Brand logo light
রাজনীতি

রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের: জাতির উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই ‘যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের’। একই সাথে তিনি জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লায় এবং ১১ দলীয় প্রার্থীকে তাদের প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত দেশব্যাপী দেয়া ভাষণে ডা. রহমান একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুব, নারী এবং প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশকে ন্যায়সঙ্গত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য জাতীয় ঐক্য, মূল্যবোধের পুন:প্রতিষ্ঠা এবং নীতিবান নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে আমির বলেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। 

জামায়াতের আমির বলেন, তার বক্তব্য নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে নয় বরং জাতির ভবিষ্যতের প্রতিফলন হিসেবে ছিল। তিনি বলেন, "আমি হৃদয় থেকে এমন বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে চাই যা কেবল এই প্রজন্মের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য-মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ"।

ভাষণের শুরুতে জামায়াতের আমির জুলাইয়ের বিদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। জুলাই মাসকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ‘আমরা আর একটি জুলাই চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নাগরিকদের তাদের অধিকার দাবিতে কখনও রাস্তায় নামতে না হয়’।

ডা. রহমান বলেন, তরুণদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস, প্রতিভা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। ‘তারা পরিশ্রমী, নির্ভীক, সত্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত," তিনি সমাজকে এমন সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান যা তাদের অর্থপূর্ণভাবে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়।

জামায়াতের আমির জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য একটি স্লোগান নয় বরং একটি দায়িত্ব, তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভাজন দেশকে দুর্বল করে এবং অন্যায়কে আরও গভীর করে। তিনি গত দশকে গণতান্ত্রিক অনুশীলনের ক্ষয় এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হিসেবে বর্ণনা করাকে সমালোচনা করেন, অভিযোগ করেন- ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষ যখন তাদের ভোটাধিকার হারায়, তখন তারা তাদের কণ্ঠস্বর হারায়। তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব এবং ভিন্নমত দমন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করেছে।

নৈতিক নেতৃত্ব নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে ড. রহমান বলেন, নৈতিকতাবিহীন রাজনীতি নিপীড়নের দিকে পরিচালিত করে। একজন নেতা শাসক নন, বরং জনগণের সেবক। তিনি বলেন, নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে সততা, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

তিনি সততা, ঐক্য, ন্যায়বিচার, যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের উপর কেন্দ্রীভূত বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, এই মূল্যবোধগুলি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বৈষম্যকে প্রতিস্থাপন করবে। আমাদের অবশ্যই সততা এবং ন্যায়বিচারকে হ্যাঁ বলতে হবে, এবং দুর্নীতি ও নিপীড়নকে না বলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. রহমান শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং অর্থনীতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক, মূল্যবোধ-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। 

“শিক্ষা নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে এবং প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি হতে হবে। আজ বিশ্ব প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা আমাদের সন্তানদের দক্ষ কারিগরদের হাতে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদের প্রকৃত কাজের সুযোগ প্রদান করতে চাই। আমরা তাদের বেকার ভাতা দিতে চাই না,”।

বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং সহজলভ্য হতে হবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে একটি জাতি অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না।

‘সমাজে ন্যায়বিচার দৃঢভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা আমাদের আকাঙ্খার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। অন্যথায়, স্বৈরাচার এবং দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব হবে। অতএব বিচার বিভাগকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্গঠন করতে হবে এবং কেবলমাত্র সৎ, যোগ্য এবং প্রতিশ্রুুতিবদ্ধ ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের বেঞ্চে বসানো উচিত,’ বলে উল্লেখ করেন আমির।

তিনি বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের গুরুত্বের উপরও জোর দেন, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ বিনিয়োগ-বান্ধব হতে হবে। তবেই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বেকারত্ব কমাতে পারব।

সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরে ডা. রহমান বলেন, জাতীয় অগ্রগতির জন্য নারীর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা অপরিহার্য। যে সমাজ নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয় তারা কখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে পারে না। এ জন্য তিনি সকল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং নারীর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে ডা. রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলিও তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি তাদের জন্য মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক ও জলবায়ু ইস্যুতে ডা. শফিকুর বলেন, তারা সকল জাতির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমান সম্মানের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং উন্নয়ন লক্ষ্য আমাদের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করবে। 

জামায়াতের আমির জুলাই বিদ্রোহে প্রবাসী কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও, আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন। আপনারা ইতিমধ্যেই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া, আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’

তিনি দূতাবাস এবং হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগের জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রতিনিধিরা আপনাদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অংশগ্রহণ সক্ষম করবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. রহমান একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা জোরদার করার জন্য আনুপাতিক সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের উপরও জোর দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

ডা. রহমান তার ভাষণের সমাপ্তি টেনে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি নাগরিকদের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন ‘ব্যালট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি আস্থা’।

তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই তার উপর নির্ভর করে। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করি এবং মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আশার উপর ভিত্তি করে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করি।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

View more
একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত: সংসদে মির্জা ফখরুল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ঘিরে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, দলটি অতীতের অবস্থান স্পষ্ট না করায় রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো বহাল রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। কী বলেছেন মির্জা ফখরুল? সংসদে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত কখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। তিনি বলেন, "একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে আজকে সমস্যাগুলো হয় না।" তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাবেক নেতা গোলাম আজম একসময় বলেছিলেন, "একাত্তরে আমরা ভুল করি নাই।" এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নিজেদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করতে। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, "এখনো সময় আছে ভেবে-চিন্তে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। অতীতের অবস্থান স্পষ্ট করলে দলটির রাজনীতি আরও গ্রহণযোগ্য হবে।" সংসদে আর কী আলোচনা হয়? জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা একে অপরকে উপেক্ষা করার সময় নয়। বরং অতীতের বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমাদের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে আমাদের ইগনোর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি এ সময়টা সঠিক নয়। নিজেদের দিকেও আপনাদের ফিরে তাকানো দরকার।" বক্তৃতার সময় বিরোধী দলের সদস্যদের মন্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও বলেন, তিনি আজ পর্যন্ত জামায়াতের কাছ থেকে ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি শোনেননি। তাঁর মতে, বিষয়টি স্বীকার করলে দলটির রাজনীতি পরিচালনা সহজ হবে। এনসিপিকে নিয়েও মন্তব্য জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের সামনে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে দলের সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সেই দল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এনসিপিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "তারা ভালো করবে, আমরা চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে যারা বিতর্কিত অবস্থানে ছিল, সেই স্টিগমা নিয়ে যেন তাদের রাজনীতি না এগোয়।"   মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ, জোট রাজনীতি এবং নতুন দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0

বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী বাজেটের দাবি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর, সংসদে চীন সফরেরও প্রশংসা

চীনে কূটনৈতিক ব্যস্ততা: দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, উঠছে নতুন প্রশ্ন

আক্তারুজ্জামান শামীম
বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আখতারুজ্জামান শামীম: তৃণমূলের রাজনীতি থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাবনা

