Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

বিএনপি শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের সাংবিধানে বেশ কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন
বাংলাদেশের সাংবিধানে বেশ কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে।

সংবিধানে এই পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান নেই উল্লেখ করে বিএনপি দলীয় সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও প্রস্তাবিত এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবেও কাজ করবেন। ৬০ সদস্যের কোরাম হলেই এই পরিষদ কাজ করতে পারে।

ওই আদেশের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেখানে 'হ্যাঁ' ভোট জয় লাভ করেছে।

ওদিকে বিএনপি আজ এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও জামায়াত-এনসিপির ৭৭ জন নির্বাচিত সদস্য একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এনসিপি দলীয়ভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, "গণভোটে জনরায়ের সাথে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার"।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিএনপি দুটি শপথ না নিলে সংসদে যাওয়াই তো অর্থহীন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটের রায়ের কারণে যদি জুলাই আদেশ বাস্তবায়নযোগ্যই হয়ে যায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তাই থাকে না। আবার অন্যদিকে যেসব সদস্যরা শপথ নিয়েছেন তারা নিজেরাই জুলাই আদেশ অনুযায়ী নিজেরাই সংবিধান বানিয়ে ফেলতে পারেন।

তাদের মতে, জুলাই আদেশে এ ধরনের সুযোগ থাকায় একে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।

নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। বিশেষ করে বিএনপি এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছিল।

সকালে সংসদ ভবনে দলটির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবার ঠিক আগ মুহূর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একটি সাদা ও একটি নীল রংয়ের ফরম হাতে নিয়ে মাইকের সামনে দাঁড়ান।

দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা তখন সেখানে সামনের সাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

মি. আহমদ সাদা ও নীল রংয়ের দুটি ফরম হাতে নিয়ে বলেন, "আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হবার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো"।

এরপর তিনি দলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম"।

প্রসঙ্গত, বিএনপি আগে থেকেই ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটি সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে আসছে।


বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় প্রাথমিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির দিক থেকে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বেলা সোয়া এগারটায় ফেসবুকে তার পাতায় লিখেন "গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা"।

বেলা ১২টা ৩৭ মিনিটে এনসিপির আরেকজন নেতা সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেন "জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো!"

বেলা একটা দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় জানায় যে তারা মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না।

জামায়াতের একজন সিনিয়র নেতা প্রথমে সংবাদমাধ্যমকে শপথ না নেওয়ার কথা বললেও পরে তারা এমপি হিসেবে শপথ নেন ও একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন তারা। জামায়াত জোটে থাকা এনসিপি সদস্যরাও একই পথ অনুসরণ করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ  বলেছেন নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি শপথের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন বিএনপি যদি একটি শপথ নেয় তাহলে সেই সংসদে গিয়ে কী হবে?

সোমবার কমিশনের চিঠিতে বলা হয় 'মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার'।
 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬০ জন পরিষদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।

"জামায়াত-এনসিপির তো ৭৭ জন ওই আদেশ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আদেশ বলছে কোরামের জন্য দরকার ৬০ জন। তাহলে ওই আদেশ অনুযায়ী তারা তো চাইলে নিজেদের মতো করে একটি সংবিধান বানিয়ে ফেলতে পারে। সেই পথে গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে কিংবা তারা সেটি করবে কি-না তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে," বলছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর গেজেট হওয়া ওই আদেশে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ত্রিশ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহবান করা হবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান করা হবে।

এতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং অন্য বিষয়ে উপস্থিত ও ভোট দানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, এ আদেশ মানলে এসব নিয়ম অনুযায়ী জামায়াত-এনসিপি নিজেরাই পরিষদ আহবান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এমনকি নতুন সংবিধানও বানিয়ে ফেলতে পারেন।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ পরিষদের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিগন একই সাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

এই ধারায় আরও বলা হয়েছে, আরও বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

কিন্তু বিএনপি শপথ না নেওয়ায় কার্যত এটি করার আর সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক।
 

শাহদীন মালিক বলছেন, যেই ৭৭ জন শপথ নিয়েছেন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেন সেই আদেশ বলে। কিন্তু তেমন কিছু করার জন্য সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে সেটি আর জনগণের সমর্থন পাবে না বলে মনে করেন তিনি।

"জুলাই আদেশ অনুযায়ী গণভোটের জেতার কারণেই যদি এটি বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে এমনিতেও আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রয়োজন হয় না। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরির চেষ্টা আর সফল হবে না, কারণ এখন স্থিতিশীলতা চায়,"  বলেছেন তিনি।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা বীজ রাখা হয়েছে এবং তার মতে, এটি করাই হয়েছে দেশে আবারো অনির্বাচিত সরকার আনার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য।

তিনি বলেন, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দেশ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় চলে এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও এমপিদের শপথ হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী।

বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সংসদ বহাল না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বা নতুন আইন জারি করা হলে তা সংসদ বহাল হওয়ার পর উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করতে হয়। না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের যে গণভোট হয়েছে, সেক্ষেত্রে কি হবে, সেটি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে মনজিল মোরশেদ বলছেন, ''যে অধ্যাদেশে গণভোট হয়েছে, সেটা হয়েছে রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা একটি আদেশের ওপর নির্ভর করে। এভাবে অধ্যাদেশ হতে পারে কিনা, সেটি নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়ে গেছে। আবার সেই অধ্যাদেশকে বা গণভোটকে বৈধতা দিতে হলে সংসদে উত্থাপন করে পাশ করাতে হবে। বিএনপি এখন সেটা সংসদে তুলবে কিনা, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।''

