ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নিজস্ব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের সামার-২০২৬ (ব্যাচ-২৬০কে) শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
শনিবার অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বা সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রস্তুত হওয়ার বার্তাও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের প্রধান ড. হাবীব মোহাম্মদ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শহীদুল্লাহ। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক খবরের কাগজের বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা আর কেবল তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে তথ্য বিশ্লেষণ, ফ্যাক্ট-চেকিং, অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্ট তৈরির মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের মধ্যেও নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নকে সাংবাদিকতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, পরিবর্তিত কর্মবাজারে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; প্রযুক্তিনির্ভর নতুন টুলস এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম শিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা শিক্ষাকে এখন আরও বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন, ডেটা জার্নালিজম, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভাগের প্রভাষক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ বায়েজীদ খান, প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস মীম এবং নাজমুন্নাহার উর্মি।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। এ সময় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ এবং জেএমসি মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি ও মেন্টর ইমু আক্তার মিম।
এ ছাড়া জেএমসি ল্যাব কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহাদী মুনতাসির বিভাগের কার্যক্রমভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন।
ফাইয়াজ সরকার ও নাজিফা তাবাস্সুম তাজের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেক কাটা এবং গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই বাস্তবতায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে প্রস্তুত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
বরিশাল অফিস : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং করপোরেট তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিরাজী আমিন সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যালোচনার পর দুদক বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি দুদক। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে অলিম্পিক সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাতের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বিদেশে পাচার, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদ গঠনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সহাযতাকারী হলেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের পিএস জুয়েল ইসলাম, পিএস নীলুফা। বিদেশে সম্পদ ও নাগরিকত্বের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এসব অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে আবাসিক সম্পত্তি, ব্যবসা ও অন্যান্য বিনিয়োগ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদেশে সম্পদ গঠন ও নাগরিকত্ব গ্রহণের পেছনে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অলিম্পিক সিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে গেছে। ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, কোম্পানির তহবিল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ফলে কাঁচামাল আমদানি, এলসি খোলা এবং নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। নতুন ঋণ পেতে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নতুন ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কিছু জমির কাগজপত্র জাল বা বিতর্কিতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, নতুন ঋণ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। শেয়ার দখল ও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ আবেদনে প্রবাসী ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেনের শেয়ার মালিকানা দখলের চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ঘিরে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোকে অভিযোগকারী ‘ভুয়া ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধের ঘোষণা অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি অলিম্পিক সিমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কারখানাটি বিক্রি বা হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যে বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত কারখানার সামনে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ যা বলছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের লোকসান, কাঁচামাল সংকট, ডলার সংকট এবং এলসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। ১০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২৬ ও ২৮ ধারার আওতায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আইন অনুযায়ী সকল পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ জুন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। দুদকের তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিদেশে সম্পদ অর্জন, ব্যাংক ঋণের ব্যবহার, করপোরেট আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কেন হঠাৎ পুরো বোর্ড বাতিল? বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে—সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, পরিচালন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এবং বাজারে আস্থার সংকট—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে আসে। নিয়ন্ত্রণ কি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে? সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন কাঠামোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাহী পরিচালককে বোর্ডের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার অর্থ হলো—ব্যাংকের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে। আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমানতকারীদের স্বার্থের বিষয়টি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তখনই নেওয়া হয়, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি নজরদারি করবে। সামনে কী হতে পারে? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ড বাতিলের পরবর্তী ধাপে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ একযোগে বাতিলের ঘটনা নিঃসন্দেহে খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ডিএনসির একটি দল তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে এবং পরে তাঁকে মাদক মামলায় জড়িয়েছে। অভিযোগটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডিএনসির ১০ কর্মকর্তা। পুরোনো অভিযোগ, নতুন বিতর্ক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযানে অনিয়ম, জব্দ করা মাদকের পরিমাণ কম দেখানো, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগগুলো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই অভিযোগ ডিএনসির কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। কী অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী? অভিযোগকারী ফরহাদ বিল্লা রুবেল, রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৈরি পোশাক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাতে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশি ক্রেতা ও অতিথিরা তাঁর অফিস ও বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিদের ব্যবহৃত কিছু পানীয়ের খালি বোতল এবং হুকা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বাসায় সংরক্ষিত ছিল। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ডিএনসির পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তা তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পরিদর্শক মাহবুব রহমান, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, তৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস, রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান এবং লুৎফর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র তল্লাশির নামে এলোমেলো করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। ‘এক কোটি টাকা দাবি, পরে ৫০ লাখে সমঝোতার প্রস্তাব’ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে সেই দাবি কমিয়ে ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে আরও চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ডিএনসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তাঁর কাছে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। ‘ঘোরানো হয় বিভিন্ন স্থানে’ লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ নেওয়ার পর তাঁকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। বনানীর একটি কফিশপের সামনে নিয়ে গিয়ে আরও অর্থ সংগ্রহের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে গুলশান ও হাতিরঝিল এলাকা ঘুরিয়ে তাঁকে গেন্ডারিয়ায় ডিএনসির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ‘মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ ফরহাদ বিল্লা রুবেল অভিযোগ করেছেন, মামলার এজাহারে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় এবং অভিযানের সময় বাসা থেকে বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মামলার নথিতে অভিযানের সময়সূচি ও ঘটনাপ্রবাহের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা বাসার সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলছে না। ফুটেজে কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এজাহারের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএনসির প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি প্রধান কার্যালয়ে জমা পড়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি এখনো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনে যে প্রশ্নগুলো এই অভিযোগের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযানের সময় কী নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল? অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে? ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি? মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার তথ্য কতটা নির্ভুল? অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত হবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। আর সেই তদন্তই এখন নজরে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।