাধা থাকত না। টিআইবির পর্যবেক্ষণ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সড়ক খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এত দীর্ঘ সময় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও টেন্ডার জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরে আদি বাড়ি থাকা মনিরুজ্জামান গত এক দশকে ঢাকা, ফরিদপুর ও রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফরিদপুরে কৃষি ও অকৃষি জমি, রাজশাহীতে বাণিজ্যিক প্লট ও ফ্ল্যাট, এবং ঢাকার বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা ও নিকেতন এলাকায় তাঁর ও আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপুল অঙ্কের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি গ্রেড-২ বা গ্রেড-৩ কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।” সওজের ভেতরে অসন্তোষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজস্ব সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থের জোরে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।” তিনি আরও বলেন, “ই-জিপি ব্যবস্থায় কারিগরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অনেক ঠিকাদারকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে।” বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অবৈধ সম্পদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।” তিনি বলেন, “দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা তথ্য চাইলে মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প
ডিপিএইচই’র উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: মোহাম্মদ হানিফকে ঘিরে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। সংস্থাটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আধিপত্য এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিপিএইচই’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফের নাম। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবু একের পর এক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এবং তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান তাঁকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ডিপিএইচই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্পে কাজের মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সিলেট বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ হানিফের কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ ওঠে, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো। এতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যদিও সে সময় এসব অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তবে একাধিক প্রকল্পের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। নলকূপ ও পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেকুয়া, ইন্দুরকানী এবং লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত নলকূপ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত গভীরতায় নলকূপ খনন না করেই পূর্ণ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও নিম্নমানের পাইপ ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সরকারি নথিতে এসব প্রকল্পকে “শতভাগ সফল” হিসেবে দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছ থেকে গোপনে টাকা নেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকারিভাবে বিনামূল্যে নলকূপ স্থাপনের কথা, সেখানে একটি প্রভাবশালী চক্র সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ মোহাম্মদ হানিফের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব অভিযোগের কিছু বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে। ডিপিএইচই’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ হানিফ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের বিষয়; তবে তাঁর দায়িত্বাধীন সময়ে এসব কার্যক্রম চলমান থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাগজে অগ্রগতি, মাঠে ভিন্ন বাস্তবতা অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রকল্পের প্রাক্কলন ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হতো যাতে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও সরকারি নথির তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগও উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় স্থাপিত নলকূপ কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে। কোথাও আবার পানি ওঠেনি। কিন্তু সরকারি রেকর্ডে সেসব প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত হিসেবে দেখানো হয়েছে। “বিশেষ বলয়” তৈরির অভিযোগ মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প অনুমোদন, বিল পাস এবং মাঠপর্যায়ের তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাই নিয়োজিত ছিলেন। ফলে একই গোষ্ঠীর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যারা অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, তাঁদের প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হতো। একই ঠিকাদারের বারবার কাজ পাওয়ায় প্রশ্ন একাধিক প্রকল্পে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পুনরাবৃত্ত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্যান্য ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হতো। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকায় সরকারের ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র ব্যবস্থা দুর্নীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। মাঠ পরিদর্শন ছাড়াই বিল তোলার অভিযোগ প্রকল্প পরিদর্শনের নামে অতিরিক্ত ভাতা ও ভ্রমণ বিল তোলার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক প্রকল্পে কাজ শুরু হওয়ার আগেই কাগজে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে প্রকল্প এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম সরকারি অর্থের বড় ধরনের অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়। জবাবদিহির প্রশ্ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপিএইচই’র মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা বিশুদ্ধ পানির জন্য সরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ শুধু কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে এখন দাবি উঠেছে, প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। সচেতন মহলের মতে, শুধু নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের নয়, প্রকল্প অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে। তাঁরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন অডিট, নিয়মিত মনিটরিং এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় জনগণের জন্য বরাদ্দ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাবে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ
বিসিকের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিসিকের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (মূল পদবী: উপ-মহাব্যবস্থাপক) মোঃ রাশেদুর রহমান।  নিয়োগ ও পটভূমি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর নিয়োগ পান এবং ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর বিসিকে যোগদান করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা যায়।  অভিযোগ কী বিভিন্ন সূত্রে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, তিনি বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতর্ক ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে তার সমালোচনামূলক পোস্ট বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠনের সুযোগ রয়েছে।  