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষেত্রে সংবিধানে কিছু সীমাবদ্ধতা বেধে দিয়েছে। সংবিধানে যা নেই অর্থাৎ সংসদ যে বিষয়ে আইন করতে পারে না বা সংবিধানের কোনো বিধান পরির্বতন হয়ে যায়, সেসব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না।

সংবিধানে যেহেতু গণভোটের বিধান নেই, তাই এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই বলে মনে করেন মনজিল মোরশেদ। ফলে এসব বিষয় নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেছেন একজন আইনজীবী। সেই রিটে গণভোট বাতিল চাওয়া হয়েছে।

ওদিকে সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের সময় বিএনপির দিক থেকে যেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে তারা সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবেন।

তবে এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংবিধান সংস্কারের কিছু বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল।

তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচনে তাদের ইশতেহার জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তার সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পদক্ষেপ নিবে।

মনজিল মোরসেদ বলছেন, সংবিধানে সংস্কার আনার বিষয়ে বিএনপি তাদের যে পরিকল্পনার কথা আগে জানিয়েছিল সে অনুযায়ী সংসদে বিল উত্থাপনের মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন তারা করতে পারবে।

"এবং এটিই হবে সাংবিধানিক পন্থা। এর অন্যথা কিছু হলে সেটি জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে," বলছিলেন তিনি।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
৫৬ শতাংশ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরাইল!
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বহুমাত্রিক প্রভাব: বেসামরিক মৃত্যুর ৫৬% ইসরাইলি হামলায়, চাপে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ৫০ সামরিক ঘাঁটি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলোতে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘বিস্ফোরক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিস্ফোরক অস্ত্রের হামলায় নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ৫৬ শতাংশের মৃত্যুর জন্য ইসরাইল দায়ী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে এমন বিস্ফোরক হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নথিভুক্ত হয়েছে। বেসামরিক জনগণই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। বেসামরিক হতাহতের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপক সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার একটি বিপজ্জনক প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে। তার ভাষায়, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি চলতে থাকলে এটি বৈশ্বিক সংঘাতের একটি ‘স্বাভাবিক বাস্তবতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুদ্ধের অভিঘাত পৌঁছেছে ইউরোপের অর্থনীতিতেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনীতি ০.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস বলেন, সংঘাত শুরুর আগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল এবং মূল্যস্ফীতি কমছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব যুক্তরাজ্যের ওপরও পড়বে বলে তিনি স্বীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়ই চাপে পড়েছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অস্থিরতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এদিকে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সদরদফতর, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামো। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলায় ইরানের যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা বহাল সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইল ও ইরানও একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। যদিও এক মাসের বেশি সময় ধরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যাটেলাইট তথ্যের সীমিত প্রাপ্যতা। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটির স্যাটেলাইট চিত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চ মাসে পেন্টাগন স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশ সীমিত করার অনুরোধ জানায়। প্ল্যানেটের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা ন্যাটো অংশীদারদের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে না পারে। সামনে কী অপেক্ষা করছে? সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট এখনো শেষ হয়নি। বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এই সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
কুয়েতে ২৪ ড্রোন হামলা

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা, কুয়েতে ড্রোন ও জাহাজে হামলার দাবি: নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: যুদ্ধ, কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা

ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭

লেবাননে ইসরাইলি হামলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র জবাব ও হরমুজ নিষেধাজ্ঞা: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন জল্পনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান নিজেকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং দেশটি একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন। জাজিং ফ্রিডম পডকাস্টে বিচারক অ্যান্ড্রু নেপোলিটানোর সঙ্গে আলোচনায় ল্যারি জনসন দাবি করেন, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘রেড অ্যালার্ট’ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এই দাবির মাধ্যমে ২৯ মে ইসহাক দার ও মার্কো রুবিওর বৈঠক নতুন করে আলোচনায় আসে। যদিও বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল, তবে আলোচনার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিটি সরাসরি ও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে কোনও গোপন প্রতিবেদন শেয়ার করার খবরকে ‘অনুমাননির্ভর ও মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই পরমাণু অগ্রগতির বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন। একই ধরনের দাবি করেছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারও। তিনি দাবি করেন, ইরান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা ইরানের, নতুন যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল

পাকিস্তানে অভিযানে ১৭ ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ধারাবাহিক অভিযান: ভারত-সমর্থিত ১৭ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ২০ মার্কিন সামরিক স্থাপনা, স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যক্ষ সামরিক অংশগ্রহণ! : বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি কেবল কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়নি; বরং ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইউএই কার্যত এই সামরিক অভিযানের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় হামলার দাবি? প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে কথিত যৌথ হামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা সীমিত রাখার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য অবস্থান ও গোপন বাস্তবতা? সংঘাত শুরুর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়। এই অভিযোগ সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, পুরো সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়। যদিও এসব সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রের যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি-আমিরাত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর এই ভূমিকা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নীতিগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে দাবি করা হয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে এবং আবুধাবির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানায়। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন খাতে রাজস্ব হ্রাস এবং আবাসন বাজারে স্থবিরতার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক খাতগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং জনবল ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে যায় এবং প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং উপসাগরীয় জোটরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীন যাচাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট

হরমুজে নতুন উত্তেজনা

হরমুজে নতুন উত্তেজনা : ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ওমানকে ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ

হরমুজে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত, যুদ্ধের কিনারায় নতুন কূটনৈতিক হিসাব

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0