Brand logo light

ইরান হামলা

ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও মানবিক বিপর্যয়

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন শুধু যুদ্ধবিমানের শব্দ নয়—ভেসে বেড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের অস্তিত্ব সংকটের প্রশ্নও। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে বিশ্বকে দাঁড় করিয়েছে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে: রাষ্ট্রগুলো কি আর আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য বোধ করছে? বিশ্বজুড়ে শতাধিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষরিত এক খোলা চিঠি সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-এর একটি অনলাইন জার্নালে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য বিপজ্জনক নজির হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শক্তি প্রয়োগ: আইনের সীমা কোথায়? আন্তর্জাতিক আইনের মূল কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে জাতিসংঘ -এর সনদের মাধ্যমে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে—আত্মরক্ষা বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ সেই সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে: এটি কি প্রতিরক্ষা, নাকি আক্রমণ? ‘No Quarter’: যুদ্ধনীতির লঙ্ঘন? মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের  “no quarter” মন্তব্য—অর্থাৎ শত্রুকে কোনো দয়া না দেখানোর আহ্বান—আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি -এর যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী বা আহত যোদ্ধাকে হত্যা করা যুদ্ধাপরাধ। এই নীতির ভিত্তি হলো—যুদ্ধেও মানবতা রক্ষা করতে হবে। মিনাব: একটি স্কুল, একটি ভুল, নাকি যুদ্ধাপরাধ? ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা এই সংঘাতের সবচেয়ে অন্ধকার দিক তুলে ধরে। হামলায় নিহত হয় অন্তত ১৬৮ জন, যার মধ্যে ১১০ জনই শিশু। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাশের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়। যদি এটি অবহেলার ফল হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—বিশেষ করে যখন বেসামরিক অবকাঠামোকে সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট। সংখ্যার আড়ালে মানবিক বিপর্যয় এই যুদ্ধ শুধু কৌশলগত নয়—এটি এক গভীর মানবিক সংকট। ইরানে নিহত: ১,৬০৬ জন (২৪৪ শিশু) লেবাননে নিহত: ১,৩৪৫ জন ইসরায়েলে নিহত: ১৯ জন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিহত: অন্তত ২৪ জন এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি গল্প, একটি হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার এই পরিস্থিতিকে “বেপরোয়া” বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “কোনো এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আইনকে যেন পাশ কাটানো হয়েছে।” যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: নিরাপত্তা নাকি কৌশল? হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ ও নিজ জনগণের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের যুক্তি—যদি আইন লঙ্ঘন করেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, তবে সেই নিরাপত্তা কতটা টেকসই? আইনের ভবিষ্যৎ: ভেঙে পড়ছে কি বৈশ্বিক কাঠামো? এই সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও একটি পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হ্যারল্ড হংজু কোহ, ওনা এ. হ্যাথাওয়ে এবং জনাথন ট্রেসি-এর মতো ব্যক্তিত্বরা সতর্ক করেছেন—এ ধরনের নজির যদি চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আইনের তোয়াক্কা না করেই সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হবে। শেষ প্রশ্ন যুদ্ধের ময়দানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে অস্ত্রের শক্তিতে। কিন্তু ইতিহাস বিচার করে—কোন পক্ষ আইন ও মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এই সংঘাত সেই বিচারের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন প্রশ্ন একটাই: আন্তর্জাতিক আইন কি শুধু কাগজে থাকবে, নাকি বাস্তবেও তার প্রয়োগ নিশ্চিত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
রকেট হামলা
ইরানের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরান এবং তাদের মিত্র “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, বাহরাইন-এ অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত-এর আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলা “পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি” নিয়ে অব্যাহত থাকবে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
আরব আমিরাতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
আমিরাত–কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন হামলা, শিল্পাঞ্চলে আগুন | কুয়েত বিমানবন্দরের রাডারে ব্যাপক ক্ষতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর একটি শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে এই আগুন লাগে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। এক মাস আগে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার তীব্রতা বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আবুধাবি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খলিফা ইকোনমিক জোনস এলাকায় দুটি পৃথক স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকল বাহিনী। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায়। অন্যদিকে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরটি একাধিক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ইরানকে দায়ী করে কুয়েত বলেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে বিমানবন্দরটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ
স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ : ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।   জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

* হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে: ইরান সংঘাতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা সাজানো ভূ-রাজনীতি আজ এক গভীর খাদের কিনারায়। ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমন এক যুদ্ধের ভেতরে টেনে এনেছে, যা তারা যেকোনও মূল্যে এড়াতে চেয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধে জড়ানোর মুখে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান ছাড়াই ইরানবিরোধী একটি আরব-ইসরায়েল অক্ষ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত জোট যখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তখনই পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। গত তিন বছরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে আপস ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংঘাত তা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। অথচ একসময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদি তেল শোধনাগারে ইরানের নিখুঁত হামলা এবং পরবর্তীতে আবুধাবিতে ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তারা বুঝতে পারে, বিপদের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় যথেষ্ট নয়। ফলে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, যা ছায়া যুদ্ধের উত্তাপ কমিয়েছিল।   কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক হামলার ছক কষেছে, তখন ইরানও পিছু হটার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা যখন দেখলেন ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার কোনও সদিচ্ছাই দেখাচ্ছে না, তখন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করেছিল যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ইরানের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর কোনও বাস্তববাদী স্বৈরশাসক আসবে। কিন্তু তেহরান সেই চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি প্রতিবেশীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।   মিডিয়াতে ইরানের হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন সহিংসতা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি গভীর সুচিন্তিত কৌশল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে মূল লক্ষ্য বানালেও কাতার, ওমান এমনকি সৌদি আরবও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইরান তাদের জনগণকে এই বার্তা দিচ্ছে যে তারা কতটা অরক্ষিত। স্থানীয় শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে রাষ্ট্রপ্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের মনে কতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইরানের এই রণকৌশলের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত আঘাত হেনে যুদ্ধবিরতির চাপ তৈরি করা। কোনও বিশেষ প্রচেষ্টা ছাড়াই কেবল হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। প্রত্যক্ষ হামলা ছাড়াই সৌদি তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দামের মুখে যুক্তরাষ্ট্রও আজ দিশেহারা। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, শাহেদ ড্রোন ও সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান পশ্চিমের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। প্রাথমিক সফলতায় ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র উল্লাস করলেও ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেলে আসল বিপর্যয় শুরু হবে।   উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তাদের অগাধ বিশ্বাসের প্রতিফলন না ঘটা। এই দেশগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক আগ্রহ এবং স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে, তাদের টিকে থাকার জন্য জরুরি এমন এক যুদ্ধ শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কোনও কার্যকর পরামর্শই করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার যে মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনা, তার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া থেকে এই আরব দেশগুলো মুক্ত থাকতে পারবে না। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য নিরাপত্তার বদলে উল্টো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুবাই বা রিয়াদের মতো আধুনিক শহরগুলোর বাসিন্দারা ভাবতেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল সিরিয়া, সুদান বা ইয়েমেনিদের জন্য, তাদের জন্য নয়। কিন্তু ইরান সেই বিভ্রম ভেঙে দিয়েছে। ইরান যদি এই যুদ্ধে টিকে যায়, তবে তারা এই জবরদস্তিমূলক শক্তির কথা মনে রাখবে। আর যদি ইরানের পতন ঘটে, তবে শরণার্থী স্রোত, উগ্রবাদ আর অস্থিতিশীলতায় পুরো উপসাগর অস্থির থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের এই আক্রমণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। আস্তিত্বের সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক কাতারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরব দেশগুলোকে আতঙ্কিত করছে। তারা ভাবছে, আজ ইরান হলে কাল হয়তো তাদেরই পালা। আর এই গভীর নিরাপত্তাহীনতাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সাজানো সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত সালেহ আহমেদ
আমিরাতে নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ, যিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকার ছবর আলীর ছেলে। রোববার (১ মার্চ) রাতে সালেহ আহমেদের চাচাতো ভাই এবং প্রবাসী মাহবুব আলম চৌধুরী জানান, সালেহ আহমেদ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর তিনি কাজে বের হন। মাহবুব আলম চৌধুরী আরও জানান, "সেখানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সালেহ আহমেদ ইফতার শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জরুরি খাদ্য ও পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তার সঙ্গে আরও একজন সহকর্মী ছিলেন। হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সালেহ আহমেদ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল।" এ সময় তার সঙ্গে আরও একজন বাংলাদেশি আহত হন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সালেহ আহমেদ নিহত হন। আন্তর্জাতিক সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, হামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজ ও স্থানীয় কমিউনিটি এই দুর্ঘটনার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0