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মহানগর বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন বারবার উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম—অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান শামীম। ছাত্রদল ও যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সংগঠনের প্রতি ধারাবাহিক আনুগত্যের কারণে তিনি মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় সূত্র, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখতারুজ্জামান শামীমের রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি পদ বা দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক যাত্রা আখতারুজ্জামান শামীমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৩ সালে মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তিনি বরিশাল জিলা স্কুল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে বরিশাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতন, হামলা ও মামলার মুখোমুখি হয়েও তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। ১৯৮৯ সালে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৪ সালে একই কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে বিজয়ী হন। ছাত্রদল থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শামীম। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করা সে সময়ের রাজনীতিতে সহজ বিষয় ছিল না। সংগঠনের প্রতি সক্রিয়তা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার কারণেই তিনি ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যুবদলে উত্থান ও সাংগঠনিক ভূমিকা ২০০২ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০১০ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক হন। ২০১৭ সালে বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়। একই সময়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বরিশালে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং যুবদলকে সক্রিয় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কারাবরণ, মামলা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন আখতারুজ্জামান শামীম। বরিশাল ডায়েরিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পুলিশি নির্যাতন, হামলা-মামলা এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা আমার রাজনৈতিক জীবনের অংশ। দীর্ঘ সময় রাজপথে থেকেছি। দলকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, দল যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতা? আখতারুজ্জামান শামীমের অনুসারীরা দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তারা তাকে একজন সৎ, শিক্ষিত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম কামাল বলেন, “রাজনীতি করেও শামীম ভাইকে কখনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে দেখিনি। তিনি সবসময় জ্ঞানচর্চা, পেশাগত দায়িত্ব এবং সংগঠনের কাজে মনোযোগী ছিলেন।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোনো নেতার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমর্থকদের বক্তব্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যকারিতা, জনসম্পৃক্ততা এবং দলীয় সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের সমীকরণে কোথায় শামীম? বরিশাল মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার নাম। তাদের মধ্যে আখতারুজ্জামান শামীম অন্যতম। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রদল ও যুবদলে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন কারণে তিনি নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচিত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক কৌশল, সাংগঠনিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। মূল্যায়ন প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান শামীম ছাত্রদল, যুবদল এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমর্থকদের কাছে তিনি ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা; অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী দিনে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

রাষ্ট্র গণমাধ্যমকে চোখ রাঙাত, এখন সমস্যা সমাধানে ‘সহযোগী’ হতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

তাসনিম জারা

হাসনাত ও মোশাররফকে ঘিরে বিতর্ক: ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বললেন তাসনিম জারা

জিয়া শিশু-কিশোর মেলার ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন জহুরুল হাসান তালুকদার

রাশেদ খান
নির্বাচনের আগে ‘ত্যাগের রাজনীতি’, পরে সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নির্বাচনের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, ক্ষমতার কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেই অবস্থান কতটা অপরিবর্তিত থাকে—এ প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। মঙ্গলবার (৯ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে লক্ষ্য করে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি বাড়ি-গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বললেও সংসদে প্রবেশের পর গাড়ি ও অফিসের দাবি তুলেছে। রাশেদ খান, যিনি একসময় গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন, লিখেছেন যে শুরুতে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নেবেন না বলে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সংসদে যাওয়ার পর তাদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মারদিয়া মমতাজকে ঘিরেও প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, মারদিয়া মমতাজ বলেছেন আত্মীয়ের বাসায় থেকে সংসদে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকারি আবাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, যদি তিনি অতীতে শিক্ষকতা এবং নিয়মিত টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তাহলে একই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সুবিধার প্রয়োজন কেন দেখা দিল। পুরোনো টকশো অভিজ্ঞতার উল্লেখ পোস্টে রাশেদ খান একটি টেলিভিশন টকশোতে মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মারদিয়া মমতাজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার সময় তার বক্তব্যে জামায়াতপন্থী অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলে রাশেদ খানের দাবি। তিনি আরও বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে মারদিয়া মমতাজ নিজেকে জামায়াতের কোনো পদধারী বা আনুষ্ঠানিক কর্মী নয়, বরং সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আদর্শ বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন রাশেদ খানের পোস্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে ব্যবধান নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনের আগে গাড়ি, বাড়ি ও অফিসের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রয়োজনীয়তাই সামনে চলে আসে। তার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার পর বাস্তব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। কোনো দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি নির্বাচনের আগে কঠোর নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, তবে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাশেদ খানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা মারদিয়া মমতাজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে শফিকুর রহমানের সতর্কবার্তা, শেয়ার ফেরতের দাবি

মাহফুজ আলম

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াতের ‘ইনসিকিউরিটি’: তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা মাহফুজ আলমের

তারেক রহমান

‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময়’: সরকার পরিচালনায় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0