কর্তৃপক্ষের অবস্থান বিসিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  অভিযুক্তের বক্তব্য মোঃ রাশেদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন: “আমি এখন সরকারি চাকরি করি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ: সারোয়ার জাহানকে ঘিরে তদন্ত, স্থগিত অর্ধশতাধিক বদলী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক বেশ কিছু বদলী আদেশ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। বদলী আদেশে অনিয়মের অভিযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনেই অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলী আদেশ জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এসব আদেশে সংস্থাপন শাখার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দুই বছরের কম সময় কর্মরত কর্মকর্তাদেরও বদলী করা হয়েছে, যা প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নিয়মবহির্ভূত বদলী অনুমোদন এবং কিছু কর্মকর্তাকে হয়রানির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব বদলী আদেশ স্থগিত করে এবং অনিয়মিত আদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অভিযোগ দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জারিকৃত বিভিন্ন অফিস আদেশে তাঁর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। পূর্বের অভিযোগ ও তদন্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে জামানতের অর্থ অবৈধভাবে ক্যাশ করার অভিযোগ পূর্বে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে কোনো শাস্তি ছাড়াই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্যের পাশাপাশি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে একটি বাড়ি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। ‘সিন্ডিকেট’ ও টেন্ডার প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি প্রভাবশালী ‘মাফিয়া চক্র’ ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে সারোয়ার জাহান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুদক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নির্দেশে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে বড় আকারের বদলী বা পদোন্নতির ফাইল অগ্রসর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বদলী ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অভিযোগকারী ইকবালুর রহিম, যিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার, বলেন— এসব অনিয়ম সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগ সম্পর্কে সারোয়ার জাহান বলেন, বদলীর সিদ্ধান্ত তিনি একা নেন না; সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী-পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে পূর্বের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তির অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবার মান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট
বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট: কৃষ্ণ পরিবারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

স্বাস্থ্যখাতে  শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:—     নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ     প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি     নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ     অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে—     ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল)     শিপ্রা রানী পিপলাই     সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই     সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো—     আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই     পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই     বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে—     ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয়     জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র     দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী—     অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা     এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য:     পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন ।     দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ।     আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে ।     ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক  আহম্মদুল্লাহ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন: সিন্ডিকেট, নিয়োগ জালিয়াতি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে

বিপিসিতে ‘ক্ষমতার সিন্ডিকেট’ অভিযোগে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আহম্মদুল্লাহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এ দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক মো. আহম্মদুল্লাহ। বিপিসির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ আহম্মদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এবং সেগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন সূত্রগুলোর দাবি, ২০১৯ সালে বিপিসিতে যোগদানের পর থেকেই আহম্মদুল্লাহ দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি বিপিসিতে চাকরি পান। স্থানীয় সূত্র বলছে, একসময় তিনি সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকেই তার চাকরির পথ তৈরি হয়। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে চাকরি নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সমালোচকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিচয়কেই তিনি বিপিসির ভেতরে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন একই পদে বিপিসিতে চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারীর পদ সাধারণত সহকারী ব্যবস্থাপক বা ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পালন করেন। কিন্তু আহম্মদুল্লাহ উপব্যবস্থাপক বা ৬ষ্ঠ গ্রেডে থেকেও বছরের পর বছর ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির প্রবিধানমালা অনুযায়ী এটি নিয়মবহির্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি বহাল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। রহস্যজনকভাবে বাতিল বদলি আদেশ ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগে আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি আবার আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। বিপিসির অনেক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে তার অদৃশ্য ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ বিপিসির ভেতরের কয়েকটি সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আহম্মদুল্লাহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী— ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন মিরপুর এলাকায় দুটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় গোপন লকারে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এছাড়া স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নামেও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘বরিশাল সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিপিসির ভেতরে তার প্রভাব বজায় রাখতে আহম্মদুল্লাহ “বরিশাল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই তার নিজ অঞ্চলের বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহযোগী হিসেবে আরেক কর্মকর্তার নাম এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উপব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ারের নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ডিপো ও রিফাইনারি থেকে অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে “অঘোষিত ক্যাশিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন বছর ১৭ দিনের মধ্যে তার পদোন্নতি হয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নিয়োগের অভিযোগ বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউস, লিয়াজো অফিস এবং অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার বিরাগভাজন হওয়ায় অনেক দক্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা বা চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় প্রকল্পেও প্রভাব বিপিসির কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে— এসপিএম প্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্প ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্প অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ আরও অভিযোগ রয়েছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্যাংকে বিপিসির বিপুল অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর বিনিময়ে তার আত্মীয়দের ওইসব ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোতে বিপিসির প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘুষ ও মাসোয়ারার অভিযোগ কিছু সূত্রের দাবি, বেসরকারি রিফাইনারি থেকে মাসিক মাসোয়ারা গ্রহণ, বিটুমিন ও ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আপ্যায়ন ও জ্বালানি বিল বাবদ ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫১ টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া একটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাবেক চেয়ারম্যানকে খুশি করার নামে এসি কেনার জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিপিসির নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম মূল হোতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্তাবাহক পদে ভুয়া ঠিকানায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবু এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধান এদিকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আহম্মদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার নিজ জেলা ঝালকাঠি। অন্য সব অভিযোগ “বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0