ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডিম নিক্ষেপ, ইটপাটকেল ছোড়া, মারধর এবং পরবর্তীতে অস্ত্রধারী দুই যুবকের উপস্থিতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার দাবি পাওয়া গেছে। ঘটনার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপিকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ–এর সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিছুক্ষণ পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। পরে তাকে ঘিরে কিল-ঘুসি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। পরে নেতাকর্মীদের বেষ্টনীতে মসজিদ এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।
হামলার পর ডিমে ভেজা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন পাটওয়ারী। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
সদর থানায় অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের একটি অংশ একই অবস্থানে ছিল। তার ভাষায়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের “ইন্ধন” ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়।
পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, তিস্তা ইস্যু, ধর্ষণবিরোধী বক্তব্য এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা ভীত নই। রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে।”
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা দুই যুবকের ছবি। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অস্ত্রধারী দুজন হলেন সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের আশিক এবং মাস্টারপাড়ার সিয়াম। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একটি ফেসবুক পোস্টে তাদের “শিবিরকর্মী” হিসেবে আখ্যা দেন।
তার দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী “মব তৈরি করতে” ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল এবং শাহেদ আহমেদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
তাদের বক্তব্যে বলা হয়, হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা হামলা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করাকে “অপপ্রচার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের বহিঃপ্রকাশ। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এবং ঐতিহ্যগত বিরোধী রাজনৈতিক বলয় বিএনপি-ছাত্রদলের মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও জনসমর্থন নিয়ে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।
বিশেষ করে “মব পলিটিক্স”, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উসকানি এবং সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগ—এসব বিষয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ঘটনার পর এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং মামলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নির্বাচনের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, ক্ষমতার কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেই অবস্থান কতটা অপরিবর্তিত থাকে—এ প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। মঙ্গলবার (৯ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে লক্ষ্য করে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি বাড়ি-গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বললেও সংসদে প্রবেশের পর গাড়ি ও অফিসের দাবি তুলেছে। রাশেদ খান, যিনি একসময় গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন, লিখেছেন যে শুরুতে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নেবেন না বলে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সংসদে যাওয়ার পর তাদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মারদিয়া মমতাজকে ঘিরেও প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, মারদিয়া মমতাজ বলেছেন আত্মীয়ের বাসায় থেকে সংসদে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকারি আবাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, যদি তিনি অতীতে শিক্ষকতা এবং নিয়মিত টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তাহলে একই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সুবিধার প্রয়োজন কেন দেখা দিল। পুরোনো টকশো অভিজ্ঞতার উল্লেখ পোস্টে রাশেদ খান একটি টেলিভিশন টকশোতে মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মারদিয়া মমতাজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার সময় তার বক্তব্যে জামায়াতপন্থী অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলে রাশেদ খানের দাবি। তিনি আরও বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে মারদিয়া মমতাজ নিজেকে জামায়াতের কোনো পদধারী বা আনুষ্ঠানিক কর্মী নয়, বরং সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আদর্শ বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন রাশেদ খানের পোস্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে ব্যবধান নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনের আগে গাড়ি, বাড়ি ও অফিসের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রয়োজনীয়তাই সামনে চলে আসে। তার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার পর বাস্তব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। কোনো দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি নির্বাচনের আগে কঠোর নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, তবে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাশেদ খানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা মারদিয়া মমতাজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইউটিউবভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানবজমিন সম্পাদক দাবি করেন, গণভবন ছাড়ার তাড়াহুড়োয় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি পদত্যাগপত্র; সেটি শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগেই থেকে যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন পৃষ্ঠার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং দেশ ছাড়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গে নিয়ে যান—এমন দাবি করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। রোববার (৩১ মে) ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য পোস্ট’-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা একটি প্রত্যক্ষদর্শী-ভিত্তিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। কী দাবি করা হয়েছে? মতিউর রহমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের আগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি তিন পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করেন। সেই চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইপ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) এক কর্মকর্তার ওপর দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেটি আর চূড়ান্ত রূপ পায়নি। শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল? সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে গণভবনের চারপাশে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী অবস্থান নিতে শুরু করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সে সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা ওয়াকিটকির মাধ্যমে বারবার সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন মতিউর রহমান চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেন এবং জানান যে সেখানে অবস্থানের জন্য আর সময় নেই। এই তাড়াহুড়োর মধ্যেই শেখ হাসিনা তাঁর ব্যক্তিগত ভ্যানিটি ব্যাগ একটি চেয়ারের ওপর ফেলে বেরিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাড়িতে ওঠার আগে ব্যাগটির কথা মনে পড়লে একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সেটি এনে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মতিউর রহমান চৌধুরীর দাবি, ওই ব্যাগের ভেতরেই সংরক্ষিত ছিল তিন পৃষ্ঠার সেই পদত্যাগপত্র। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দাবি? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ত্যাগের প্রক্রিয়া অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন কি না, করলে কখন এবং কীভাবে করেছিলেন—এ প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। যদি এমন কোনো পদত্যাগপত্র বাস্তবেই থেকে থাকে, তবে সেটি ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংবিধানিক বিতর্ক এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেনি। যা জানা জরুরি এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য মূলত মতিউর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর স্বাধীন ও প্রামাণ্য যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিরাজগঞ্জে দায়ের করা এক মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা–র বিরুদ্ধে পত্রিকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু–কে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দেন আমির হামজা। এ ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হলে দলের নির্দেশনায় গত ২ এপ্রিল তিনি মানহানির মামলা দায়ের করেন। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার পর আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে রোববারও আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আইনজীবীরা বলছেন, কোনো আসামি ধারাবাহিকভাবে আদালতে অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির নির্দিষ্ট ধারার আওতায় আদালত এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন।